দ্য ওয়াল ব্যুরো : একবছর আগে কংগ্রেসের ২৩ জন বর্ষীয়ান নেতা দলনেত্রী সনিয়া গান্ধীকে (Sonia Gandhi) চিঠি লিখে বলেন, দলে সর্বক্ষণের সভাপতি চাই। ওই ২৩ জন নেতা জি-২৩ নামে পরিচিত। এবার জি-২৩-এর অন্যতম নেতা শশী তারুর দাবি করলেন, দলে নতুন নেতৃত্ব চাই। শনিবার তিনি বলেন, সনিয়া গান্ধীর বিরুদ্ধে কেউ অভিযোগ তোলেনি। কিন্তু তিনি নিজেই বলেছেন, পদত্যাগ করতে চান। শশী তারুরের মতে, এরপর যদি প্রাক্তন সভাপতি রাহুল গান্ধী ফের সভাপতি হতে চান, তাহলে দ্রুত তাঁর সেই পদ গ্রহণ করা উচিত।
এদিনই জানা যায়, দলের বিধায়কদের চাপে ইস্তফা দিতে চলেছেন পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী অমরিন্দর সিং। বিকালে মুখ্যমন্ত্রীর ছেলে রনিন্দর সিং টুইট করে বলেন, "আমার বাবা রাজভবনে ইস্তফা দিতে যাবেন। আমিও তাঁর সঙ্গে যাব।"
কংগ্রেসের দলীয় সূত্রে খবর, এদিন সকালেই অমরিন্দর ফোনে দলনেত্রী সনিয়া গান্ধীকে বলেন, তিনি অনেক অপমান সহ্য করেছেন। আর পারছেন না।
১১৭ সদস্যের পাঞ্জাব বিধানসভায় কংগ্রেস বিধায়কের সংখ্যা ৮০। তাঁদের মধ্যে ৫০ জন সনিয়াকে চিঠি লিখে বলেছিলেন, অবিলম্বে মুখ্যমন্ত্রী বদল করা প্রয়োজন। পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে তিনজনের নাম শোনা যাচ্ছে। তাঁরা হলেন পাঞ্জাব প্রদেশ কংগ্রেসের প্রাক্তন সভাপতি সুনীল জাখর, প্রতাপ সিং বাজওয়া এবং বিয়ন্ত সিং-এর নাতি রভনীত সিং বিট্টু।
২০১৭ সাল থেকে প্রাক্তন ক্রিকেটার তথা রাজনীতিক নভজ্যোৎ সিং সিধুর সঙ্গে অমরিন্দর সিং-এর অশান্তি চলছে। অমরিন্দরের আপত্তি সত্ত্বেও গত জুলাইতে সিধুকে প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতি করে হাইকম্যান্ড। তার আগে দলনেত্রী সনিয়া গান্ধী, প্রাক্তন কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী ও কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক প্রিয়ঙ্কা গান্ধী দফায় দফায় অমরিন্দর সিং ও সিধুর সঙ্গে বৈঠকে বসেন। পরে সিধু ও অমরিন্দরকে চায়ের আসরে দেখা যায়। তারপর রাহুল সাংবাদিকদের বলেন, “আপনারা দেখতেই পাচ্ছেন, পাঞ্জাব সংকটের সমাধান হয়েছে।”
পাঞ্জাব প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতি হওয়ার পরে সিধু চিঠি লেখেন অমরিন্দর সিংকে। তিনি বলেন, সনিয়া গান্ধীর জন্যই তিনি দলে উঁচু পদ পেয়েছেন। তিনি লেখেন, “আমার কোনও ব্যক্তিগত স্বার্থ নেই। আমি মানুষের পক্ষে কথা বলি। আপনি পাঞ্জাব কংগ্রেস পরিবারে সবচেয়ে বয়স্ক। আপনি দয়া করে প্রদেশ কংগ্রেসের নতুন টিমকে আশীর্বাদ করুন।”
এরপর সিধু তাঁর কয়েকজন উপদেষ্টা নিয়োগ করেন। তাঁদের নিয়ে অমরিন্দরের সঙ্গে সিধুর নতুন করে বিরোধ শুরু হয়। পরে বিধায়কদের এক বড় অংশ ফের বলতে থাকেন, অবিলম্বে অমরিন্দর সিংকে সরানো উচিত। কারণ তিনি নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পালন করতে পারেন না। অবশেষে সেই চাপের কাছে নতিস্বীকার করলেন বর্ষীয়ান ক্যাপটেন অমরিন্দর সিং।