দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনা সংক্রমণ কী পর্যায়ে ছড়িয়েছে, গোষ্ঠী সংক্রমণের শঙ্কা আছে কিনা জানতে দিল্লির বিভিন্ন এলাকায় চলছে সেরো সার্ভে। কতজনের রক্তে করোনার অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে জানতেই এই অ্যান্টিবডি টেস্ট বা সেরো সার্ভে করা হচ্ছে। গত সপ্তাহে সেরো সার্ভের রিপোর্টে দেখা যায় রাজধানীতে ২৩ শতাংশ মানুষের রক্তে করোনা প্রতিরোধী অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে। এই রিপোর্ট আশা না জাগালেও সায়েন্টিফিট অ্যাডভাইজরি কমিটির অধ্যাপক জয়প্রকাশ মুলিয়িলের বক্তব্য, কম হলেও অ্যান্টিবডি তৈরি শুরু হয়েছে। দিল্লির কিছু এলাকায় সংক্রমণ বৃদ্ধির হারও কম। এর থেকেই অনুমান করা যায়, হার্ড ইমিউনিটি গড়ে উঠছে ধীরে ধীরে।
ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব এপিডেমোলজির গবেষক ও ভেলোরের খ্রিস্টান মেডিক্যাল কলেজের প্রাক্তন প্রিন্সিপাল গবেষক জয়প্রকাশ একটি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, দিল্লিতে এখনও অবধি ২৩.৫% মানুষের রক্তে করোনার অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে। রাজধানীতে এখন ভাইরাস সংক্রামিতের সংখ্যা এক লাখ ছাড়িয়েছে। তার মধ্যে ২৩ শতাংশের রক্তে ইতিমধ্যেই অ্যান্টিবডি তৈরি হওয়া শুরু হয়েছে। সংখ্যাটা কম হলেও আশা রয়েছে।
গবেষকের দাবি, সেরো সার্ভের রিপোর্ট থেকেই বোঝা যাচ্ছে এখনও অবধি একটা ক্লাস্টারের মধ্যে করোনার অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে। অর্থাৎ ওই গোষ্ঠীর মানুষদের শরীরে রোগ প্রতিরোধ শক্তি গড়ে উঠছে। যে এলাকাগুলিতে করোনা আক্রান্তদের রক্তে অ্যান্টিবডি মিলেছে সেখানে ধীরে ধীরে সংক্রমণ বৃদ্ধির হার কমবে। তার কারণ, কোনও এলাকার মোট জনসংখ্যার একটা অংশের মধ্যে যদি রোগ প্রতিরোধ শক্তি গড়ে উঠতে শুরু করে তাহলে বাকিরাও অনেকটাই সুরক্ষিত হয়ে যান। কারণ ভাইরাস আর বেশি মানুষের মধ্যে সংক্রামিত হতে পারে না। একটা পর্যায়ের পরে গিয়ে ভাইরাল স্ট্রেন দুর্বল হতে থাকে। নির্মূল না হলেও নিষ্ক্রিয় হয়ে যায়। সংক্রমণ বৃদ্ধির হার কমে। এইভাবেই গড়ে ওঠে হার্ড ইমিউনিটি। এপিডেমোলজিস্টের বক্তব্য, দিল্লির কিছু এলাকা এই হার্ড ইমিউনিটি তৈরির পথে পা বাড়িয়ে দিয়েছে।
আরও একটা ইতিবাচক দিকের কথা বলেছেন এপিডেমোলজিস্ট জয়প্রকাশ। তিনি বলেন, পজিটিভিটি রেট দিল্লির সবজায়গায় সমান নয়। ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিক্যাল রিসার্চ (আইসিএমআর)-এর কোভিড টেস্টের রিপোর্টেই এটা স্পষ্ট। পজিটিভিটি রেট হল ঠিক যত সংখ্যক কোভিড টেস্ট হয়েছে তার মধ্যে যতজনের শরীরে করোনা সংক্রমণ পজিটিভ ধরা পড়েছে তার শতাংশের হিসেব। দিল্লির কোথাও এই পজিটিভিটি রেট ৪০%, কোথাও ১০% আবার কোথাও ১৫%। এর থেকে বোঝা যায়, সব এলাকায় সংক্রমণ একই হারে ছড়াচ্ছে না। যে এলাকাগুলিতে কোভিড পজিটিভিটি রেট ৩০-৪০% সেই এলাকাগুলি দ্রুত হার্ড ইমিউনিটির দিকে এগোচ্ছে। কারণ যাদের শরীরে করোনা পজিটিভ হচ্ছে তাদের রক্তেই করোনা প্রতিরোধী অ্যান্টিবডি তৈরি হচ্ছে। যত বেশি সংখ্যক মানুষের রক্তে অ্যান্টিবডি তৈরি হবে তত দ্রুত প্রতিরোধ শক্তি গড়ে উঠবে। গবেষক বলছেন, গত দু’সপ্তাহের সেরো সার্ভের রিপোর্টে দেখা গেছে করোনা প্রতিরোধী আইজিজি অ্যান্টিবডি তৈরির পরিমাণ বেড়েছে। তাই অ্যাকটিভ ট্রান্সমিশন হচ্ছে না অনেক জায়গাতেই। গবেষকদের আরও দাবি, নতুন সংক্রমণের খোঁজ না করে যদি এলাকা ভাগ করে প্রতিটি ক্লাস্টারের দিকে খেয়াল রাখা যায় তাহলেই বোঝা যাবে কোন ক্লাস্টারে অ্যান্টিবডি তৈরির হার বাড়ছে। যে ক্লাস্টারে বেশি সংখ্যক মানুষের রক্তে অ্যান্টিবডি তৈরি হবে সেখানেই হার্ড ইমিউনিটি গড়ে উঠবে। অতিমহামারীকে ঠেকাতে গেলে এই পদ্ধতিতেই কাজ শুরু করতে হবে।