
শেষ আপডেট: 7 June 2020 18:30
সেক্ষেত্রে একটি মাত্র বি-কোষ শনাক্ত করে তার থেকে তৈরি অ্যান্ডিবডি স্ক্রিনিং করে নেওয়া অনেক সহজ। এই অ্যান্টিবডিকে বলে ‘মনোক্লোনাল অ্যান্টিবডি’ । করোনা চিকিৎসায় এই মনোক্লোনাল অ্যান্টিবডি নিয়েই গবেষণা চালাচ্ছেন বিজ্ঞানীরা।
অ্যাস্ট্রজেনেকা দাবি করেছে, সার্স-কভ-২ ভাইরাল প্রোটিনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে তাকে নিষ্ক্রিয় করতে পারে এমন ক্লোনড অ্যান্টিবডি চিহ্নিত করা হয়েছে। সেই অ্যান্টিবডি সরাসরি রোগীর দেহকোষে ইনজেক্ট করতে পারলে খুব তাড়াতাড়ি রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে উঠবে শরীরে। সংক্রমণ প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এমন রোগীদের উপরে এই অ্যান্টিবডি প্রয়োগ করলে ভাল ফল পাওয়া যাবে বলে দাবি গবেষকদের।
অ্যান্টিবডি ইঞ্জেকশন তৈরি হয়েছে জোড়া অ্যান্টিবডি দিয়ে, বলেছেন অ্যাস্ট্রজেনেকার চিফ একজিকিউটিভ পাস্কাল সোরিয়ট। তাঁর মতে, ভাইরাল প্রোটিনকে কাবু করতে যেমন অ্যান্টিবডি কাজে লাগে, তেমনি অ্যান্টিবডির বিরুদ্ধেই প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারে ভাইরাস। করোনাভাইরাসের ক্ষেত্রে তেমনটাই বেশি হচ্ছে। মানুষের শরীরের অ্যান্টিবডির বিরুদ্ধে নিজেদের প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারছে এই ভাইরাস। তাই তার জিনের গঠনগত বদলেও সুবিধে হচ্ছে। পাস্কাল বলেছেন, জোড়া অ্যান্টিবডি প্রয়োগ করার উদ্দেশ্য হল, যদি একটি অ্যান্টিবডিকে কব্জা করে ফেলে ভাইরাল প্রোটিন তাহলে অন্য অ্যান্টিবডি সেখানে মোকাবিলা করবে। খুব তাড়াতাড়ি ক্লোনড অ্যান্টিবডি ইঞ্জেকশনের ক্নিনিকাল ট্রায়াল শুরু হবে বলে জানিয়েছে অ্যাস্ট্রজেনেকা।
কোভিড গবেষণায় মোডার্না, অক্সফোর্ড, ইনিভিও-র মতো বায়োটেকনোলজি ফার্মের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে এখন প্রথম সারিতেই রয়েছে অ্যাস্ট্রজেনেকা। অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে ভেক্টর ভ্যাকসিনের গবেষণা চলছে অ্যাস্ট্রজেনেকার বিভিন্ন রিসার্চ ইউনিটে। শিম্পাঞ্জির শরীর থেকে নেওয়া অ্যাডেনোভাইরাসকে ‘পিউরিফায়েড’ বা বিশুদ্ধ করে তাকে নিষ্ক্রিয় করে ভেক্টর হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। শুরুতে অক্সফোর্ডের ভ্যাকসিন ক্যানডিডেটের নাম ছিল ChAdOx1 nCoV-19। বর্তমানে এর নয়া ভার্সনের নাম হয়েছে AZD1222।
করোনা চিকিৎসায় যমজ অ্যান্টিবডি নিয়ে গবেষণা চালাচ্ছে চাইনিজ অ্যাকাডেমি অব সায়েন্সেস। এই যমজ অ্যান্টিবডির নাম বি৩৮ ও এইচ৪। গবেষকরা বলেছেন, আরএনএ ভাইরাসের স্পাইক গ্লাইকোপ্রোটিনের সঙ্গে জুড়ে যেতে পারে এই দুই অ্যান্টিবডি। অনেকটা ক্যাপের মতো স্পাইক প্রোটিনের উপর আবরণ তৈরি করে দেয়। ফলে ভাইরাল প্রোটিন আর দেহকোষের ACE-2 রিসেপটরের সঙ্গে জোট বাঁধতে পারে না। অর্থাৎ ভাইরাসের দেহকোষে ঢোকার রাস্তাটা বন্ধ হয়ে যায়।
ইজরায়েলও মনোক্লোনাল অ্যান্টিবডি নিয়ে গবেষণা চালাচ্ছে। ইজরায়েল ইনস্টিটিউট ফর বায়োলজিক্যাল রিসার্চের গবেষকরা জানিয়েছেন এই মনোক্লোনাল অ্যান্টিবডি ভাইরাসের প্রতিলিপি তৈরির ক্ষমতাকে নষ্ট করে দিতে পারে। ‘জেরুসালেম পোস্ট’-এ এই গবেষণার কথা জানিয়েছিল আইআইবিআর। ডিরেক্টর শ্যামুয়েল শাপিরা বলেছেন, এই অ্যান্টিবডি এখনও গবেষণার স্তরেই আছে।