
শেষ আপডেট: 4 November 2023 16:55
দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব বর্ধমান: দুর্গম স্থানে তাঁর ঘর। তাই নাম দুর্লভা কালী। আবার অন্য মত, দুর্লভ নামের এক পুরোহিত দেবীর আরাধনা করতেন। তাই নাম দুর্লভা কালী। একসময় চারপাশে ছিল ঘন জঙ্গল। নিত্য আনাগোনা ছিল বন্যপ্রাণীদের। সেই জঙ্গল এখন অতীত। গা ছমছমে ভাবটাও আর নেই। মন্দিরের পাশ দিয়েই গেছে জাতীয় সড়ক। তবে ঐতিহ্য আঁকড়ে আজও দাঁড়িয়ে দুর্লভা কালীর মন্দির। বর্ধমান শহরের উপকন্ঠে লাকুর্ডি পেরোলেই দর্শন করা যাবে দুর্লভা কালীকে।
তিনশো বছর পেরিয়ে গিয়েছে। আজও সমাধান হয়নি দুর্লভা কালীর উপাসনাকে ঘিরে থাকা নানা রহস্যের। স্থানীয়রা জানাচ্ছেন, কখনও দুর্গা, কখনও চণ্ডী আবার কখনও বিপত্তারিণী রূপে পূজিতা হন দেবী। কথিত আছে গোকুলানন্দ ব্রক্ষ্মচারী নামে এক সাধক ঘুরতে ঘুরতে এখানে উপস্থিত হন। একদিন স্নান করতে গিয়ে তাঁর পায়ে একটি পাথর ঠেকে যায়। এরপর স্বপ্নাদেশ পেয়ে তিনি দেবীকে এখানে প্রতিষ্ঠা করেন। পরে বর্ধমানের মহারাজার আনুকূল্য লাভ করেন। বর্ধমানের মহারাজা বিজয়চাঁদ মহতাব এক দিন জঙ্গলে শিকার করতে গিয়ে দেখতে পান, তালপাতার ছাউনিতে এক সন্ন্যাসী বসে সাধনা করছেন। সেটা ছিল অমাবস্যার রাত। সেই গহীন কালো রাতে সাধক গোকুলানন্দ বর্ধমানের মহারাজাকে তাঁর দৈবশক্তি দিয়ে পূর্ণচন্দ্র দেখিয়েছিলেন। মহারাজা মুগ্ধ হয়ে গোকুলানন্দকে দশ বিঘে জমির উপর একটি মন্দির তৈরি করে দেন। কালী মন্দিরের পাশেই তৈরি করা হয় তিনটি শিব মন্দিরও।
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বদলে গেছে অনেক কিছু। তবে অনেক প্রথাই রয়ে গেছে এখনও। এই মন্দিরে শিবাভোগ দেওয়ার চল রয়েছে। শিবাভোগ অর্থাৎ শিয়ালকে ভোগ দেওয়া। মন্দিরে আজও সন্ধেবেলা যা রান্না হয় তা ভোগ হিসেবে দেওয়া হয় শিয়ালকে। এখানে সাধক গোকুলানন্দের পঞ্চমুণ্ডির আসন রয়েছে। রয়েছেন ভৈরবও। পুরনো মূর্তির জায়গায় এখন নতুন মূর্তির নিত্যপুজো হয়। যদিও পুরনো মূর্তিটি রাখা আছে পাশের ঘরেই। দুর্লভা কালীকে দর্শন করতে অনেক দূর দূর থেকে মানুষ এই মন্দিরে আসেন। প্রতিবছর কালীপুজোর রাতে ঢল নামে ভক্তদের।
দেবীর নাম ‘দুর্লভা’ হওয়া নিয়ে একটি অন্য গল্পও প্রচলিত আছে। মন্দিরের সেবায়েতরা জানান, গোকুলানন্দের দেহত্যাগের পরে দুর্লভ ভট্টাচার্য নামে এক পুরোহিতকে নিয়োগ করেছিলেন রাজা বিজয়চাঁদ। পুরোহিত দুর্লভ ভট্টাচার্যের নামেই দেবী এখানে দুর্লভা কালী নামে পরিচিত। পরিবারের সদস্য লক্ষ্মী ভট্টাচার্য বলেন, ‘‘দেবী এখানে শ্বেতপাথরের মূর্তিতে পূজিতা হন। দেবীর মূর্তিটি প্রথমে মাটির ছিল। পরে অষ্টধাতুর মূর্তি তৈরি হয়। সেই মূর্তিটি চুরি হয়ে গিয়েছিল। পরে বর্ধমানের মহারাজা বিজয়চাঁদ মহতাব বেলকাঠের মুর্তি তৈরি করে দেন। কিন্তু সময়ের ফেরে ওই বেলকাঠেও ঘুণ ধরে। এরপর ভট্টাচার্য পরিবার সিমেন্ট দিয়ে দেবীমূর্তি তৈরি করেন। কিন্তু বছর খানেকের মধ্যে সিমেন্টের তৈরি মূর্তিতে ফাটল দেখা দেয়। তারপর ভট্টাচার্য পরিবার রাজস্থান থেক শ্বেতপাথরের মূর্তি নিয়ে এসে প্রতিষ্ঠা করে মা দুর্লভাকে।