দ্য ওয়াল ব্যুরো: আরও একধাপ এগিয়ে গেল এদেশের ভ্য়াকসিন-গবেষণা। এবার মানবদেহে ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের জন্য অনুমোদন পেয়ে গেল ভারতের আরও একটি করোনা ভ্যাকসিন। দেশের সবচেয়ে বড় ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি 'জাইডাস ক্যাডিলা'র তৈরি এই করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন সফল হলে তা ইতিহাস গড়বে বিশ্বে।
এটি ভারতে হিউম্যান ট্রায়ালের অনুমোদন পাওয়া দ্বিতীয় টিকা। এর আগে হায়দরাবাদের ফার্মাসি সংস্থা ভারত বায়োটেক ‘কোভ্যাক্সিন’ টিকা মানবদেহে পরীক্ষার অনুমোদন পেয়েছে কয়েক দিন আগেই। মোট দু দফায় চলবে এই পরীক্ষা। ছাড়পত্র মিলেছে ডিসিজিআই এবং কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের।
এবার জাইডাস ক্যাডিলা'র তৈরি করা ভ্যাকসিনটিরও হিউম্যান ট্রায়ালের প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপের পরীক্ষার অনুমোদন মিলেছে ভারতের ড্রাগ কন্ট্রোলার জেনারেল অব ইন্ডিয়া (ডিসিজিআই)-র তরফে। এখন টানটান উত্তেজনা, কোনও একটি ভ্যাকসিনও কি সফল হবে?
বস্তুত, ভারত তো আর একা নয়। বিশ্বজুড়ে ভ্যাকসিন তৈরির গবেষণা চলছে। রীতিমতো প্রতিযোগিতা চলছে তাদের মধ্যে। কে কার আগে নিয়ে আসবে নোভেল করোনাভাইরাস থেকে মানবকুলকে রক্ষা করার ভ্যাকসিন! সেরার শিরোপা পাবে কে! পশ্চিমি দেশগুলো প্রতিদিন দোর খুলে দিচ্ছে নতুন সম্ভাবনার। ভারতও সেখানে পিছিয়ে নেই।
এমনিতে বিশ্বের বৃহত্তম জেনেরিক ওষুধ সরবরাহকারী দেশ ভারত। এ দেশের গবেষণা ও নতুন ওষুধ তৈরির ধারাবাহিকতা বিশ্বের দরবারে প্রশংসিত। ফলে ভ্যাকসিন তৈরির দৌড়েও এ দেশ উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করবে বলেই আশা করা হচ্ছে। বিভিন্ন রাজ্যের একাধিক প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন ওষুধ নিয়ে কাজ করছে। আয়ুর্বেদিক ওষুধও বাদ নেই।
তথ্য বলছে, এই মুহূর্তে বিশ্বজুড়ে ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে রয়েছে ১৭টি টিকা। যার সব ক'টিই প্রথম ও দ্বিতীয় পর্যায়ের ট্রায়ালে রয়েছে। অর্থাৎ হিউম্যান ট্রায়াল চলছে বা শুরু হবে। এর মধ্যে আমেরিকা, ইংল্যান্ড, চিন-সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ করোনাভাইরাসের প্রতিষেধক আবিষ্কারে কাজ করে চলেছে নাওয়াখাওয়া ভুলে।
এর মধ্যে মে মাসে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার জানিয়েছিল যে প্রায় ৩০টি গ্রুপ করোনার ভ্যাকসিন নিয়ে কাজ করছে। সরকারের শীর্ষস্থানীয় বৈজ্ঞানিক উপদেষ্টা বলেছিলেন যে, একটি ভ্যাকসিন তৈরিতে সাধারণত ১৫ বছর সময় লাগে এবং ব্যয় হয় ৩০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। অর্থাৎ কাজটি যে মোটেই সহজ নয়, তা বলাি বাহুল্য।
অন্যদিকে, মার্কিন সংস্থা মোডার্নার তৈরি করোনার সম্ভাব্য ভ্যাকসিনটি হিউম্যান ট্রায়ালের দু'পর্যায় উত্তীর্ণ করে ফেলেছে। এবার তৃতীয় পর্যায়ের ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল আগামী জুলাই মাসে শুরু হবে। এছাড়াও ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের চূড়ান্ত ধাপে রয়েছে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের তৈরি করোনার ভ্যাকসিনও। এই দু'টির মধ্যে থেকেও মিলতে পারে সাফল্য, তাকিয়ে আছে সারা বিশ্ব।