
কলকাতা হাইকোর্টে গঙ্গাধর কয়ালের মামলা
শেষ আপডেট: 14 May 2024 17:52
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সন্দেশখালির বিজেপি নেতা গঙ্গাধর কয়ালের বিরুদ্ধে এখনই কোনও কড়া পদক্ষেপ নয়, আপাতত কোনও ব্যবস্থা নিতে পারবে না রাজ্য পুলিশ। মৌখিকভাবে জানিয়ে দিল কলকাতা হাইকোর্ট।
সন্দেশখালি নিয়ে একাধিক ভিডিও সম্প্রতি ভাইরাল হয়েছে। দ্য ওয়াল কোনও ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেনি। এর মধ্যে প্রথম ভিডিওতে স্থানীয় বিজেপি নেতা গঙ্গাধর কয়ালকে বলতে শোনা যায়, সন্দেশখালির ঘটনা সাজানো। ধর্ষণের অভিযোগ মিথ্যে।
এদিকে যে যে ভিডিও ভাইরাল হয়েছে তা সবই ভুয়ো, এমন দাবিতে কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা চেয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন বিজেপি নেতা গঙ্গাধর কয়াল। মঙ্গলবার বিচারপতি জয় সেনগুপ্তর এজলাসে সংশ্লিষ্ট মামলার শুনানি ছিল।
এদিন বিচারপতি সেনগুপ্ত জানান, সন্দেশখালি মামলার তদন্ত প্রধান বিচারপতি ডিভিশন বেঞ্চের নজরদারিতে চলছে। সিবিআই এই ঘটনার তদন্ত করছে। তাই এই আবেদনেরও শুনানি প্রধান বিচারপতি বেঞ্চে হওয়া উচিত। শুধু তাই নয়, বিচারপতি এপ্রসঙ্গে আরও বলেন, ‘‘মিথ্যা মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে। আর তাতে থানায় এফআইআর রুজু কিসের ভিত্তিতে করা হল? ম্যাজিস্ট্রেটের অনুমতি সাপেক্ষে এই এফআইআর করার সিদ্ধান্ত হওয়া উচিত ছিল।’’ এরপরই এই মামলার শুনানি পিছিয়ে দেন বিচারপতি সেনগুপ্ত। আগামী শুক্রবার মামলাটির পরবর্তী শুনানি রয়েছে।
বেশ কয়েকদিন আগে সন্দেশখালি নিয়ে প্রথম ভিডিও সামনে এসেছিল। সেখানেই বিজেপি নেতা গঙ্গাধরকে বলতে শোনা গেছিল, বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী টাকা দিয়ে অভিযোগকারী মহিলাদের সাহায্য করেছেন। সন্দেশখালির ঘটনা পুরোটাই সাজানো। ২০০০ টাকা দিয়ে তাদের ভুয়ো অভিযোগ করতে বলা হয়েছিল। এই ভিডিও প্রকাশ্যে আসতেই তোলপাড় শুরু হয় রাজ্যে। তবে এই একটি নয়, সন্দেশখালি নিয়ে আরও কয়েকটি ভিডিও ইতিমধ্যে ভাইরাল হয়েছে।
অন্য একটি ভাইরাল ভিডিওতে রাষ্ট্রপতি ভবনে গিয়ে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে দেখা করা নির্যাতিতাদের পরিচয় নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন বসিরহাটের বিজেপি প্রার্থী রেখা পাত্র। পাশাপাশি আর একটি ভিডিওতে এক মহিলাকে বলতে শোনা গেছে, সাদা কাগজে সই করিয়ে পরে সেখানে ধর্ষণের অভিযোগ লেখা হয়েছিল। গোটা ঘটনায় সন্দেশখালি থানায় মামলা দায়ের হয়েছে গঙ্গাধর কয়াল, রেখা পাত্র সহ একাধিক স্থানীয় বিজেপি নেতাদের বিরুদ্ধে।
ধর্ষণের ভুয়ো অভিযোগ লেখানো হয়েছিল বলে যে মহিলা দাবি করেছেন, তিনিই বলেছেন এই কাজ তাঁকে দিয়ে করিয়েছিলেন মাম্পি দাস, যিনি সন্দেশখালির আন্দোলনের অন্যতম মুখ। তাঁকেও তলব করেছে পুলিশ। তিন দিনের মধ্যে সন্দেশখালি থানায় হাজিরা দিতে বলা হয়েছে তাঁকে। জানা গেছে, তাঁর বয়ান রেকর্ড করা হবে। যদিও বিজেপি দাবি করছে, তৃণমূল ভুয়ো ভিডিও তৈরি করে সন্দেশখালি নিয়ে মানুষের ক্ষোভ কমানোর চেষ্টায় রয়েছে।