দ্য ওয়াল ব্যুরো : কিছুদিন আগে স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া বলেছিল, ২০২০-২১ সালের আর্থিক বছরে ভারতের জিডিপি কমতে পারে ৬.৮ শতাংশ হারে। কিন্তু বৃহস্পতিবার স্টেট ব্যাঙ্ক ফের জানাল, রিয়েল জিডিপি ১০.৯ শতাংশ কমবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। মুদ্রাস্ফীতির হার হিসাব করে দেশে উৎপাদিত মোট পণ্য ও পরিষেবার যে মূল্য নির্ধারিত হয়, তাকে বলে রিয়েল জিডিপি।
গত সোমবারই কেন্দ্রীয় সরকার জানায়, চলতি আর্থিক বছরের প্রথম ত্রৈমাসিকে জিডিপি সংকুচিত হয়েছে ২৩.৯ শতাংশ হারে। করোনা অতিমহামারী ঠেকাতে গত ২৫ মার্চ থেকে দেশ জুড়ে লকডাউন জারি করা হয়। স্তব্ধ হয়ে পড়ে অর্থনীতি। সেজন্যই জিডিপি কমেছে।
নতুন আর্থিক বছরের প্রথম ত্রৈমাসিকে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে শিল্প। ওই সময় তার উৎপাদন কমেছে ৩৮.১ শতাংশ। আগের আর্থিক বছরে ওই সময় শিল্পের বিকাশ হয়েছিল ৪.২ শতাংশ হারে। জুন মাসে শেষ হওয়া ত্রৈমাসিকে পরিষেবা ক্ষেত্রের বিকাশ হয়েছে ২০.৬ শতাংশ কম।
এই পরিস্থিতিতে একমাত্র ভাল জায়গায় আছে কৃষি। সরকার কৃষকদের সাহায্য করার জন্য কয়েকটি পদক্ষেপ নিয়েছিল। ফলে জুনে শেষ হওয়া ত্রৈমাসিকে কৃষির বিকাশ হয়েছে ৩.৪ শতাংশ। যদিও অনেকে আশঙ্কা করছেন, দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে কৃষির অবস্থা অত ভাল নাও হতে পারে। কারণ ক্রমশ গ্রামেও ছড়িয়ে পড়ছে কোভিড ১৯।
স্টেট ব্যাঙ্কের ধারণা, দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে অর্থাৎ জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর মাসে জিডিপি কমবে ১২ থেকে ১৫ শতাংশ। তার পরের ত্রৈমাসিকে অর্থাৎ অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরে জিডিপি কমবে পাঁচ থেকে ১০ শতাংশ।
কিছুদিন আগে ব্লুমবার্গ নিউজ জানায়, ভারতের অর্থনীতি সম্ভবত সবচেয়ে খারাপ অবস্থা পেরিয়ে এসেছে। অর্থনীতিতে ফিরে আসছে ‘অ্যানিমাল স্পিরিট’। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে এখনও অনেক বাকি আছে।
ব্লুমবার্গ জানাচ্ছে, ভারতে ম্যানুফ্যাকচারিং ক্ষেত্র এখনও ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। দেশে চাহিদা কমেছে। সেই সঙ্গে কমেছে উৎপাদন। গত জুলাইতে তার আগের বছরের ওই সময়ের তুলনায় রফতানি কমেছে ১০.২ শতাংশ। কিন্তু জুনের তুলনায় রফতানি বেড়েছে ৭.৯ শতাংশ। তেল বাদে অন্যান্য পণ্যের রফতানি প্রায় আগের বছরের পর্যায়ে পৌঁছেছে। কৃষি পণ্যের রফতানি বৃদ্ধি পেয়েছে ২০ শতাংশ।
সারা দেশে আনলক পর্ব শুরু হলেও বাজারে চাহিদা খুব বেশি বাড়েনি। করোনা পরিস্থিতিতে অনেকে কাজ হারিয়েছেন। অনেকের বেতন কমেছে। রিজার্ভ ব্যাঙ্কের সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, গত জুলাই মাসে ক্রেতাদের আত্মবিশ্বাস ঠেকেছিল তলানিতে। অবশ্য এর মধ্যেও কেউ কেউ আশা করছেন, আগামী বছরে সব কিছু ঠিক হয়ে যাবে।
দেশে গাড়ি কী হারে বিক্রি হচ্ছে, তা দেখে ভোক্তাদের মনোভাব বোঝা যায়। গত জুলাইতে তার আগের বছরে ওই সময়ের তুলনায় গাড়ি বিক্রি কমেছে ১২ শতাংশ। জুন মাসে গাড়ি বিক্রি কমেছিল আগের বছরের তুলনায় ৫০ শতাংশ। সোসাইটি অব ইন্ডিয়ান অটোমোবাইল ম্যানুফ্যাকচারার্স এই তথ্য জানিয়েছে।