
শেষ আপডেট: 19 July 2023 11:31
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সীমা হায়দার, শচীনকে (Seema-Sachin) ভালবাসার টানে পাকিস্তান ছেড়ে ভারতে চলে এসেছিলেন। কিন্তু সোজা পথে নয়। এক কথায় বললে, অনুপ্রবেশ করেছিলেন তিনি। কিন্তু কে এই সীমা হায়দার, যা নিয়ে ক্রমশ রহস্য দানা বাঁধছে। উত্তরপ্রদেশ পুলিশের এসটিএফ তদন্ত শুরু করেছে। সীমা কি শুধুই পাক মহিলা যিনি প্রেমের টানে ভারতে এসেছেন, নাকি একজন পাক গুপ্তচর? এই প্রশ্নই ভাবাচ্ছে তদন্তকারী অফিসারদের। যত সময় যাচ্ছে, সীমার সম্পর্কে নানা তথ্য সামনে আসছে (love story probe)।
অনলাইন এক গেমিং প্ল্যাটফর্মে নয়ডার বাসিন্দা শচীন মীনার সঙ্গে আলাপ হয় সীমার। তারপর সেই শচীনের প্রেমে পড়ে চার সন্তানকে নিয়ে ভারতে পালিয়ে এসেছিলেন পাকিস্তানের সীমা। নেপাল সীমান্ত দিয়ে ভারতে অনুপ্রবেশ করেছিলেন তিনি। কীভাবে সীমা সীমান্ত পেরিয়ে ভারতের মাটিতে ঢুকলেন, সেই তদন্ত করতে গিয়ে উঠে এসেছে এক বিস্ফোরক তথ্য। ভারতে আসার আগে সীমা ও শচীন দু'জনেই বেনামে হোটেল ঘর বুক করে এক সপ্তাহ ছিলেন!
কাঠমান্ডুর 'নিউ বিনায়ক হোটেল'-এর ২০৪ নম্বর রুমই (Room No 204 of Kathmandu hotel) ছিল সীমা-শচীনের এক সপ্তাহের ঠিকানা। তবে এই হোটেলের রেজিস্ট্রার ঘাটলে কিন্তু এদের নাম কোথাও পাওয়া যাবে না। কারণ, জাল নামে হোটেল বুক করেছিলেন এই দম্পতি। এই হোটেলের এক কর্মী গণেশ রোকামগারের ছেলেমেয়েদের সঙ্গে ইনস্টাগ্রামে রিল শ্যুট করেছিলেন শচীন ও সীমা! আর সেটাই প্রমাণ ওই হোটেলে তাঁদের উপস্থিতির। বাকি সবই জাল।
গণেশের কথায়, শচীন একাই এসে প্রথমে রুম বুক করেছিলেন। বলেছিলেন, তাঁর স্ত্রী পরে আসবেন। হোটেল বুক করার সময় কোনও আইডি কার্ড জমা দেননি শচীন-সীমা। শুধুমাত্র নিজেদের নাম রেজিস্ট্রার খাতায় লিখে দিয়েছিলেন। যদিও সেটা নকল ছিল।
সীমা ও শচীনকে দেখে কখনই সন্দেহ হয়নি গণেশের। তাঁর পরিবার ও তাঁর সঙ্গে সবসময় ভাল ব্যবহার করতেন দু'জনে। গল্পগুজব করতেন, এমনকী বাচ্চাদের সঙ্গে খেলাও করতেন তাঁরা। হোটেল রুম থেকে বেশি বের হতেন না দু'জনের কেউই। ২০৪ নম্বরের ছোট্ট রুমেই দিনের বেশিরভাগ সময় কাটাতেন ওই যুগল।
২০৪ নম্বর রুমটা ছিল ডবল বেডের একটা ছোট্ট ঘর। তাতে একটা টেবিল, আয়না ও সংলগ্ন বাথরুম ছিল মাত্র। কিন্তু সপ্তাহখানেক পর আচমকাই দু'জন ট্যাক্সি করে পোখরার উদ্দেশে রওনা দেন।
জানা যায়, মে মাসে নেপাল থেকে সীমান্ত পেরিয়ে বাসে করে নয়ডায় আসেন সীমা। সেখানেই শচীনের সঙ্গে বিয়ে করবেন বলে ঠিক করেন। কিন্তু সীমা যে পাকিস্তানি তা জানাজানি হতে বেশি সময় লাগে না। ৪ জুলাই গ্রেফতার হন তিনি। সঙ্গে সীমাকে আশ্রয় দেওয়ার জন্য আটক হন শচীনও। যদিও তিনদিনের বেশি হাজতবাস করতে হয়নি শচীন ও সীমাকে।
কিন্তু এসটিএফের সন্দেহ, সীমা সাধারণ পাকিস্তানি মেয়ে নন, তিনি একজন গুপ্তচর। এমনকী পাক সেনার সঙ্গে তাঁর যোগ আছে। এই সন্দেহ থেকেই তদন্ত চালাচ্ছে এসটিএফ। হাতে এসেছে নানান তথ্য। সূত্রের খবর, সম্প্রতি এমন একটি ছবি এসটিএফ পেয়েছে, যেখানে সীমাকে পাক সেনাবাহিনীর উর্দিতে দেখা গিয়েছে।
কে এই সীমা? তাঁকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে এসটিএফ। তারা জানতে পেরেছে, সীমার কাকা প্রাক্তন পাক সেনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এমনকী সীমার ভাই পাক সেনায় কাজ করেন। এই দুই তথ্য জানার পরই এসটিএফের সন্দেহ আরও বদ্ধমূল হয়। এসটিএফ আরও জানতে পেরেছে, ভারতীয় সেনা জওয়ান এবং দিল্লি-এনসিআর এলাকার যুবকদের সঙ্গে সীমার সোশ্যাল মিডিয়ায় যোগাযোগ ছিল। যদিও এইসব প্রশ্নের সদুত্তর এখনও দিতে পারেননি সীমা।
ডক্টর স্ট্রেঞ্জ দার্জিলিংয়ের মনাস্ট্রিতে পড়াতেন! বেনেডিক্ট কাম্বারব্যাচের পাঁচ অজানা তথ্য জেনে নিন