দ্য ওয়াল ব্যুরো : সোমবার লোকসভায় নাগরিকত্ব বিলের পক্ষে ভোট দিয়েছে বিজেপির প্রাক্তন জোটসঙ্গী শিবসেনা। দলের তরফে বলা হয়েছে, দেশের স্বার্থেই নাগরিকত্ব আইনে সংশোধন করা প্রয়োজন। কিন্তু বুধবার শিবসেনাই জানিয়ে দিল, তারা রাজ্যসভায় ভোট দেবে বিলের বিপক্ষে। কারণ হিসাবে বলা হয়েছে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ রাজ্যসভায় বিল পেশের সময় যে বিবৃতি দিয়েছেন, তাতে শিবসেনা সন্তুষ্ট নয়।
মহারাষ্ট্রে নতুন জোটসঙ্গী কংগ্রেসের চাপেই শিবসেনা অবস্থান বদল করেছে বলে পর্যবেক্ষকদের ধারণা। সোমবার শিবসেনা বিলের পক্ষে ভোট দেওয়ায় কংগ্রেস অত্যন্ত অসন্তুষ্ট হয়েছিল। কংগ্রেসের প্রাক্তন সভাপতি রাহুল গান্ধী টুইট করে বলেছিলেন, নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল ভারতীয় সংবিধানের ওপরে বড় আঘাত। যারা এই বিল সমর্থন করছে, তারা আমাদের জাতির ভিত্তিকেই ধ্বংস করতে চায়।
এরপরে বুধবার সকালে শিবসেনা অভিযোগ করে, ভোট ব্যাঙ্কের দিকে নজর রেখে ওই বিল এনেছে বিজেপি। তারা হিন্দু ও মুসলিমদের মধ্যে বিভাজন আনতে চায়। দলের নেতা সঞ্জয় রাউত বলেন, “বিলের কয়েকটি ব্যাপারে আমাদের প্রশ্ন আছে। তার জবাব না পেলে আমাদের অবস্থান লোকসভার চেয়ে পৃথক হবে।”
গত মঙ্গলবার শিবসেনা প্রধান উদ্ধব ঠাকরে বলেন, রাজ্যসভায় আনার আগে বিজেপি বিলটির কিছু পরিবর্তন করুক। তবে আমরা সমর্থন করব।
প্রস্তাবিত নাগরিকত্ব বিলে বলা হয়েছে, পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও আফগানিস্তান থেকে হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, পার্সি ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মানুষ যদি ধর্মীয় নিপীড়নের ভয়ে পালিয়ে আসেন, তবে তাঁদের ভারতের নাগরিকত্ব দেওয়া হবে। ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর অবধি যাঁরা এদেশে এসেছেন, তাঁরাই নাগরিকত্ব পাওয়ার যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন।
সোমবার বেশ কয়েক ঘণ্টা ধরে বিতর্কের পরে লোকসভায় পাশ হয়েছে নাগরিকত্ব আইন সংশোধনী বিল। তার পক্ষে ভোট পড়েছে ৩১১ টি। বিপক্ষে পড়েছে ৮০ টি। বিরোধীদের বক্তব্য, ওই বিলে সংবিধানের ১৪ নম্বর ধারা লঙ্ঘন করা হয়েছে। ওই ধারায় বলা হয়েছে, আইনের সামনে সকলেই সমান।