
শেষ আপডেট: 28 April 2023 04:37
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সমলিঙ্গের দম্পতিদের বিয়ের স্বীকৃতি দানের মামলায় (same sex marriage case) কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে একের পর এক পাল্টা যুক্তি হাজির হচ্ছে সুপ্রিম কোর্টে। কেন্দ্রের আইন মন্ত্রক প্রথম থেকেই বলে আসছে বিষয়টি অত্যন্ত স্পর্শকাতর এবং জটিল। আদালতের কয়েকদিনের শুনানিতে এমন বিষয়ের নিষ্পত্তি করা ঠিক হবে না। শীর্ষ আদালত কোনও অবস্থান জানিয়ে দিলে বড় ধরনের সমস্যায় পড়বে দেশ।
এই যুক্তির সপক্ষে কেন্দ্রের তরফে শীর্ষ আদালতে অধিকার সংক্রান্ত বিতর্কে এমন প্রশ্নও তোলা হয়েছে, ভাই-বোন যদি যৌন সম্পর্কে লিপ্ত হয়ে বিয়ের দাবি (what if brother and sister want to marry) তোলে তখন কী হবে?
সমলিঙ্গের দম্পতিদের বিয়ের স্বীকৃতি চেয়ে হওয়া মামলার বারে বারে যৌন পছন্দের বিষয়টি সামনে এসেছে। এসেছে ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের অধিকারের প্রশ্ন। সুপ্রিম কোর্টের ২০১৭- র রায়ে দেশে গোপনীয়তা রক্ষা এবং ব্যক্তিগত অধিকার এখন মৌলিক অধিকার হিসাবে স্বীকৃত। সরকারের প্রশ্ন এই অধিকারকে হাতিয়ার করে নাগরিকরা কি ইচ্ছেমতো সম্পর্ক স্থাপন করতে পারে?
কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা এই প্রসঙ্গেই আরও বলেছেন, ব্যক্তিগত স্বাধীনতার বিষয়টি সীমাহীন। যে কারণে বহু মানুষ ব্যভিচারী সম্পর্ককেও স্বাভাবিক মনে করে। তারাও আগামী দিনে ব্যভিচারী সম্পর্কের স্বীকৃতি দাবি করতে পারে। কেন্দ্রের আরও বক্তব্য, কী হবে বহু বিবাহের দাবি উঠলে? এই দাবিকেও কি ব্যক্তিগত অধিকার বলে মেনে নেবে রাষ্ট্র?
কেন্দ্রের আইনজীবীর প্রশ্ন, যৌনতার পছন্দ যদি নাগরিকের মৌলিক অধিকার হিসাবে প্রতিষ্ঠা পেয়ে যায় তাহলে ভাই-বোনের মধ্যে যৌন সম্পর্ককে অস্বীকার করা কঠিন হয়ে পড়বে। তারা দাবি তুলতেই পারে, আমরা প্রাপ্ত বয়স্ক। আমরা বিয়ে করতে চাই। রাষ্ট্র, সমাজ, পরিবার কি এই সম্পর্ক মেনে নিতে পারবে?
এই মামলায় প্রথম থেকেই কেন্দ্র বিষয়টি সরকার ও সংসদের উপর ছেড়ে দেওয়ার কথা বলছে। আদালতের এই বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করাই বাঞ্ছনীয়, মত কেন্দ্রের। বৃহস্পতিবারের শুনানিতে সাংবিধানিক বেঞ্চের তরফে প্রধান বিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রচূড় মেনে নেন, ইস্যটি স্পর্শকাতর এবং আইনসভা অর্থাৎ সংসদের এক্তিয়ার অবশ্যই আছে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে। তবে বিচারপ্রার্থীদের দাবিকেও আদালত অগ্রাহ্য করতে পারে না, জানিয়ে দেন বিচারপতি।
প্রধান বিচারপতির এই বক্তব্যের প্রেক্ষিতে সরকারের তরফে গুচ্ছ বাস্তব সমস্যার কথা তুলে ধরা হয়েছে। প্রথমদিনই হলফনামায় সরকার জানিয়েছিল, এই ধরনের বিয়ে ভারতের সামাজিক ও পারিবারিক ঐতিহ্যের পরিপন্থী।
বৃহস্পতিবার সরকারের তরফে আদালতে বলা হয়, সমলিঙ্গের দম্পতিদের মধ্যে কে স্বামী, কে স্ত্রী? এই প্রশ্নের মীমাংসা হবে কীভাবে?
আইন মন্ত্রকের বক্তব্য, স্বামী, স্ত্রী পরিচয়ের বিষয়টি শুধু বিবাহিত জীবন এবং স্পেশ্যাল ম্যারেজ অ্যাক্টের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এরসঙ্গে সম্পত্তির অধিকার, সন্তান বা নিকট জনের অভিভাবকত্বের মতো গুরুতর বিষয় যুক্ত। সমলিঙ্গের দম্পতিদের অনেকেই নারী বা পুরুষ পরিচয়েও পরিচিত হতে চান না। তাঁদের অনেকেই তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ বলে নিজেদেরকে জনগণনা।উল্লেখ করেছে। ভোটার তালিকায় তারা তৃতীয় লিঙ্গের নাগরিক হিসাবে চিহ্নিত।
সরকারি আইনজীবীর বক্তব্য, দত্তক সংক্রান্ত আইনেও মা এবং বাবা কে, এই প্রশ্ন আসবে। একই প্রশ্ন জড়িত অভিভাবকত্ব সংক্রান্ত আইনেও।
সমকামী দম্পতিদের ব্যাঙ্ক, বিমার সুবিধা দেওয়া উচিত, কেন্দ্রকে বলল সুপ্রিম কোর্ট