
শেষ আপডেট: 21 December 2023 18:01
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কবিগুরুর নামে ব্যাকটেরিয়া?
যে সে ব্যাকটেরিয়া নয়, এমন উপকারী ব্যাকটেরিয়া যা মাটিকে আরও উর্বর ও কৃষি উপযোগী করে তুলবে। দূষণ যেভাবে বাড়ছে তাতে সংক্রামক ও রোগ সৃষ্টিকারী ভাইরাস-ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যা বাড়ছে। নিশ্চিহ্ণ হয়ে যাচ্ছে বাস্তুতন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়ারা। বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক এমনই ব্যাকটেরিয়ার খোঁজ পেয়েছেন যেগুলি মাটিতে খনিজের ভারসাম্য বজায় রাখে। এই ব্যাকটেরিয়া আগামী দিনে কৃষিকাজের ক্ষেত্রে দারুণ উপকারী প্রমাণিত হবে বলেও দাবি বিজ্ঞানীদের।
বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইক্রোবায়োলজির অধ্যাপক বোম্বা দাম ও পাঁচ সহকারী গবেষক পাঁচ বছর ধরে পরিশ্রম করে এই ব্যাকটেরিয়ার খোঁজ পেয়েছেন। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নামে এই ব্যাকটেরিয়ার নামকরণ করা হয়েছে প্যান্টোইয়া টেগোরি।
গবেষকরা বলছেন, নতুন প্রজাতির এই ব্যাকটেরিয়া মাটিতে নাইট্রোজেন, ফসফরাস ও পটাশিয়াম এই তিনের অনুপাতকে সঠিক মাত্রায় রাখবে। উদ্ভিদের বৃদ্ধিতে এই তিন উপাদান অপরিহার্য। কিন্তু মাটি থেকে এই তিন উপাদন বেশি মাত্রায় পাওয়া যায় না। ফলে রাসায়নিক সার প্রয়োগ করে ঘাটতি মেটাতে হয়। আর রাসায়নিক সারের বেশি প্রয়োগের ফলে তা প্রভাব পড়ে মানুষের শরীরেও।
ইদানীংকালে মাটির দূষণ এত বেড়েছে যে প্রয়োজনীয় খনিজ উপাদানগুলোই নিশ্চিহ্ন হয়ে যাচ্ছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, প্লাস্টিক জাতীয় পদার্থ মাটিতে মিশছে ফলে মাটি দূষিত হচ্ছে। উপকারী অণুজীবরা বিলুপ্ত হচ্ছে। সেই সঙ্গেই অত্যধিক মাত্রায় রাসায়নিক সারের প্রয়োগ হচ্ছে ফলন বাড়াতে যা আরও সাঙ্ঘাতিক হয়ে উঠছে মানুষের জন্য। নানারকম রোগের প্রকোপ বাড়ছে। তাই এখন কৃষিকাজে জৈব প্রক্রিয়ার প্রয়োগ বাড়াতে বলা হচ্ছে। কীভাবে জৈব সার প্রয়োগ করা যায় সেই চেষ্টাই করছেন কৃষি বিজ্ঞানীরা। এমনই নানা গবেষণা ও অনুসন্ধান করতে গিয়ে ওই উপকারী ব্যাকটেরিয়ার খোঁজ পান বিশ্বভারতীর গবেষকরা।
ঝাড়খণ্ডের ঝরিয়া কয়লাখনি সংলগ্ন এলাকায় ওই নতুন প্রজাতির ব্যাকটেরিয়ার খোঁজ পাওয়া গেছে বলে খবর। বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, এই ব্যাকটেরিয়া মাটিতে জৈব উপাদানের মাত্রা বাড়াবে। ফলে কৃষিকাজে প্রভূত উন্নতি হবে। রাসায়নিকের ব্যবহার কমবে। অ্যাসোসিয়েশন অব মাইক্রোবায়োলজিস্ট অব ইন্ডিয়ার তরফ থেকে এই আবিষ্কারকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।