
শেষ আপডেট: 13 March 2024 18:37
দ্য ওয়াল ব্যুরো: টিকিট না পেয়ে শিবির বদলের পথে ব্যারাকপুরের বিজেপি সাংসদ অর্জুন সিং। প্রার্থী তালিকায় নাম দেখতে না পেয়ে অভিমানে দলের সমস্ত পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন অভিনেত্রী সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। প্রকাশ্যে বিদ্রোহ ঘোষণা করে হাওড়া থেকে ভোটে নির্দল হিসেবে লড়ার ঘোষণা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রীর ভাই বাবুন বন্দ্যোপাধ্যায়ও। টিকিট না পেয়ে নিজের অভিমান চেপে রাখেননি তৃণমূলের রাজ্যসভার বিদায়ী সাংসদ-চিকিৎসক শান্তনু সেনও।
তবে দুপুরে শিলিগুড়ির সাংবাদিক বৈঠক থেকে মুখ্যমন্ত্রী নিজের ভাইয়ের সঙ্গে সমস্ত সম্পর্ক ত্যাগের কথা ঘোষণার পরই পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করে। দিদির বকুনি খেয়ে ইতিমধ্যে নিজের ভুল শুধরে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বাবুন বলেছেন, “দিদির কথা আমার কাছে আর্শীবাদের মতো! নির্দল হিসেবে ভোটে লড়ব না।”
শান্তনু বললেন, “আমি তৃণমূলের একজন অনুগত সৈনিক, দল ছাড়া কিছু বুঝি না। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমাকে রাজ্যসভায় কাজ করার সুযোগ করে দিয়েছিলেন। ৬ বছর প্রাণপাত করে কাজ করেছি। পরিসংখ্যান বলবে, অন্য অনেকের থেকে আমার পারফরম্যান্স কত ভাল ছিল। বিজেপির বিরোধিতার ক্ষেত্রেও আমি অগ্রপশ্চাৎ না ভেবে উগ্রভাবে বিজেপি বিরোধিতা করেছি। ভেবেছিলাম, পুর্নমূল্যায়ণ হবে।“
দলকে শান্তনু নিজেই জানিয়েছিলেন, ‘পার্লামেন্টারি পলিটিক্সটা ভালবাসি। লোকসভায় যদি সুযোগ পাই!’ বলছিলেন, “আশা করেছিলাম, লোকসভার টিকিট পাব। সেটা হয়নি। ফলে দুঃখ আছে, কষ্ট আছে, চোখে জল আছে। তবে এটা বিশ্বাস করি, আজ মূল্যায়ণ হয়নি, পরে নিশ্চয়ই হবে।“
দলেরই একাংশের প্রশ্ন, তাই যদি হবে তাহলে দলের অভ্যন্তরে না জানিয়ে নিজের অভিমানের কথা মিডিয়ায় কেন জানাতে গেলেন? তাঁদের মতে, দলের শৃঙ্খলার প্রশ্নে এদিন যেভাবে নিজের ভাইকে ত্যাজ্য ঘোষণা করেন তৃণমূল নেত্রী, তাতে স্পষ্ট হয়ে যায়, দলের ক্ষতি হোক এমন কোনও কাজের ক্ষেত্রে কাউকেই তিনি রেয়াত করবেন না। এরপরই অর্জুন সিং ছাড়া বাকি 'বিদ্রোহী'দের সুর নরম হতে শুরু করেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
শান্তনু আরও বলেন, “আমার বয়স ৫১ বছর, তবে মনের দিক থেকে আমি এখনও ১৮ বছরের যুবকের মতো কাজ করার মানসিকতা রাখি।” আপনি কি দলের নবীন-প্রবীণ প্রসঙ্গের ইঙ্গিত করছেন। 'নো কমেন্টস' বলে প্রসঙ্গ এড়িয়েছেন রাজ্যসভার বিদায়ী সাংসদ।