দ্য ওয়াল ব্যুরো : বুধবারই কোভিড-১৯ কে প্যানডেমিক অর্থাৎ অতিমহামারী ঘোষণা করেছে হু। তার ওপরে তেলের দামও কমছে চড়চড় করে। রীতিমতো উদ্বেগে রয়েছেন বিনিয়োগকারীরা। ফলে বৃহস্পতিবার ধস নেমেছে শেয়ার বাজারে। এখনও পর্যন্ত বিশ্ব জুড়ে ১ লক্ষের বেশি মানুষ কোভিড-১৯ রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। ভারতে আক্রান্ত হয়েছেন ৭৩ জন। এদিন দুপুরে জানা যায়, সেনসেক্স ৭.৫৮ শতাংশ বা ২৭০৭ পয়েন্ট নেমেছে। নিফটি নেমেছে ৭.৭৪ শতাংশ বা ৮১০ পয়েন্ট।
নিফটিতে নথিভুক্ত শেয়ারগুলির মধ্যে সবচেয়ে বেশি দাম কমেছে ইয়েস ব্যাঙ্কের। এছাড়া ভারত পেট্রোলিয়াম, টাটা মোটর্স, বেদান্ত, অ্যা ক্সিস ব্যাঙ্ক, আদানি পোর্টস, মাহিন্দ্রা অ্যান্ড মাহিন্দ্রা, হিরো মোটরকর্প, ওএনজিসি, গেইল ইন্ডিয়া, হিন্ডালকো এবং স্টেট ব্যাঙ্কের শেয়ারের দামও কমেছে। সেনসেক্সের যে শেয়ারগুলির দাম কমেছে, তার মধ্যে আছে এইচ ডি এফ সি ব্যাঙ্ক, রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ, আই সি আই সি আই ব্যাঙ্ক, অ্যা ক্সিস ব্যাঙ্ক, টিসিএস এবং কোটাক মাহিন্দ্রা ব্যাঙ্ক।
এশীয়-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে জাপান বাদে অন্যান্য সব দেশে শেয়ারের দাম কমেছে গড়ে ৩.২ শতাংশ। জাপানে নিক্কি সূচক নেমেছে ৫.৩ শতাংশ। আমেরিকায় শেয়ার বাজারে পতন শুরু হয়েছে বুধবার থেকে। ২০০৮ সালের মন্দার পরে এই প্রথম ডাও জোনস ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যাভারেজ নামছে হু হু করে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ব্রিটেন বাদে ইউরোপের অন্যান্য দেশ থেকে কারও আমেরিকায় আসা বন্ধ করে দিয়েছেন। তার পরেই বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তাঁদের ধারণা হয়, আগামী দিনে ব্যবসা-বাণিজ্যে আরও বাধা সৃষ্টি হবে।
গত বছরের ডিসেম্বর মাসে চিনের উহান শহরে এই ভাইরাসের আক্রমণ শুরু হয়। ভারতে উহান ফেরত তিন ছাত্রের মধ্যে প্রথম করোনাভাইরাসের খোঁজ মিলেছিল। ওই তিনজন কেরলের বাসিন্দা। সংক্রমণ ছড়ানোর আতঙ্কে ঘরবন্দি ছিলেন অন্তত ৪০০ জন। ধীরে ধীরে কেরলেও ছড়িয়ে পড়ে সংক্রমণ। কেরলে মোট কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে ১১১৬ জনকে। মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, সংক্রমণ সন্দেহে রাজ্যের ১৪৯টি হাসপাতালে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে তাঁদের। প্রতিটি হাসপাতালে প্রস্তুত রাখা হয়েছে বিশেষ আইসোলেশন ওয়ার্ড। রোগীদের চিকিৎসার জন্য রয়েছে অভিজ্ঞ ডাক্তারের টিম। আক্রান্তদের দেহরসের নমুনা পাঠানো হয়েছে পুণের ইনস্টিটিউট অব ভাইরোলজিতে।
ইরান থেকে বায়ুসেনার সি-১৭ গ্লোবমাস্টার বিমানে চাপিয়ে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে ৫৮ জনকে। ইরান ফেরত এই ভারতীয়দের মধ্যে কোনও সংক্রমণ ধরা পড়েনি বলেই স্বাস্থ্য মন্ত্রক সূত্রে খবর। তবে এখনই তাঁদের বাড়ি ফিরে যেতে দেওয়া হবে না। কিছুদিন কোয়ারেন্টাইনে রাখা হতে পারে।