
শেষ আপডেট: 1 April 2019 14:17
অন্য দিকে, ঝ্যাং বলে, "জুয়ের মতো কেউ নেই। আমায় কেউ পছন্দ করত না, সেই প্রথম দিন থেকে। কেবল জু-ই সব রকম সাহায্য করত। এখন ওকে ছাড়া আমি অচল। ওর মতো বন্ধু হয় না। ওর জন্য যতই ধন্যবাদ দিই, তা যথেষ্ট হবে না।"
জু এবং ঝ্যাঙের হিবাজি টাউন সেন্ট্রাল প্রাইমারি স্কুলের বন্ধুরা জানায়, জু বিংইয়াং এবং ঝ্যাং জি পরস্পরের বেস্ট ফ্রেন্ড। প্রতিদিন ওরা একসঙ্গে পড়ালেখা করে, গল্প করে আর খেলে। টিফিনের সময়ে সকলে নিজের মতো মাঠে ছুটলেও, জু কখনও ঝ্যাংকে ছেড়ে আসে না। ও প্রতি মুহূর্তে ঝ্যাঙের খেয়াল রাখে। একসঙ্গে ক্লাসরুমে বসেই খেলে ওরা।
জু এবং ঝ্যাং ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র। আজ থেকে আট বছর আগে, চার বছর বয়সে মাংসপেশীর এক বিরল অসুখে চলাচলের শক্তি হারিয়ে ফেলে ঝ্যাং। ওর পা নষ্ট হয়ে যায়। স্কুলে যাওয়াও প্রায় বন্ধ হতে বসেছিল ঝ্যাঙের। কিন্তু, সৌভাগ্যক্রমে, প্রথম শ্রেণিতেই জুয়ের সঙ্গে পরিচয় হয়ে গিয়েছিল তার। তার পর থেকে তার স্কুলে যেতে কোনও সমস্যাই হয়নি। সেই শুরুর দিন থেকেই ঝ্যাংকে সাহায্য করতে এগিয়ে আসে জু।
জু এই প্রসঙ্গে বলে, "আমি তো ওর চেয়ে লম্বা-চওড়া। আমার মনে হয়েছিল, আমি যদি ওকে সাহায্য না করি তা হলে ও স্কুলে আসতে পারবে না। অন্য কেউ সেই চেষ্টাও করবে না।"
তবে এত বন্ধুত্বের পরেও তাদের পথ চলাটা মোটেও সহজ নয়। কারণ শুধু স্কুলে আসা বা ক্লাসে যাওয়াই নয়। ক্লাসরুম থেকে টয়লেটে যেতেও জু-র সাহায্য প্রয়োজন হয় ঝ্যাংয়ের। এবং তাতে অনেকটাই সময় লেগে যায় তাদের। কারণ ঝ্যাংকে পিঠে নিয়ে একটু হলেও ধীরে হাঁটতে হয় জু-কে। এছাড়াও ঝ্যাংয়ের জলের বোতল ভরা, হোমওয়ার্ক জমা দেওয়া-- সবেতেই সাহায্য করতে হয় জুকে।
ওই স্কুলের শিক্ষকেরাও গর্বিত জুয়ের মতো ছাত্র পেয়ে। তাঁরা বলছেন, বন্ধুকে প্রতিদিন সাহায্য করার জন্য প্রয়োজন একাগ্রতা, ধৈর্য্য আর জেদ। তাঁরা জানান, প্রায় তিন বছর ধরে জু ছাড়াও আর একটি ছেলে সাহায্য করেছে ঝ্যাংকে। কিন্তু, ক্লাস থ্রি-তে থাকার সময়ে লসেই ছেলেটি জানায়, পড়ালেখা আর খেলাধুলার জন্য সে সময় পাচ্ছে না। এই কারণ দেখিয়ে ঝ্যাংয়ের পাশে আর সে থাকতে পারেনি।
কিন্তু জু সব সময়েই থাকে ঝ্যাংয়ের পাশে। জু কোনও সময় শিক্ষক বা ছাত্রদের সামনে কোনও অভিযোগও করে না, বলেন এক শিক্ষক।
এমনকী জুয়ের মা-ও শুরুতে জানতেন না, তাঁর ছেলের এই নিঃস্বার্থ কাজের কথা। কারণ পরিবারের সদস্যদের এটা নিয়ে কখনওই কিছু বলেনি স্বভাব-লাজুক জু। অন্য ছাত্রদের কাছ থেকে এক দিন তিনি জানতে পারেন ঝ্যাংয়ের কথা।