দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনাভাইরাস মোকাবিলায় জমায়েত না করার নির্দেশিকা জারি করেছে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক। একের পর এক রাজ্যে স্কুল, কলেজ, মল, রেস্তরাঁ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। এই অবস্থায় নজিরবিহীন ঘোষণা করল দেশের সর্বোচ্চ আদালতও। সুপ্রিম কোর্টের তরফে জানানো হয়েছে, করোনাভাইরাস সতর্কতার জেরে ভিডিও কনফারেন্সেই সারা হবে জরুরি মামলার শুনানি। আদালতে জমায়েত এড়াতেই এই সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেছে সুপ্রিম কোর্ট।
রবিবার রাতে করোনাভাইরাস মোকাবিলা নিয়ে একটি জরুরি মিটিং ডাকেন প্রধান বিচারপতি এসএ বোবদে। সেখানেই আলোচনা করা হয়, দেশের এই জরুরি পরিস্থিতিতে কীভাবে কাজ করা উচিত সুপ্রিম কোর্টের। কারণ দেশের নানা প্রান্তে যেভাবে ছড়াচ্ছে এই ভাইরাসের আক্রমণ, তাতে এক জায়গায় বহু মানুষের জমায়েত ঠিক নয়। অথচ আদালত মানেই সেখানে ভিড়ভাট্টা অবধারিত।
বোবদের ডাকা মিটিংয়ে উপস্থিত ছিলেন বিচারপতি অরুণ মিশ্র, ইউইউ ললিত, ডিওয়াই চন্দ্রচূড়, এল নাগেশ্বরা রাও প্রমুখ। এইমস ও আইসিএমআর-এর অভিজ্ঞ চিকিৎসকরাও ছিলেন মিটিংয়ে। সেখানেই সিদ্ধান্ত হয়, আপৎকালীন পরিস্থিতিতে আপাতত বন্ধ থাকবে আদালত। কিন্তু অতিজরুরি কিছু মামলার কারণে পুরোপুরি বন্ধ রাখা যাবে না কাজকর্ম। তাই ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে কিছু মামলার শুনানি করা হবে।
সুপ্রিম কোর্টের ই-কমিটির চেয়ারম্যান বিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রচূড় ঘোষণা করেন, মানুষের সঙ্গে মানুষের সংযোগ কমানোর জন্যই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আপাতত যে কোনও মামলাই ই-ফাইলিং করতে পারবেন আইনজীবীরা।
সুপ্রিম কোর্টের এই ঘোষণার আগেই কলকাতা হাইকোর্টে করনা-সতর্কতা জারি হয়েছে রবিবারই। কলকাতা হাইকোর্টের শুনানি আপাতত বন্ধ থাকবে। শুধু জরুরি মামলা ছাড়া ১৭ মার্চ থেকে ২০ মার্চ পর্যন্ত অন্য কোনও মামলার শুনানি হবে না আদালতে। রাজ্যের নিম্ন আদালতগুলিতেও একই নির্দেশিকা থাকছে।
করোনাভাইরাস মোকাবিলায় রবিবার বৈঠকে বসেন হাইকোর্টের তিন বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত, সঞ্জীব ব্যানার্জি ও ইন্দ্রপ্রসন্ন মুখার্জি। ওই বৈঠকে তাঁরা সিদ্ধান্ত নেন, সোমবার থেকে আদালতের তিনটি দরজায় থাকবেন চিকিৎসক। থাকবে থার্মাল স্ক্রিনিংয়ের ব্যবস্থা। কর্মীদের আদালতে না এসে, বাড়িতে থেকে কাজ না করার নির্দেশও দিয়েছেন কলকাতা হাইকোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল রাই চট্টোপাধ্যায়।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ভয়াল আকার নিয়েছে নোভেল করোনাভাইরাস। চিনের উহান শহর এর উৎসস্থল হলেও ইতালি, ফ্রান্স, জাপান, সৌদি আরব-সহ মোট ১৩৫টি দেশে থাবা বসিয়েছে করোনা। মারা গেছেন প্রায় হাজার পাঁচেক মানুষ। আক্রান্ত দেড় লক্ষ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা হু ইতিমধ্যেই বিশ্বজোড়া মহামারী বলে ঘোষণা করেছে এই অসুখকে। ভারতও ঝুঁকির বাইরে নেই। ইতিমধ্যেই দেড়শো জনেরও বেশি মানুষ আক্রান্ত করোনাভাইরাসে। মারা গেছেন দু'জন। এই পরিস্থিতিতে আতঙ্ক বাড়ছে বিশ্বের প্রতিটি কোণায়।