
শেষ আপডেট: 14 November 2023 18:40
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দাউ দাউ করে জ্বলেছে আগুন। চোখের সামনে পুড়ে ছাই হয়ে যাচ্ছে গোটা গ্রাম। সারা বছরের গোলা ভরা ধান, তাতেও ধরানো হয়েছে আগুন। বাদ যায়নি বসত বাড়ি, গাছপালা কোনও কিছুই। গ্রামের মহিলারা কোনওক্রমে পুকুর থেকে জল তুলে আগুন নেভানোর কাজ করেছেন। কিন্তু ততক্ষণে যে গ্রাম পুড়ে খাক।
সোমবার সারাদিনের পর মঙ্গলবার বেলা বাড়তেই খাঁ খাঁ করছে জয়নগরের বামনগাছির দলুয়াখাঁকির লস্করপাড়া। দুপুর গড়িয়ে গেলেও বেশিরভাগ বাড়িতেই এদিন হাঁড়ি চড়েনি। অবশ্য সোমবারের তাণ্ডবে যে উনুনই নষ্ট হয়ে গিয়েছে। দুমড়েমুচড়ে পড়ে আছে বাসনপত্রও। ঠিক ২৪ ঘণ্টা আগেও গৃহস্থ বাড়িতে যেখানে ছিল রান্নাঘর, ছিল খাবার, বাসন-আনাজপত্র মঙ্গলবার সেখানে শুধুই পড়ে রয়েছে ছাই। এদিন বেশিরভাগ বাড়িতে একই দৃশ্য নজরে এসেছে।
শিশুদের মুখেও খাবার তুলে দিতে পারেননি মায়েরা। অনেকেই খোঁজ পাননি তাঁদের স্বামীদের। অসহায় কান্না ভেসে আসছে বেশিরভাগ ঘরের ভেতর থেকে। অঝোরে কাঁদতে কাঁদতেই এক মহিলা বলে ওঠেন, “সব জ্বালিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে। ঘরদোর, জিনিসপত্র কিচ্ছু নেই। বাচ্চার খাবারটুকুও নেই। বাচ্চা গায়ে যা পরে আছে ওইটুকুই সম্বল।"
সোমবার কাকভোরে নামাজ পড়তে যাওয়ার সময়ে খুন হন জয়নগরের তৃণমূল নেতা সইফুদ্দিন লস্কর। চার-পাঁচজন দুষ্কৃতী বাইকে করে এসে পিছন থেকে গুলি করে তাঁকে। এরপর পালানোর সময়ে এক অভিযুক্ত সাহাবুদ্দিন শেখকে ধরে ফেলে আশোপাশের লোকজন। এরপর স্থানীয়দের গণপিটুনিতেই মৃত্যু হয় তার। তারপরেই দলুয়াখাঁকি গ্রামে শুরু হয়ে যায় তাণ্ডব। একের পর এক বাড়িতে আগুন ধরানো হয়। চলে মারধর, লুটপাট।
মঙ্গলবার দুপুরে লস্করপাড়ায় দেখা যায় পোড়া বাড়িঘর, জ্বলে যাওয়া আসবাবপত্র আর সেই ধ্বংসস্তূপের সামনে শূন্যদৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকা কয়েক জন মহিলাকে। কেউ তারস্বরে কেঁদেই চলেছেন। আবার কেউ অপর মহিলাকে সান্ত্বনা দিয়ে কেঁদে ফেলছেন। এখনও যে চোখের সামনে ভাসছে সেই বিভীষিকার দৃশ্য!