হায়দরাবাদ এনকাউন্টারের তদন্ত হোক সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির অধীনে, প্রস্তাব সর্বোচ্চ আদালতের
দ্য ওয়াল ব্যুরো: হায়দরাবাদে এনকাউন্টার মামলার তদন্ত হোক সুপ্রিম কোর্টের কোনও অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির অধীনে, বুধবার এই প্রস্তাব দিল দেশের সর্বোচ্চ আদালত। এনকাউন্টারে হায়দরাবাদের তরুণী পশুচিকিৎসককে গণধর্ষণ ও খুনে অভিযুক্ত চার জনের মৃত্যু হয়েছে
শেষ আপডেট: 11 December 2019 12:34
দ্য ওয়াল ব্যুরো: হায়দরাবাদে এনকাউন্টার মামলার তদন্ত হোক সুপ্রিম কোর্টের কোনও অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির অধীনে, বুধবার এই প্রস্তাব দিল দেশের সর্বোচ্চ আদালত। এনকাউন্টারে হায়দরাবাদের তরুণী পশুচিকিৎসককে গণধর্ষণ ও খুনে অভিযুক্ত চার জনের মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করে সাইবারাবাদ পুলিশ। তা নিয়ে একাধিক জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়েছে সুপ্রিম কোর্টে। আগামী কাল বৃহস্পতিবার এর শুনানি হওয়ার কথা থাকলেও তা স্থগিত করে দিয়ে দেশের সর্বোচ্চ আদালত এই প্রস্তাব দিয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টের কোন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির এই মামলার তদন্ত করতে পারেন, রাজ্য সরকার ও মামলাকারীকে সেই নাম প্রস্তাব করার জন্য বলেছে সুপ্রিম কোর্ট। দেশের প্রধান বিচারপতি জানান, এই দায়িত্ব নেওয়ার জন্য অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি পি রেড্ডিকে অনুরোধ করেছিল সুপ্রিম কোর্ট, কিন্তু তিনি রাজি হননি।
পুলিশের দাবি, মহম্মদ আরিফ, জল্লু শিবা, জল্লু নবীন ও চেন্নাকেশবালু নামে চার অভিযুক্তকে শেষ রাতে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল ঘটনার পুনর্নির্মাণ করতে, কিন্তু তাদের মধ্যে দু’জন পুলিশে বন্দুক ছিনিয়ে নিয়ে গুলি চালাতে শুরু করে। তখন পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়। তাতেই চার অভিযুক্তের মৃত্যু হয়।

৬ ডিসেম্বর ভোরে এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই নির্যাতিতা বিচার পেয়েছেন বলে অভিনন্দনের জোয়ারে ভেসে যায় সাইবারাবাদ পুলিশ ও এনকাউন্টার স্পেশালিস্ট ভিসি সজ্জনার। কিন্তু বিচারপ্রক্রিয়া এড়িয়ে পুলিশ নিজেই আইন হাতে তুলে নিয়েছে কিনা তা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। পুলিশের হেফাজতে মৃত্যু হওয়ায় এতে হস্তক্ষেপ করে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন।
সাইবারাবাদের পুলিশ কমিশনার ভিসি সজ্জনারের বক্তব্যকে চ্যালঞ্জ করে সর্বোচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হন জিএস মণি ও প্রদীপকুমার যাদব। পৃথক ভাবে আবেদন করেন অ্যাডভোকেট এমএল শর্মাও। মণি ও যাদব দাবি করেছিলেন নিরপেক্ষ তদন্তের, শর্মার দাবি ছিল সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিকে দিয়ে তদন্ত করানো। দ্রুত শুনানির আবেদনও তাঁরা করেন, প্রধান বিচারপতি বোবদে সেই আবেদন মঞ্জুর করেন। সাইবারাবাদের পুলিশ কমিশনারও দিল্লিতে যাচ্ছেন এই শুনানিতে উপস্থিত থাকতে।
ইতিমধ্যে তেলঙ্গানা হাইকোর্টও ওই চারজনের দেহ ১৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত সংরক্ষিত করার নির্দেশ দিয়েছে গান্ধী হাসপাতালকে, ওই দিন পরবর্তী শুনানি। বাতানুকূল অ্যাম্বুল্যান্সে করে দেহগুলি মেহবুবনগর গভর্নমেন্ট মেডিক্যাল কলেজ থেকে গান্ধী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
ইতিমধ্যেই জাতীয় মানবাধিকার কমিশন নিযুক্ত সাত সদস্যের প্রতিনিধি দল তদন্ত শেষ করেছে। দলের সদস্য হিসাবে একজন ফরেন্সিক মেডিসিন বিশেষজ্ঞ দেহগুলি পরীক্ষা করেছেন। এখনও সেই রিপোর্ট প্রকাশিত হয়নি।