দ্য ওয়াল ব্যুরো : এপ্রিল থেকে জুন মাসের মধ্যে সামগ্রিকভাবে ভারতের স্মার্টফোনের বাজারে এক নম্বর জায়গায় উঠে এল কোরিয়ার সংস্থা স্যামসুং। তার আগের দু'টি ত্রৈমাসিকে এক নম্বর স্থানটি ছিল শাওমির দখলে। ইন্টারন্যাশনাল ডাটা কর্পোরেশনের সমীক্ষায় এই তথ্য জানা গিয়েছে। ফিচার ফোন এবং স্মার্টফোন মিলিয়ে ভারতে মোবাইল হ্যান্ডসেটের যা বাজার তার ২৪ শতাংশ আছে স্যামসুং-এর দখলে। শাওমি ও ভিভোর মতো সংস্থা কেবল স্মার্টফোন তৈরি করে। স্মার্টফোনের বাজারে অবশ্য শাওমির পিছনেই আছে স্যামসুং। কিন্তু দু'টি সংস্থার মধ্যে ফারাক কমে আসছে। জুনে শেষ হওয়া ত্রৈমাসিকে স্মার্টফোনের বাজারের ২৬.৩ শতাংশ ছিল স্যামসুং-এর দখলে। তার আগের ত্রৈমাসিকে ওই সংস্থার দখলে ছিল ১৫.৬ শতাংশ।
২০২০ সালের দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে দেশে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয়েছে গ্যালাক্সি এম ২১ স্মার্টফোন। ওই সময় স্মার্টফোনের বাজারের ২৯.৪ শতাংশ ছিল শাওমির দখলে। ভিভোর দখলে ছিল ১৭.৫ শতাংশ।
ইন্টারন্যাশনাল ডাটা কর্পোরেশনের রিসার্চ ডায়রেক্টর নবকেন্দর সিং জানিয়েছেন, হ্যান্ডসেটের বাজারে শীর্ষস্থানটি হয়তো বেশিদিন দখলে রাখতে পারবে না স্যামসুং। তাঁর কথায়, "গত ত্রৈমাসিকে চিনের হ্যান্ডসেট সংস্থাগুলির স্টকে বেশি মাল মজুত ছিল না। সর্বোপরি বাজারে চিনবিরোধী মনোভাব কাজ করছিল। কোভিড অতিমহামারী ও সাপ্লাই চেন নিয়ে সমস্যার মুখে না পড়লে হ্যান্ডসেটের বাজারে সহজেই দু'নম্বর জায়গায় উঠে আসতে পারত ভিভো।"
চলতি বছরের দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে সামগ্রিকভাবে শাওমির হ্যান্ডসেট এসেছে ৪৮.৭ শতাংশ কম। ওই সংস্থার ৫৪ লক্ষ হ্যান্ডসেট কম এসেছে বাজারে। শাওমির রেডমি নোট এইট এ ডুয়াল, নোট এইট, নোট নাইন প্রো এবং রেডমি এইট স্মার্টফোন মডেল বাজারের ২১.৮ শতাংশ শেয়ার দখলে রেখেছে।
হ্যান্ডসেটের বাজারে চার নম্বর স্থানে আছে রিয়েলমি। তারা দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে ১৭ লক্ষ ৮০ হাজার হ্যান্ডসেট আমদানি করেছে। গত বছরে আমদানি করেছিল এর চেয়ে ৩৭ শতাংশ বেশি। ওই সময় অপ্পো আমদানি করেছে ১৭ লক্ষ ৬০ হাজার হ্যান্ডসেট। গত বছরের তুলনায় ওই সংস্থা আমদানি করেছে ৫১ শতাংশ কম। স্মার্টফোনের বাজারে পাঁচ নম্বর স্থানে রয়েছে অপ্পো।
ভারতের স্মার্টফোনের বাজারে দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে বিক্রি কমেছে গত বছরের তুলনায় ৫০.৬ শতাংশ। ওই সময় বিক্রি হয়েছে ১ কোটি ৮২ লক্ষ ইউনিট। গত বছর ওই সময় বিক্রি হয়েছিল ৩ কোটি ৬৮ লক্ষ ইউনিট।