সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের সদস্যদের বক্তব্য, এই আন্দোলন শুধুমাত্র চাকরির জন্য নয়, এটি ন্যায়, স্বচ্ছতা ও গণতন্ত্র রক্ষার লড়াই।

নিজস্ব চিত্র।
শেষ আপডেট: 22 October 2025 17:56
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্যের রাজনৈতিক পরিসরে বুধবার ছিল এক প্রতীকী প্রতিবাদের দিন। সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের (Sangrami Joutha Mancha) আন্দোলনের ১০০০ তম দিনে সংগঠনের আহ্বায়ক ভাস্কর ঘোষ রাজ্য সরকারের ভূমিকার প্রতি তীব্র কটাক্ষ (Criticizes State Government) করে বলেন, মানুষ একসময় ভেবেছিল এই সরকার তুলসীপাতার মতো আশার প্রতীক হবে, কিন্তু বাস্তবে এই সরকার পরিণত হয়েছে বিছুটি পাতায়। তাঁর অভিযোগ, সরকার নিজের কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলে না, সাধারণ মানুষের সমস্যাও বোঝে না।
সরকারের শিক্ষা ব্যবস্থার প্রতি অবহেলার প্রতিবাদে ভাস্কর ঘোষ ঘোষণা করেন, শহীদ মিনারের পাশে অর্থাৎ সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের আন্দোলন মঞ্চের বাইরেই বিছুটি গাছ রোপণ করা হবে। পরে সংগঠনের অন্যান্য সদস্যরা প্রতীকী প্রতিবাদের অংশ হিসেবে বিছুটি গাছ লাগান, যা সরকারের প্রতি তাদের ক্ষোভ ও বঞ্চনার প্রতীক হয়ে ওঠে।
বুধবার বেলা বারোটা থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত চলা প্রেস কনফারেন্সে উপস্থিত ছিলেন ভাস্কর ঘোষ ও সংগঠনের অন্যান্য সদস্যরা। তিনি বলেন, সরকার প্রশাসনিক স্বচ্ছতা হারিয়েছে এবং কর্মচারীদের ন্যায্য দাবি উপেক্ষা করছে।
ভাস্কর ঘোষ আরও জানান, আগামী চার মাস পর রাজ্যে ভোট, তাই এই সময়ে রাজ্য সরকারকে শান্তিতে থাকতে দেওয়া হবে না। অস্থায়ী কর্মচারীদের স্থায়ীকরণ ও স্বচ্ছ নিয়োগের দাবিতে আন্দোলন আরও তীব্র হবে। তিনি সতর্ক করে দেন, সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টের যে রায় আন্দোলনকারীদের পক্ষে এসেছে, তার বিরুদ্ধে যদি রাজ্য সরকার কোনো রিভিউ পিটিশন দায়ের করে, তবে সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের প্রতিবাদ আরও বিস্ফোরক আকারে হবে।
তিনি বলেন, যেসব শিক্ষককে বিএলও-র দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, তাদের হেনস্থা করা হলে সংগঠন আরও কঠোর অবস্থান নেবে। এজন্য একটি হেল্পডেক্স চালু করা হচ্ছে, যেখানে দায়িত্বপ্রাপ্ত বিএল ওরা নিজেদের অভিযোগ ও সমস্যার কথা জানাতে পারবেন এবং তাদের গোপনীয়তা রক্ষা করা হবে। পাশাপাশি সরকারি কর্মচারীদের সমস্যা ও অভিযোগ শোনার জন্য সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের ছত্রছায়ায় একটি নতুন সংগঠন গঠনেরও ঘোষণা দেন তিনি।
সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের সদস্যদের বক্তব্য, এই আন্দোলন শুধুমাত্র চাকরির জন্য নয়, এটি ন্যায়, স্বচ্ছতা ও গণতন্ত্র রক্ষার লড়াই।