
এসডিও মধুসূদন দাস
শেষ আপডেট: 1 April 2025 15:29
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ঢোলাহাটের এলাকাবাসীদের (Patharpratima Blast) অভিযোগ, বণিক বাড়িতে বাজির ব্যবসার জন্য বাইরের একাধিক জায়গা থেকে কারিগররা আসতেন। সবটাই জানত পুলিশ-প্রশাসন। কেউ কেউ অভিযোগ করছেন, ঘুষ নিয়ে সকলেই এত দিন মুখে কুলূপ এঁটে বসেছিলেন, না হলে রাজ্যে একের পর এক বাজি কারখানায় বিস্ফোরণ হচ্ছে তাতেও কারও টনক নড়ল না?
এহেন প্রশ্ন-পাল্টা প্রশ্নের আবহে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার এসডিও মধুসূদন দাস বললেন, এত দিন তাঁর নজরেই পড়েনি ব্যাপারটা। জানান,"এটা তো বাড়ি, কারখানা তো নয়। এরকম কিছু এতদিন আমার নজরে আসেনি। এখন এটা তাহলে দেখতে হবে। সেই জন্যেই সবটা খতিয়ে দেখছি যে জিনিসটা কী করে হল! নিশ্চয়ই সবটা লুকিয়ে করা হয়েছে। না হলে এটা হতে পারে না। একটা বাড়ির মধ্যে কারখানা। আদৌ লাইসেন্স ছিল কিনা সেটাও রেকর্ড দেখলে জানা যাবে। অনেকেই মারা গেছেন, আমরা এবং দমকলের আধিকারিকরা সবটা তদন্ত করে দেখছি।"
অন্যদিকে, দমকলের পদস্থ এক কর্তার কথায়, "খবর পাওয়ার পর রাত ১০টা ৫৫তে আমরা এসে দেখি, পরিস্থিতি স্থানীয়রাই নিয়ন্ত্রণে নিয়ে এসেছেন। পুলিশের সহযোগিতায় আহতদের হাসপাতালেও ভর্তি করা হয়। আমরা আসার আগেই ঘটনাস্থল থেকে সকলকে উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।"
অথচ, এর আগে প্রশাসন সূত্রেই খবর ছিল, বাজি তৈরির লাইসেন্স ছিল চন্দ্রকান্ত বণিকদের। এলাকার তৃণমূল বিধায়ক সমীর জানাও সেই একই কথা জানিয়েছিলেন। তারপর থেকেই এলাকার অনেকে প্রশ্ন তুলছেন, বাজি তৈরির লাইসেন্স থাকলেও বাড়ির মধ্যে বেআইনি বাজি মজুত করে রাখার লাইসেন্স ছিল কি? থাকলেও তার জন্য যাবতীয় যা নিরাপত্তা নেওয়া দরকার সে সব ছিল কি?
মঙ্গলবার সকালে ঢোলাহাট এলাকা পরিদর্শনে গিয়েছিলেন সুন্দরবন উন্নয়ন মন্ত্রী বঙ্কিম হাজরা (Bankim Hazra)। বণিকদের পোড়া বাড়ি ঘুরে দেখে যতটুকু যা বুঝেছেন, তাতে তিনি অস্বীকার করলেন না যে লাইসেন্স থাকলেও নিয়ম না মেনেই বাজির ব্যবসা চলছিল। তিনি এও বলেন স্থানীয় বিধায়ক-সহ পুলিশের পদস্থ কর্তারা আদৌ এর সঙ্গে জড়িত কিনা সে ব্যাপারে তাঁর ধারণা অস্পষ্ট।