
সন্দেশখালির রাস্তায় গড়াচ্ছে এনএসজির রোবট
শেষ আপডেট: 26 April 2024 20:50
দ্য় ওয়াল ব্যুরো, উত্তর ২৪ পরগনা: সন্দেশখালিতে তৃণমূল পঞ্চায়েত সদস্যের আত্মীয়ের বাড়িতে বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র ও প্রচুর পরিমাণ বোমা উদ্ধারের পরে বিকেলে এনএসজিকে ডেকেছিল সিবিআই। বিস্ফোরক উদ্ধার করতে তৈরি হয়েছিলেন এনএসজির কম্যান্ডোরা। ঘড়ির কাঁটায় তখন বিকেল ৫ টা ৪২। টানটান উত্তেজনা সন্দেশখালির আগারহাটি গ্রাম পঞ্চায়েতের মল্লিকপাড়ায়। পজিশন নিচ্ছেন এনএসজি কম্যান্ডোরা। ধীরে ধীরে এগোচ্ছে এনএসজির রোবট। বিস্ফোরণের আতঙ্কে তখন থরথর করে কাঁপছে সন্দেশখালি। কিন্তু বিকেল গড়িয়ে সন্ধে নামলেও বিস্ফোরক নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে কিনা বা কী ধরনের বিস্ফোরক উদ্ধার হয়েছে সে বিষয়েও কোনও নির্ভরযোগ্য তথ্য সন্ধে সাড়ে সাতটা পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।
ভেড়ির পাড়ে জমা করা হয়েছে বালির বস্তা। এই বস্তা দিয়েই ঘিরে ফেলা হয় ভেড়ির ধার। নিষ্ক্রিয় করার জন্য ‘বিস্ফোরক’ বোঝাই ব্যাগ নিয়ে এনএসজির রোবটটি পৌঁছে যায় নির্ধারিত জায়গায়। ৬টা ৫ মিনিট নাগাদ ব্যাগটি নামিয়ে ফিরে আসে রোবট। তারপরেই এনএসজি কম্যান্ডোরা তা নিষ্ক্রিয় করার কাজ শুরু করে। সন্ধে সাড়ে সাতটাতেও বিস্ফোরক নিষ্ক্রিয় করার প্রস্ততি চলছে।
সাধারণ মানুষের মনে শুধু একটাই প্রশ্ন কী ধরণের বিস্ফোরক রয়েছে ওই ব্যাগে। অতীতে বোমা নিষ্ক্রিয় করার জন্য এনএসজিকে ডাকা হয়েছে এমন ঘটনা কারওই মনে নেই। স্মৃতি ঘেঁটেও বাংলার মাটিতে এমন কোনও এনএসজির অভিযানের কথা মনেই পড়ছে না। তাই সকলেই সন্দেশখালির দিকে নজর রেখেছেন।
নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার দিনই সন্দেশখালিতে অস্ত্র উদ্ধার ও এনএসজির অভিযান নিয়ে রাজ্য রাজনীতিও সরগরম হয়ে উঠেছে। বিরোধী নেতা শুভেন্দু অধিকারীর দাবি, সন্দেশখালিতে আরডিএক্স পাওয়া গিয়েছে। সেটাই নিষ্ক্রিয় করতে এনএসজিকে ডেকে পাঠিয়েছে সিবিআই। তিনি দাবি করেন তৃণমূলকে জঙ্গি সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করা হোক।
তৃণমূলের রাজ্যের সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ এই ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, এটি একটি সাজানো চিত্রনাট্য। ষোল আনা সাজানো। বেছে বেছে এমন দিনে সন্দেশখালির জন্য এই চিত্রনাট্য তৈরি করা হয়েছে যাতে ভোটকে প্রভাবিত করা যায়।