
শেষ আপডেট: 19 August 2020 18:30
মহাকাশবিজ্ঞানীরা বলছেন, ওই মেঘ আসলে মাইক্রোকোয়াসার (Microquasar) । নাম এসএস ৪৩৩ (SS 433)। কোয়াসার হল দানব ব্ল্যাকহোল যাদের ভর সূর্যের থেকেও বেশি হয়। এই ব্ল্যাকহোলরা কোনও গ্যালাক্সির মধ্যে বা গ্যালাক্সি থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া তারার পাশে ঘাপটি মেরে থাকে। দানব ব্ল্যাকহোলের প্রচণ্ড আকর্ষণে তারার শরীর থেকে হাড়-মজ্জা আলাদা হয়ে যেতে থাকে। এই সংঘাতের কারণে জোরালো এক্স-রে ছিটকে বের হয়। এই রশ্মির বিকিরণে প্রচণ্ড তাপমাত্রা ও আলোর ছটা দেখা যায়।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, যেখান থেকে হার্টবিট শোনা যাচ্ছে সেটা এসএস ৪৩৩ মাইক্রোকোয়াসার সিস্টেম। এখানে এক তারার সঙ্গে বিশাল ব্ল্যাক হোল বা কষ্ণগহ্বরের লড়াই লেগেছে। সেই তারাও কিছু কম যায় না। এর ভর সূর্যের থেকেও ৩০ গুণ বেশি। আর তার সঙ্গে টক্কর দিচ্ছে যে ব্ল্যাক হোল তার ভর সূর্যের থেকে কম করেও ২০ গুণ বেশি। এই দুই পেল্লায় তারা ও ব্ল্যাক হোলের সংঘর্ষে বিস্ফোরণ হচ্ছে সেই সিস্টেম। তারার শরীর শুষে নেওয়ার চেষ্টা করছে ব্ল্যাক হোল। তার প্রচণ্ড অভিকর্ষজ বলের টানে তারার শরীর থেকে ছিটকে বের হচ্ছে মহাজাগতিক বস্তুরা। গ্যাসের স্তর জমছে এই দুই যোদ্ধার চারপাশে। জড়ো হচ্ছে মহাজাগতিক ধুলোবালি। মনে হচ্ছে মেঘ পুঞ্জীভূত হচ্ছে মহাকাশে।
মহাকাশবিজ্ঞানী জিয়ান লি বলছেন, কৃষ্ণগহ্বর বা ব্ল্যাক হোলের সমসময় একটা খাই খাই ভাব থাকে। এরা সাধারণত কোনও গ্যালাক্সির মাঝখানে অর্থাৎ কেন্দ্রে (Center) অথবা গ্যালাক্সির চারদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকে। সাধারণত দেখা যায়, যে কোনও গ্যালাক্সির মাঝে থাকা ব্ল্যাক হোলের অভিকর্ষ টান সাঙ্ঘাতিক হয়। ঘন জমাট বাঁধা গ্যাসের মেঘ বা তারা কাছে এসে পড়লে ওই রাক্ষুসে ব্ল্যাক হোলগুলি তাদের জোরালো অভিকর্ষ বলের টানে সেগুলিকে গিলে নেয়। সেগুলি আর ব্ল্যাক হোল থেকে বেরিয়ে আসতে পারে না। খিদে মিটলে তার ভিতর থেকে উজ্জ্বল আলোর বিচ্ছুরণ দেখা যায়। যেগুলি আসলে প্রচণ্ড শক্তিশালী এক্স-রে বা গামা-রশ্মির স্রোত। যদি দেখা যায় কোনও বিশাল তারার সঙ্গে লড়াই বেঁধেছে ব্ল্যাক হোলের তাহলে ভয়ঙ্কর বিস্ফোরণের শব্দও পাওয়া যায়। তড়িৎ-চুম্বকীয় তরঙ্গ বেরিয়ে আসতে থাকে গ্যালাক্সি থেকে এবং মহাশূন্যে ভেসে বেড়ায়। বিজ্ঞানী বলছেন, এমনই এক লড়াই লেগেছে সেই মাইক্রোকোয়াসার সিস্টেমেও। যার কারণেই এক বিকট শব্দ হচ্ছে। দূর থেকে যার আওয়াজ মনে হচ্ছে হার্টবিটের মতো।
২০১৫ সালে দুটি ব্ল্যাকহোলের সংঘর্ষে জোরালো মহাকর্ষীয় তরঙ্গ দেখা গিয়েছিল, যার উৎস্থল ছিল পৃথিবী থেকে প্রায় ১৩০ কোটি আলোকবর্ষ দূরে। ২০১৭-তে ১৮০ কোটি আলোকবর্ষ দূরে মহাকর্ষীয় তরঙ্গ দেখেছিলেন বিজ্ঞানীরা।