
শেখ শাহজাহান
শেষ আপডেট: 2 April 2024 19:03
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রেশন দুর্নীতির পাশাপাশি শেখ শাহজাহানের বিরুদ্ধে তদন্তে নেমে এবার মাছের আমদানি-রফতানি ব্যবসাতেও দুর্নীতির সন্ধান পেলেন ইডির গোয়েন্দারা। তাঁরা জানিয়েছেন, এলাকার মাছ ব্যবসায়ীদের শাহজাহান বলে দিয়েছিলেন, ব্যবসা করলে তা করতে হবে তাঁর সংস্থার মাধ্যমে। না হলে সন্দেশখালিতে ব্যবসাই করা যাবে না!
শাহজাহানের সংস্থার নাম ‘মেসার্স শেখ সাবিনা ফিশ সাপ্লাই ওনলি’। তার মেয়ে সাবিনার নামে এই সংস্থা খুলেছিল শাহজাহান। ইডি জানতে পেরেছে, মাছ ব্যবসায়ীদের শাহজাহান বলে দিয়েছিল, সন্দেশখালিতে ব্যবসা করতে হলে, তাঁর সংস্থার মাধ্যমেই তা করতে হবে। এই মামলার তদন্তে বেশ কয়েকবার সন্দেশখালি গিয়েছেন গোয়েন্দারা। এই বক্তব্যের সমর্থনে নানা তথ্যও জোগাড় করেছেন তাঁরা। জানতে পেরেছেন, ভয় দেখিয়ে স্থানীয় মাছ চাষিদের থেকে ৫০ শতাংশ চিংড়ি জোগাড় করত শাহজাহানের সংস্থা। মাত্র ১০ থেকে ১৫ শতাংশ চিংড়ি আসত তাঁর নিজের মাছের ভেড়ি থেকে। আর বাকিটার জোগান আসত গ্রামবাসীদের থেকে জোর করে দখল নেওয়া ভেড়ি থেকে।
সোমবার ইডি আদালতকে জানিয়েছে, শাহজাহানের জমি এবং ভেড়ি দখলের কালো টাকা চিংড়ি ব্যবসার মাধ্যমে সাদা করা হত। ইডির দাবি, চিংড়ি বেচা-কেনা করে দুর্নীতির টাকা নয়ছয় করা হয়েছে। ৩১ কোটি টাকারও বেশি লেনদেন করা হয়েছে। সবাই সবকিছু জানলেও রুখে দাঁড়ানোর সাহস পাননি কেউ। সন্দেশখালির মাছ ব্যবসায়ীরাও তটস্থ হয়ে থাকতেন শাহজাহানের ভয়ে। তার ঠিক করে দেওয়া পদ্ধতি না মানলে ব্যবসাই যে বন্ধ হয়ে যাবে!
এদিকে এদিন সন্দেশখালিতে ইডির বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া এফআইআর এ স্থগিতাদেশ দেয় কলকাতা হাইকোর্ট। ৫ জানুয়ারি শেখ শাহাজাহানের বাড়িতে তল্লাশি চালাতে গিয়ে আক্রান্ত হয়েছিলেন ইডি আধিকারিকরা। এরপর উল্টে তাঁদের বিরুদ্ধেই ন্যাজাট থানায় অভিযোগ দায়ের করেছিলেন শেখ শাহজাহানের কেয়ারটেকার দেদার বাক্স মোল্লা। সেখানে ইডি আধিকারিকদের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানি এবং জোর করে ঘরে ঢোকার অভিযোগ ছিল। সেই এফআইআরে এদিন স্থগিতাদেশ দিয়েছেন বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের সিঙ্গল বেঞ্চ। এই মামলার রায় ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত এফআইআর এর ভিত্তিতে কোনও তদন্ত হবে না বলে জানিয়েছে সিঙ্গল বেঞ্চ। এর আগে বিচারপতি রাজাশেখর মান্থার সিঙ্গেল বেঞ্চেও এই রক্ষাকবচ পেয়েছিলেন ইডি আধিকারিকরা।