
শেষ আপডেট: 21 June 2022 09:37
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কেকে অনুষ্ঠানের খরচ ও টাকার উৎসের কথা ই–মেল করে সৌগত রায়কে (Saugata Roy) জানালো তৃণমূল ছাত্র পরিষদ। অনুষ্ঠানের মোট খরচ দেখানো হয়েছে ২০ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা। যা অনলাইনে মেটানো হয়েছে কলেজের অ্যাকাউন্ট থেকে ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট সংস্থাকে।
শনিবার বরাহনগরে ছাত্র পরিষদের এক কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সাংসদ সৌগতবাবু (Saugata Roy)। গঠনমূলক রাজনীতি নিয়ে ছাত্রদের পরামর্শ দিতে গিয়ে বক্তৃতায় সৌগতবাবু এক সময়ে বলেন, ‘এই যে কেকে গান গাইতে এসে মারা গেল, আমি শুধু ভাবি এই টাকা কোথা থেকে এল! ৩০ লাখ না ৫০ লাখ কত যেন লেগেছে শুনলাম! টাকা তো হাওয়া থেকে আসে না।’
সৌগত রায়ের ওই মন্তব্যের পর অস্বস্তিতে পড়ে শাসক দল ও তাদের ছাত্র সংগঠন। সৌগত রায়ের প্রশ্নের পরিপ্রেক্ষিতে পাল্টা জবাব দিয়েছিলেন তৃণমূল বিধায়ক মদন মিত্র। তিনি বলেছিলেন, ‘ওঁর বয়স হয়েছে, বয়স্ক মানুষ হিসেবে কখন কোথায় কী মন্তব্য করছেন তা নিয়ে জলঘোলা করা ঠিক নয়।’
এসবের মধ্যেই গতকাল, সোমবার ই–মেল করে কেকে–র অনুষ্ঠানের খরচের বিষয়ে সাংসদকে জানিয়েছেন তৃণমূল ছাত্র পরিষদ সভাপতি তৃণাঙ্কুর ভট্টাচার্য। তিনি দ্য ওয়াল–কে বলেন, ‘ওইদিনের কর্মসূচীতে আমি উপস্থিত ছিলাম। সৌগত রায় দলের বর্ষীয়ান সাংসদ। ও আমাদের অভিভাবকসম। তাঁর কথা আমরা মেনে চলি। তাই তাঁর প্রশ্নের উত্তর দেওয়া আমাদের কর্তব্য। ব্যক্তিগত স্তর থেকেই ওঁকে ই–মেলে অনুষ্ঠানের খরচের বিষয়ে সবটা জানিয়েছি। বিদ্যাসাগর কলেজ ও স্যর গুরুদাস মহাবিদ্যালয়ের ফেস্টে দু’দিনে মোট খরচ হয়েছিল ২০ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা। কলেজে ভর্তির সময়ই ওই টাকা ছাত্রদের ফি থেকে নেওয়া হয় ফেস্টের জন্য। দু’বছর করোনার জন্য ফেস্ট হয়নি। আমিও কেকে–র অনুষ্ঠানে ছিলাম। তাই আমিই সবটা জানিয়েছি মেল করে। তবে সবটাই ব্যাক্তিগত স্তরে। বলা হচ্ছিল মোট ৫০ লক্ষ টাকা খরচ হয়েছে। যা ঠিক নয়।’
গত ৩১ মে কলকাতার গুরুদাস মহাবিদ্যালয়ের ফেস্টে গান গাইতে এসেছিলেন বলিউডের জনপ্রিয় শিল্পী কৃষ্ণকুমার ওরফে কেকে। অনুষ্ঠান শেষে হোটেল ফেরার পরই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয় তাঁর। শিল্পীর মৃত্যু ঘিরে তৈরি হয় একাধিক বিতর্ক। অভিযোগ ওঠে অনুষ্ঠানের অব্যবস্থা নিয়েও। তবে সব ছাপিয়ে বিরোধীদের প্রশ্ন ছিল, মুম্বইয়ের জনপ্রিয় শিল্পীকে কলকাতায় আনতে কলেজের ছাত্র সংসদের কাছে এত টাকা কোথা থেকে এল। শাসক দলের সাংসদ সৌগত রায়ও সেই একই প্রশ্ন তুলেছিলেন। তৃণমূল ছাত্র পরিষদ এদিন ই–মেল করে টাকা ট্রানজেকশনের নথি পাঠিয়েছে।