দ্য ওয়াল ব্যুরো : আগামী ২১ দিন বাড়ি থেকে বাইরে পা বাড়ানোর কথা ভুলে যান। মঙ্গলবার রাত আটটায় দেশবাসীর উদ্দেশে এমনই বলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তার চার ঘণ্টা পর থেকে ভারত জুড়ে শুরু হয়েছে বিশ্বের বৃহত্তম লকডাউন। প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ শেষ হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যে দেখা যায়, দিল্লি, মুম্বই, বেঙ্গালুরু ও অন্যান্য শহরে মানুষ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দোকানে ভিড় জমিয়েছেন। মোদী অবশ্য বলেছিলেন, তড়িঘড়ি কিছু কিনে রাখার দরকার নেই। ওষুধ, মুদির দোকান, খাবারের দোকান ইত্যাদি খোলা থাকবে। তা সত্ত্বেও ভয় পেয়ে কেনাকাটা করেছেন অনেকে।
কোন দোকান খোলা থাকবে না থাকবে, তা নিয়ে দোকানদারদের মধ্যে বিভ্রান্তি ছিল। ফলে এদিন অনেকেই দোকান খোলেননি। যে সব দোকান খোলা ছিল সেখানেও বেশি দাম নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। সম্প্রতি বেশ কয়েকটি রাজ্য সীমানা বন্ধ করে দিয়েছে। ফলে বুধবার সকালে দেখা গিয়েছে, দুধ, ফল ও শাকসবজি নিয়ে বহু লরি লাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে বর্ডার অঞ্চলে।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক থেকে প্রতিটি রাজ্যকে বলা হয়েছে, কেউ যেন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও পরিষেবা নিয়ে গুজব না ছড়ায়। সরকারি নির্দেশিকায় স্পষ্ট বলা হয়েছে, রেশন দোকান ফল, শাকসবজি, দুধ, মাংস, মাছ, পশুখাদ্য, অন্যান্য খাবারের দোকান ও মুদির দোকান খোলা থাকবে।
এর মধ্যে ওয়ালমার্টের ফ্লিপকার্ট ও অ্যামাজন ইন্ডিয়ার প্যান্ট্রি সার্ভিস বন্ধ করা হয়েছে। প্যান্ট্রি সার্ভিসে মুদির দোকানের জিনিসপত্র সরবরাহ করা হত। অ্যান্টনি টমাস নামে আর একটি ছোট সংস্থা প্রত্যেকদিন সকালে দিল্লিতে ১৫০ লিটার দুধ ও মুদির দোকানের জিনিসপত্র সরবরাহ করত। তারাও কর্মীদের বাড়িতে থাকতে নির্দেশ দিয়েছে।
উত্তরপ্রদেশে মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ ঘোষণা করেছেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও ওষুধপত্র দরকার হলে মানুষ হেল্পলাইনে ফোন করতে পারবেন। প্রয়োজনে ওই জিনিসগুলি বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হবে। কিন্তু অনেকে অভিযোগ করছেন, হেল্পলাইনে ফোন করলে তাঁদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হচ্ছে।
বুধবার সকালে দেখা গিয়েছে, গুজরাত ও তামিলনাড়ুর বিভিন্ন দোকান সোশ্যাল ডিসট্যান্সিং-এর জন্য বিশেষ পদ্ধতি অবলম্বন করেছে। দোকানের বাইরে কিছুদূর অন্তর চক দিয়ে দাগ দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। খদ্দেররা সেই দাগের ওপরে দাঁড়িয়ে লাইন দিচ্ছেন।
এর মধ্যে কংগ্রেসের তরফে রণদীপ সিং সুরজেওয়ালা প্রশ্ন তোলেন, "এদেশের মানুষ নিশ্চয় লকডাউন মেনে চলবেন। কিন্তু লক্ষ লক্ষ দিনমজুরের জন্য কি মোদী কোনও পরিকল্পনা করেছেন? তাঁরা এই ২১ দিন বেঁচে থাকবেন কী করে?"