
শেষ আপডেট: 5 May 2023 07:06
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সৌরমণ্ডলের ষষ্ঠ সুদর্শন গ্রহ কি জৌলুস হারাচ্ছে?
কোটি বছর আগেও এমনটা ছিল না। নবগ্রহের সংসারে সবচেয়ে হ্যান্ডসাম তাকেই বলা হত। সাতখানা রিং যেন সপ্তমুকুট। গুরুগ্রহ বৃহস্পতির পরে রাজকীয় গ্রহ শনির (Saturn) গ্ল্যামারই আলাদা। জন্মলগ্নে এতটা সুদর্শন ছিল না সে। মাঝ বয়স থেকেই তার রূপ খুলতে শুরু করে। বলয়ের বেষ্টনীতে শনির দ্যুতি চোখ ধাঁধিয়ে দিত মহাকাশচারীদের। নাসার ক্যাসিনি ও ভয়েজার মহাকাশযানের পাঠানো ছবি ও ভিডিওতে শনির সেই রূপ ধরা পড়েছে।
কিন্তু দুঃখের বিষয় নাসার বিজ্ঞানীরা বলছেন, রূপের আগুন নিভছে শনির। তার রিং-গুলো ভেঙে পড়তে শুরু করেছে। জমাট বাঁধা বরফ আর গ্যাস দিয়ে তৈরি বলয়গুলো ক্ষয়ে যাচ্ছে। খুব দ্রুত ক্ষয়ে যাচ্ছে। বলয়ে জমে থাকা বরফ অত্যন্ত দ্রুত হারে ঝরে পড়ছে। সৌন্দর্য কমছে রূপবান গ্রহের।

'ক্যাসিনি' মহাকাশযানের পাঠানো তথ্য বিশ্লেষণ করে মেরিল্যান্ডে নাসার গর্ডার্ড স্পেস সেন্টারের জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা বলছেন, শনিতে চোখে পড়ার মতো বলয়ের সংখ্যা ৭ থেকে ৮টি। তাদের নাম দেওয়া হয়েছে, ‘এ-রিং’, ‘বি-রিং’, সি-রিং’, ডি-রিং’, ‘ই-রিং’, ‘এফ-রিং’, ‘জি-রিং’, ‘এইচ-রিং’। তবে জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা বলছেন, সবচেয়ে বড় বলয় তিনটি--এ-রিং, বি-রিং ও সি-রিং। আরও কয়েকটা ছোট ছোট বলয়ও শনিকে ঘিরে আছে।
শনির এই বলয়গুলোর বিস্তৃতি ১,৭৫,০০০ মাইল বা ২ লক্ষ ৮২ হাজার কিলোমিটার। উল্লম্বভাবে উচ্চতা ৩০ ফুটের মতো। শনি গ্রহ আর বলয়ের মাঝের দূরত্ব প্রায় ৪,৭০০ কিলোমিটার। শনির সবচেয়ে দূরের বলয়টিকে প্রথম খুঁজে পেয়েছিল ‘পাইওনিয়ার ১১’ মহাকাশযান, ১৯৭৯ সালে। শনির লক্ষ-লক্ষ কিলোমিটার চওড়া আদিতম বলয়গুলির চেয়ে অনেক-অনেক দূরে থাকা এই ‘এফ রিং’-এর ভেতর ও বাইরে রয়েছে দুটি উপগ্রহ। ‘প্রমিথিউস’ আর ‘প্যান্ডোরা’।
গবেষকরা ক্যাসিনি মহাকাশযানের পাঠানো তথ্য খতিয়ে দেখে জানতে পেরেছেন, আর বড়জোর ১০ কোটি বছর। তার পর আর একটিও বলয় থাকবে না শনির। তা হয়ে পড়বে একেবারেই গ্ল্যামারহীন!
গপ করে আস্ত গ্রহকে গিলে ফেলল বুড়ো রাক্ষস, মৃত্যুর আগে নক্ষত্রের শেষ শিকার
কিন্তু কেন ক্ষয়ে যাচ্ছে শনির বলয়? নাসার বিজ্ঞানীরা বলছেন, বৃষ্টির মতো বরফ ঝরে পড়ছে শনি ও তার বলয়গুলিতে। এই বরফ পড়তে এখন যে দশা হয়েছে শনির 'সি-রিং' বা 'সি-বলয়'-এর, ১০ কোটি বছর তার সবচেয়ে পুরু 'বি-রিং' বা 'বি-বলয়'-এর সেই দশাই হবে। ফলে, ওই সময় তার গ্ল্যামার হারানোর প্রায় শেষ পর্যায়ে পৌঁছে যাবে শনি।

কেন বরফের বৃষ্টি হচ্ছে শনির বলয়গুলি থেকে?
শনি গ্রহের জোরালো অভিকর্ষ বল ও চৌম্বক ক্ষেত্রের টানেই বলয় থেকে বরফের বৃষ্টি হচ্ছে শনির বুকে। তবে সব সময় তা সমান হারে হচ্ছে কি না, তা বোঝা যায়নি। সূর্যকে প্রদক্ষিণ করতে পৃথিবীর যেমন এক বছর লাগে, তেমনই শনির লাগে প্রায় সাড়ে ২৯ বছর (২৯ বছর ৪ মাস)। ওই প্রদক্ষিণের সময় সূর্যের সঙ্গে তার কৌণিক অবস্থানে শনি কখন এই সৌরমণ্ডলের নক্ষত্রের কতটা কাছাকাছি আসছে বা থাকছে বা কত ক্ষণ থাকছে, তার উপরে ওই বরফ বৃষ্টির পরিমাণে বাড়া-কমা নির্ভর করছে। শনির বলয়গুলির বয়স বেশি নয়, মাত্র ১০ কোটি বছর। বিজ্ঞানীদের ধারণা, আধ ঘণ্টা বরফের বৃষ্টি হলে তা আস্ত একটা অলিম্পিকের পুল ভরিয়ে দিতে পারে। এমন বরফের বৃষ্টি যদি হতেই থাকে, তাহলে একটা সময় গিয়ে সবকটি বলয়ই হারিয়ে ফেলবে শনি।