
শেষ আপডেট: 1 March 2024 18:42
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সন্দেশখালিতে ইডির ওপর হামলার ঘটনায় শেখ শাহজাহান নিজের অপরাধ কবুল করেছে বলে বৃহস্পতিবারই বসিরহাট জেলা আদালতে দাবি করেছিল পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছিল, ভারতীয় দণ্ডবিধির ফৌজদারি ১৬১ এ ধারায় শেখ শাহজাহান ইডি-র ওপর হামলার বিষয়টি স্বীকার করেছেন।
বৃহস্পতিবারই রাজ্য পুলিশের হাত থেকে শাহজাহানকে নিজেদের হেফাজতে নেয় সিআইডি। সূত্রের দাবি, সিআইডির হেফাজতে যাওয়ার পরই নিজের বয়ান বদলেছেন 'সন্দেশখালির বাঘ'!
সূত্রের খবর, শাহজাহানকে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার পর বৃহস্পতিবার রাত এবং শুক্রবার দফায় দফায় জেরা করেন তদন্তকারীরা। সেখানেই নিজের পুরনো বয়ান থেকে সরে এসেছেন শাহজাহান। সিআইডির কাছে সন্দেশখালির তৃণমূল নেতার দাবি, ৫ জানুয়ারি সরবেড়িয়ায় ইডি-র ওপর হামলার ঘটনায় তাঁর কোনও যোগ নেই।
বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতে পুলিশের অন্দরেও শোরগোল তৈরি হয়েছে। কারণ গ্রেফতারের পর সে নিজেই পুলিশের কাছে স্বীকার করেছিল, তাঁর নেতৃত্বেই সেদিন পুলিশের ওপর হামলা হয়। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কেন নিজের বয়ান বদলালেন শেখ শাহজাহান?
পুলিশের একটি অংশের মতে, আইনজীবীর সঙ্গে শলা পরামর্শের পরই নিজের বয়ান বদলেছেন শাহজাহান। ওই মহলের মতে, ইডির আধিকারিকদের ওপর হামলায় যুক্ত থাকার দায় স্বীকার করে নেওয়ায় শাহজাহানের বিরুদ্ধে বড়সড় অপরাধ সংগঠিত করার অভিযোগ প্রতিষ্ঠা পাচ্ছিল। সে কারণেই আইনজীবীদের পরামর্শে তিনি নিজের বয়ান বদল করেছেন বলে মনে করা হচ্ছে।
গত ৫ জানুয়ারি সকালে সন্দেশখালিতে শাহজাহানের বাড়িতে তল্লাশি চালাতে গিয়েছিলেন ইডি অফিসাররা। তারা শাহজাহানের বাড়ির গেট খোলার যখন চেষ্টা করেন, তখন পিছন থেকে ইটবৃষ্টি শুরু হয়। তাতে তিন জন অফিসারের মাথা ফাটে। তাঁদের চিকিৎসার জন্য কলকাতার বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
সন্দেশখালি কাণ্ডের পরই রাজ্য পুলিশের ভূমিকা নিয়ে সরব হয়েছিলেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস থেকে কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। রাজ্যে অবিলম্বে কেন্দ্রীয় ফোর্স পাঠানোর আর্জি জানিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে চিঠি দিয়েছিল বিজেপি। অবশেষে হামলার ৫৬ দিনের মাথায় বৃহস্পতিবার ভোর রাতে মিনাখাঁ থেকে শাহজাহানকে গ্রেফতার করে রাজ্য পুলিশ।