টয়লেটে সেলফি তুললে তবেই বিয়ের অনুমতি, বউকে ৫১ হাজার, নয়া নির্দেশ ভারতেই
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ‘টয়লেট এক প্রেম কথা’ সিনেমার জয়া ওরফে ভূমি পেডনেকার বিয়ের দিনই সদর্পে ঘোষণা করেছিলেন বাড়িয়ে শৌচালয় না থাকলে, তিনিও শ্বশুরঘর করতে পারবেন না। শরীরের আব্রু সরিয়ে মাঠে-ঝোপে যত্রতত্র তিনি বেআব্রু হতে পারবেন না। সিনেমার পটভূমিকা
শেষ আপডেট: 10 October 2019 18:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ‘টয়লেট এক প্রেম কথা’ সিনেমার জয়া ওরফে ভূমি পেডনেকার বিয়ের দিনই সদর্পে ঘোষণা করেছিলেন বাড়িয়ে শৌচালয় না থাকলে, তিনিও শ্বশুরঘর করতে পারবেন না। শরীরের আব্রু সরিয়ে মাঠে-ঝোপে যত্রতত্র তিনি বেআব্রু হতে পারবেন না। সিনেমার পটভূমিকা ছিল উত্তরপ্রদেশের প্রত্যন্ত মন্দগাঁও এলাকা। রিল লাইফের সেই গল্পই এ বার সত্যি হতে চলেছে দেশের এক রাজ্যে। শৌচমুক্ত দেশ গড়ার যে ডাক দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, তারই পদক্ষেপ হিসেবে স্বচ্ছতা অভিযানের অভিনব উদ্যোগ নিতে চলেছে এই রাজ্যের সরকার।
বাড়িয়ে টয়লেট আছে? তাহলে টয়লেটে ঢুকে সেলফি তুলে পাঠাও! এই নির্দেশিকা এ বার মানতে হবে বিয়ে করতে ইচ্ছুক ছেলেদের। টয়লেট আছে তো বিয়ে পাকা, না হলে লবডঙ্কা। রেজিস্ট্রির সময়েই একেবারে হাতেনাতে ধরবেন সরকারি আধিকারিকরা। সেলফি দেখিয়ে বাড়িতে পরিষ্কার-ঝকঝকে শৌচাগার আছে প্রমাণ করতে পারলেই বিয়েতে ছাড়পত্র মিলবে। পিছিয়ে পড়া বা আদিবাসী সম্প্রদায়, দারিদ্র সীমার নীচে থাকা মহিলারা বাড়তি সুবিধা পাবেন। বাড়িতে শৌচাগার আছে দেখেশুনে এমন পাত্রকে বিয়ে করলেই হাতে হাতে মিলবে নগদ ৫১ হাজার টাকা।
হ্য়াঁ, ঠিকই পড়ছেন। এমন নির্দেশিকা জারি হয়েছে মধ্যপ্রদেশে। সরকারের ‘মুখ্যমন্ত্রী কন্যা বিবাহ’ যোজনার অধীনে এই নতুন প্রকল্প চালু করতে চলেছে রাজ্য সরকার। সরকারি প্রকল্পকে বাস্তবায়িত করতে এগিয়ে এসেছে বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনও। জ়ারা হাসান ওয়েলফেয়ার সমিতির চেয়ারম্যান মুখতার হাসান বলেছেন, বৃহস্পতিবারই সেন্ট্রাল লাইব্রেরি গ্রাউন্ডে গণবিবাহের আয়োজন করা হয়। ৭৭ জন দম্পতি মালা বদল করেন। তবে তার আগে সেলফি সমেত টয়লেটের ছবি জমা করতে হয়েছে বরদের। যাঁরা উপযুক্ত প্রমাণ দেখাতে পারেননি, তাঁদের বিয়ে বাতিল করে দেওয়া হয়েছে।
এই সরকারি নির্দেশিকা ঘিরে অবশ্য মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। বরেরা স্বভাবতই খুব খুশি নয়। কারণ বেশিরভাগেরই বাড়িতে শৌচাগার নেই। কাজেই নতুন করে শৌচাগার বানিয়ে সেলফি তুলে পাঠাতে নারাজ অনেকেই। আবার অন্য যুক্তিও রয়েছে। আর ক’মাস পরেই বিয়ে মহম্মদ সাদ্দাম। বলেছেন, ‘‘টয়লেটের ছবি তুলে পাঠালেই তো হত, আবার নিজেকে ফ্রেমে ঢোকানোর কী ছিল!’’
তবে এই নির্দেশ মানতে একপায়ে রাজি মহিলারা। তাঁদের দীর্ঘদিনের দাবি এ বার পূরণ হতে চলেছে। পাশাপাশি, নগদ টাকাও মিলবে। তাঁদের মতে, এতদিন লজ্জার মাথা খেয়ে মাঠে-ঝোপে যেতে হত। এ বার সুরাহা মিলবে। ছেলেরাও আর ফাঁকি দিতে পারবে না। সরকারের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাচ্ছি।
পড়ুন, দ্য ওয়ালের পুজোসংখ্যার বিশেষ লেখা...
https://www.four.suk.1wp.in/pujomagazine2019/%e0%a6%b8%e0%a7%81%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a6%e0%a6%b0%e0%a6%ac%e0%a6%a8%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%a6%e0%a7%81%e0%a6%9f%e0%a6%bf-%e0%a6%a6%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a7%80%e0%a6%aa-%e0%a6%ad/