দ্য ওয়াল ব্যুরো : শনিবার ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে দিল্লির দাঙ্গা বিধ্বস্ত অঞ্চল। কিন্তু সেখানে স্কুল খোলেনি এখনও। এদিন স্কুলের প্রিন্সিপাল ও অন্যান্য কর্মীরা স্কুলে যান। শিক্ষায়তনের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন। তারপর ডায়রেক্টরেট অব এডুকেশন জানিয়েছে, ৭ মার্চ অবধি বন্ধই থাকবে স্কুলগুলি। ফলে স্কুলের পরীক্ষাও বন্ধ থাকছে।
এর আগে জানানো হয়েছিল, স্কুলগুলি ২৯ ফেব্রুয়ারি অবধি বন্ধ থাকবে। কিন্তু পরিস্থিতি বিবেচনা করে ছুটির মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে।
স্কুল শিক্ষা দফতরের পক্ষ থেকে বিবৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, “সংশ্লিষ্ট এলাকায় স্কুলে পরীক্ষা হওয়ার মতো পরিস্থিতি নেই। ছাত্রছাত্রীরাও নিশ্চয় আতঙ্কিত হয়ে আছে। তাদের পক্ষে পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়া সম্ভব নয়।”
দিল্লির দাঙ্গায় মারা গিয়েছেন ৪২ জন। ৭৯টি বাড়ি, ৫২টি দোকান, পাঁচটি গোডাউন, তিনটি কারখানা, চারটি মসজিদ ও দুটি স্কুল ভেঙে বা জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে। পুড়ে যাওয়া গাড়ির সংখ্যা এখনও হিসেব করে ওঠা সম্ভব হয়নি।
দিল্লি পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চের স্পেশ্যাল ইনভেস্টিগেশন টিম ( সিট )-এর তরফে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, গত রবিবার রাতে থেকে দিল্লির উত্তর-পূর্ব অংশের জাফরাবাদ, কর্দমপুরী, করওয়াল নগর, মৌজপুর, ভজনপুরা, গোকুলপুরী প্রভৃতি এলাকায় যে সংঘর্ষ হয়েছে সেই কাজে কারা যুক্ত তাদের চিহ্নিত করতে হবে। তারপরে তাদের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ নেওয়া হবে।
দিল্লি পুলিশ সূত্রে খবর, ইতিমধ্যেই এই সংঘর্ষের ঘটনায় যুক্ত থাকার ব্যাপারে ১০০০ জনকে চিহ্নিত করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ৬৩০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকিদের খোঁজে তল্লাশি চলছে। জানানো হয়েছে, এই হিংসায় ঠিক কী পরিমাণে সম্পত্তি নষ্ট হয়েছে তার পরিসংখ্যানে সময় লাগবে। তবে প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে কয়েকশ কোটি টাকার সম্পত্তি নষ্ট হয়েছে। এই ক্ষেত্রে পূর্ব দিল্লি মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের সাহায্য নেওয়া হবে বলেও জানা গিয়েছে।