
শেষ আপডেট: 6 November 2023 12:50
দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রথমবর্ষের পড়ুয়াদের হস্টেল আলাদা করল যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। আলাদা রাখার ব্যবস্থা হচ্ছে দ্বিতীয়বর্ষের পড়ুয়াদেরও। আর তিনদিন পরেই যাদবপুরের বাংলার ছাত্রের অস্বাভাবিক মৃত্যুর তিনমাস পেরোবে। এতদিনে প্রথমবর্ষের পড়ুয়াদের হস্টেল আলাদা করার সিদ্ধান্ত নিল যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবার থেকে মেন হোস্টেলে আর রাখা হবে না প্রথম ও দ্বিতীয় বর্ষের পড়ুয়াদের। তাদের জন্য আলাদা বাড়ি বরাদ্দ হয়েছে, যার দুটি তলার একটিতে প্রথম ও অন্যটিতে দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্ররা থাকবে আলাদাভাবে। দুটি তলার মাঝখানে গেট সবসময় বন্ধ রাখা হবে। এই মুহূর্তে নবাগত ছাত্রদের জন্য আলাদা হস্টেলের ব্যবস্থা করা যাচ্ছে না। তাই এমন সিদ্ধান্ত বলে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের তরফে জানানো হয়েছে।
অগস্ট মাসের সাত তারিখ যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের হস্টেলে ছেলেকে রেখে গিয়েছিলেন বাবা-মা। বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা পড়ার সুযোগ পেয়েছিল নদিয়ার মেধাবী ছাত্র। একদিন পরেই ৯ তারিখ সন্ধেবেলা ছেলের ফোনে উতলা হন বাবা-মা। ছেলে নাকি বারবার ফোনে বলছিল, “চাপে আছি বাবা, তোমরা এসে আমাকে বাঁচাও।’ রাতে ন’টা থেকে সাড়ে ন’টার মধ্যে শেষবার বাবা-মাকে ফোন করেছিল সে। রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের হস্টেল থেকে ফোনে জানানো হয়, ছেলে অসুস্থ। তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সঙ্গে সঙ্গে কয়েকজন আত্মীয়-বন্ধুকে নিয়ে নদিয়ার হাঁসখালি থেকে কলকাতায় চলে আসেন বাবা-মা। এসে জানতে পারেন মারা গেছে তাঁদের ছেলে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, আত্মহত্যা করেছে সে। কিছুতেই তা মানতে পারেননি বাবা-মা। অভিযোগ করেছিলেন, র্যাগিংয়ের বলি হয়েছে তাঁদের ১৮ বছরের ছেলে।
এই অভিযোগ ঘিরেই পরবর্তীতে গোটা রাজ্যে ঝড় ওঠে। বাবা-মাকে ফোন করে দোষীদের গ্রেফতারের প্রতিশ্রুতি দেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। একে একে গ্রেফতার হন বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ছাত্র ও প্রাক্তনী মিলিয়ে মোট ১৩ জন। তাঁদের মধ্যে একজন জামিন পেলেও এখনও ১২ জন জেলে। মামলা চলছে। কয়েকজন ছাত্র গ্রেফতার হলেও যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের গাফিলতি নিয়ে বারবার সরব হন মৃত ছাত্রের বাবা। কেন এত বড় ঘটনার পরেও নবাগত ছাত্রদের হস্টেল আলাদা করা হচ্ছে না বারবার তোলেন সেই প্রশ্নও। অবশেষে প্রথম ও দ্বিতীয় বর্ষের পড়ুয়াদের মেন হস্টেলে না রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হল।