
শেষ আপডেট: 1 August 2022 10:32
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শিবসেনা নেতা সঞ্জয় রাউতকে (Sanjay Raut) রবিবার গভীর রাতে শেষ পর্যন্ত গ্রেফতার করেছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। সঞ্জয় রাউতের পাশাশাশি এই গ্রেফতার শিবসেনা, বিশেষ করে উদ্ধব ঠাকরের (Uddhav Thackrey) জন্য বড় ধাক্কা।
শিবসেনার (Shiv Sena) বিদ্রোহ, তার আগে সরকার পরিচালনা নিয়ে পদে পদে বিরোধ-বিবাদে সঞ্জয় ছিলেন উদ্ধবের প্রধান সঙ্গী। বহু দিন ধরেই তিনি শিবসেনা প্রধানের ফ্রেন্ড ফিলোজফার গাইড। বছর তিরিশের বেশি শিবসেনার মুখপত্র সামনার সম্পাদক।
সেই বালা সাহেব ঠাকরের সময় থেকে শিবসেনার প্রতি রবিবার সামনায় সঞ্জয়ের কলম শিব সৈনিকদের কাছে মহৌষধ হিসাবে কাজ করে আসছে। উদ্ধবের মুখ্যমন্ত্রিত্ব যাওয়ার মতোই সঞ্জয় রাউতের গ্রেফতারি শিব সৈনিকদের কাছে তাই বিরাট ধাক্কা বলে মনে করছে মহারাষ্ট্রের রাজনৈতিক মহল। বিশেষ করে রাজ্যে যখন ক্ষমতায় একনাথ শিন্ডে-বিজেপি সরকার।
শিবসেনার পরিবারে প্রভাব তৈরির পাশাপাশি দলে ও রাজনীতিতে সঞ্জয় রাউতের উত্থানও অবাক করা। তরুণ বয়সে ছিলেন ক্রাইম রিপোর্টার। মুম্বইয়ের অপরাধ জগতের খবরাখবর একটা সময় তাঁর রিপোর্ট পড়েই জানত গোটা রাজ্য।
সেই সূত্রে বালা সাহেব ঠাকরের নজরে পড়ে যান। ঠাকরে একদিন ডেকে বলেন, সামনার ভার নিতে। বালা সাহেব নিজে তখন পত্রিকার সম্পাদক। বছর তিরিশের সঞ্জয়কে এক্সিকিউটিভ এডিটর করে তাঁর হাতে তুলে দেন সামনা পরিচালনার পুরো ভার। বলা হয়, সঞ্জয়ের ধারালো কলমও শিবসেনার প্রভাব এবং সামনার প্রচার বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়।
তাঁর ঘনিষ্ঠ মহলের বক্তব্য, ক্রাইম রিপোর্টার হিসাবেও সঞ্জয় রাউত ছিলেন ভিন্ন প্রকৃতির সাংবাদিক। খবরের সন্ধানে থানা পুলিশের কাছে যেতেন কদাচিৎ। অপরাধ জগতের খবর তাঁকে দিত অপরাধ জগতের লোকেরাই।
সঞ্জয়ের সোর্সদের অন্যতম ছিল মুম্বইয়ের অপরাধ জগতের একটা সময়ের মুকুটহীন সম্রাট দাউদ ইব্রাহিম এবং তাঁর সঙ্গীসাথী ছোটা রাজন, ছোটা শাকিলরা।
লোকপ্রভা নামে যে খবরের কাগজে সঞ্জয় চাকরি করতেন, ১৯৯৩- এ মুম্বই বিস্ফোরণের আগে সেই কাগজের ক্যান্টিনে প্রায়ই দাউদকে দেখা যেত সঞ্জয়ের সঙ্গে আড্ডা দিতে। বলা হয়, দুজনের এমনই সম্পর্ক ছিল যে নিজের অপরাধের কথাও সঞ্জয়কে বলত দাউদ।
সেই সঞ্জয় রাউত বালা সাহেবের নজরে পড়েন ক্রাইম রিপোর্টার হিসাবে তাঁর বাহাদুরির জন্যই। সামনার দায়িত্ব সামলানোর সুবাদে শুরু হয় বাল ঠাকরের বাড়ি মাতশ্রী-তে যাতায়াত। ক্রমে উদ্ধবের সঙ্গেও ঘনিষ্ঠতা। বলা হয়, সেই থেকে উদ্ধবের বিপত্তারনের নাম সঞ্জয় রাউত।
মহারাষ্ট্রে শিবসেনার বিজেপির সঙ্গ ত্যাগ, কংগ্রেস ও এনসিপির সঙ্গে জোট সরকার গঠন ইত্যাদিতে সঞ্জয় ছিলেন উদ্ধবের থিঙ্ক ট্যাঙ্ক। রাজনৈতিক মহলে বলা হয়, মহারাষ্ট্রে শিবসেনার সঙ্গে জোট ভেঙে যাওয়ার জন্য উদ্ধবের থেকেও বিজেপির বেশি রাগ ছিল সঞ্জয়ের উপরই।
উদ্ধবের সেই নির্ভরযোগ্য রাজনৈতিক সঙ্গীকে ইডির হেফাজতে কতদিন থাকতে হয় সেটাই এখন দেখার। দল, দলে তাঁর নেতৃত্ব, কর্তৃত্ত্ব নিয়ে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার সময় সঞ্জয়ের গ্রেফতারে উদ্ধব আরও অসহায় অবস্থার মধ্যে পড়লেন, সন্দেহ নেই। আজ যখন তাঁকে আদালতে তোলা হয় তখন তাঁর পরিবারকে সান্ত্বনা দিতে সঞ্জয়ের বাড়ি ছোটেন উদ্ধব।
৬ ঘণ্টা টানা জেরা, গভীর রাতে শিবসেনা মুখপাত্র সঞ্জয় রাউতকে গ্রেফতার করল ইডি