দ্য ওয়াল ব্যুরো : আমেরিকা ও চিনের মধ্যে বাণিজ্য চুক্তি হবে কিনা, তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। তার ওপর হংকং-এর অশান্তিও ক্রমশ আরও রক্তক্ষয়ী রূপ নেবে বলে অনেকে আশঙ্কা করছেন। এই দু’টি কারণে, এশিয়া জুড়ে শেয়ার বাজারে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। ফলে দাম কমেছে শেয়ারের। ভারতেও সোমবার বাজার খোলার পরে বিনিয়োগকারীরা ছিলেন সতর্ক। পাশাপাশি এদিন মার্কিন ডলারের তুলনায় টাকার দাম কমেছে আট পয়সা।
বাজার খোলার সময় সেনসেক্স ছিল গত সপ্তাহের শেষ দিনের চেয়ে ১০০ পয়েন্ট নীচে। পরে তা ৪.৫৭ পয়েন্ট বা ০.০১ শতাংশ নামে। সেনসেক্স সূচক পৌঁছায় ৪০, ৩১৯.০৪ এর ঘরে। নিফটি ৭.৭৫ পয়েন্ট বা ০.০৬ শতাংশ নেমে ১১,৯০০.৪০ তে পৌঁছায়।
সেনসেক্সের অন্তর্গত যে শেয়ারগুলির দাম কমেছে, তার মধ্যে আছে সান ফার্মা, এইচসিএল টেক, টিসিএস, ইনফোসিস, আরআইএল, বেদান্ত ও এশিয়ান পেন্টস। অন্যদিকে ইয়েস ব্যাঙ্ক, মাহিন্দ্রা অ্যান্ড মাহিন্দ্রা, টাটা মোটর্স, এনটিপিসি, টাটা স্টিল ও কোটাক ব্যাঙ্কের শেয়ারের দাম বেড়েছে ২.৬১ শতাংশ।
গত সপ্তাহের শেষ কাজের দিনে সেনসেক্স ৩৩০.১৩ পয়েন্ট বা ০.৮১ শতাংশ নেমে ৪০,৩২৩.৬১ এর ঘরে পৌঁছায়। নিফটি ১০৩.৯০ পয়েন্ট বা ০.৮৬ শতাংশ নেমে পৌঁছায় ১১,৯০৮.১৫ এর ঘরে।
গত শুক্রবার বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা এদেশের মুলধনী বাজার থেকে ৯৩২.২০ কোটি টাকার শেয়ার কেনে। দেশীয় প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা বিক্রি করেছেন ৫৮৪.৪৮ কোটি টাকার ইকুইটি।
সাংহাই, হংকং, টোকিও এবং সিওলে শেয়ার সূচক গড়ে নেমেছে ২.১০ শতাংশ। কারণ বিনিয়োগকারীরা আশঙ্কা করছেন, হংকং-এ আগামী দিনে আরও হিংসা ছড়িয়ে পড়তে পারে। সোমবার সকালে হংকং-এর পুলিশ এক বিক্ষোভকারীকে গুলি করে মারে। আরও একজনের দেহে গুলি লাগে। ফলে অফিস টাইমে রাস্তাঘাটে শুরু হয় বিক্ষোভ।
অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন, চিন থেকে আমদানি করা পণ্যের ওপরে যে শুল্ক বসানো হয়েছে, তা তুলে নেওয়ার প্রশ্ন নেই। বিনিয়োগকারীরা আশা করেছিলেন, চিন ও আমেরিকার মধ্যে বাণিজ্যযুদ্ধ বন্ধ হবে। কিন্তু ট্রাম্পের কথায় বোঝা গেল, তা সহজে হওয়ার নয়।