দ্য ওয়াল ব্যুরো : গত রবিবার বিজেপি নেতা আকাশ কুমার সাক্সেনা উত্তরপ্রদেশের রামপুরে পুলিশের কাছে অভিযোগ করেন, মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের (Yogi Adityanath) সরকারের বিরুদ্ধে আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন রাজ্যের প্রাক্তন রাজ্যপাল আজিজ কুরেশি। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে প্রাক্তন রাজ্যপালের বিরুদ্ধে দেশদ্রোহিতার মামলা করল পুলিশ।
সোমবার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সাক্সেনা অভিযোগ করেছেন, সম্প্রতি সমাজবাদী পার্টির নেতা আজম খানের বাড়িতে গিয়েছিলেন কুরেশি। তিনি আজম খানের স্ত্রী তাজিন ফতিমার সঙ্গে দেখা করেন। এর পরেই প্রাক্তন রাজ্যপাল যোগীর সরকারের বিরুদ্ধে আপত্তিকর মন্তব্য করেন। তিনি নাকি ওই সরকারের সঙ্গে রক্তচোষা পিশাচের তুলনা করেছিলেন। সাক্সেনার বক্তব্য, "কুরেশির ওই মন্তব্য দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে। এর ফলে সমাজে অস্থিতিশীলতা তৈরি হতে পারে।" কুরেশির মন্তব্য বিভিন্ন নিউজ চ্যানেলে সম্প্রচার করা হয়। সেই মন্তব্য রেকর্ড করেছিলেন সাক্সেনা। এক পেন ড্রাইভে সেই রেকর্ড করা বক্তব্য পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছেন অভিযোগকারী।
কুরেশির বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ১৫৩ এ (ধর্ম বা জাতির ভিত্তিতে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে শত্রুতা তৈরি করা), ১৫৩ বি (জাতীয় সংহতির বিরুদ্ধে মন্তব্য করা), ১২৪ এ (দেশদ্রোহিতা) এবং ৫০৫ (১) (বি) (মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করা) ধারায় মামলা করা হয়েছে।
৮১ বছর বয়সী কুরেশি একসময় কংগ্রেসের নেতা ছিলেন। তিনি ২০১৪-১৫ সালে মিজোরামে রাজ্যপাল ছিলেন। এছাড়া উত্তরপ্রদেশেও তিনি কিছুকাল রাজ্যপালের দায়িত্ব পালন করেছেন।
কিছুদিন আগে জানা যায়, ২০১৪ সালে বিজেপি নেতা নরেন্দ্র মোদী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পরে দেশ জুড়ে দেশদ্রোহিতার মামলার সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০১৪ থেকে '১৯-এর মধ্যে দেশদ্রোহিতার মামলায় অভিযুক্ত হয়েছেন ৩২৬ জন। তাঁদের মধ্যে অপরাধী সাব্যস্ত হয়েছেন মাত্র ছ'জন। সুপ্রিম কোর্টের মতে, ভারতীয় দণ্ডবিধির ১২৪ (এ) (দেশদ্রোহিতা) ধারার ব্যাপক অপব্যবহার হচ্ছে। কেন্দ্রীয় সরকারকে বিচারপতিরা বলেন, ব্রিটিশ আমলে যে আইন স্বাধীনতা সংগ্রামীদের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হত, তা এখনও রেখে দেওয়া হয়েছে কেন?
কেন্দ্রীয় সরকার জানিয়েছে, এখনও পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি দেশদ্রোহিতার মামলা হয়েছে অসমে। সেখানে পাঁচ বছরে ৫৪ জন দেশদ্রোহিতার দায়ে অভিযুক্ত হয়েছেন। তার মধ্যে চার্জ গঠন করা হয়েছে ২৬ টি মামলায়। ২৫ টি মামলার বিচার শেষ হয়েছে।
ঝাড়খণ্ডে ছয় বছরে দেশদ্রোহিতার ৪০ টি মামলা করা হয়েছে। তার মধ্যে চার্জশিট দেওয়া হয়েছে ২৯ টি মামলায়। ১৬ টি মামলার বিচার শেষ হয়েছে। অপরাধী সাব্যস্ত হয়েছেন মাত্র একজন।