দ্য ওয়াল ব্যুরো : গত বছরেই দলের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছিলেন রাজস্থানের কংগ্রেস নেতা শচীন পাইলট। দল তাঁকে কয়েকটি প্রতিশ্রুতি দিয়ে শান্ত করে। অভিযোগ, তারপরে প্রায় একবছর কেটে গেলেও সেই প্রতিশ্রুতি পালিত হয়নি। তাই সোশ্যাল মিডিয়ায় জল্পনা শুরু হয়েছে, জিতিন প্রসাদের পরে এবার শচীন কি যোগ দিচ্ছেন বিজেপিতে?
কংগ্রেস গত বছর অভিযোগ করে, বিজেপি রাজস্থানে অশোক গহলৌতের সরকার ফেলার জন্য শচীনকে টোপ দিয়েছে। শচীনও কংগ্রেস ত্যাগের জন্য প্রায় প্রস্তুত হয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু প্রাক্তন কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধীর সঙ্গে বৈঠকের পরে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেন। রাহুল পরে সংবাদ মাধ্যমে বলেন, শচীনকে বলা হয়েছে, রাজস্থান প্রদেশ কংগ্রেসে কিছু রদবদল করা হবে। সোমবার শচীন সংবাদ মাধ্যমে বলেন, এই প্রতিশ্রুতি এখনও পালিত হয়নি।
তাঁর কথায়, "সেই প্রতিশ্রুতির পরে ১০ মাস কেটে গিয়েছে। আমাকে বলা হয়েছিল, দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কিন্তু কংগ্রেস সরকারের কার্যকালের অর্ধেক শেষ হয়ে যাওয়ার পরেও কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। যাঁরা রাজ্যে কংগ্রেসকে ক্ষমতায় এনেছেন, তাঁদের কথা শোনা হচ্ছে না। ব্যাপারটা খুবই দুর্ভাগ্যজনক।"
এর আগে কংগ্রেস হাইকম্যান্ড স্থির করেছিল, রাজস্থান মন্ত্রিসভার সম্প্রসারণ ঘটানো হবে। তাতে শচীনের অনুগামীদের কয়েকজনকে স্থান দেওয়া হবে। অশোক গহলৌত প্রথমে এতে রাজিও হয়ে গিয়েছিলেন। পরে তিনি মন্ত্রিসভার সম্প্রসারণ স্থগিত রাখেন।
এই পরিপ্রেক্ষতে রাহুল ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত জিতিন প্রসাদ এদিন বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন। তার পরেই অনেকে ভাবছেন, এবার শচীনও বিজেপির দিকে পা বাড়াতে পারেন।
৪৭ বছর বয়সী জিতিন প্রসাদ সম্পর্কে আগেও নানা গুজব শোনা গিয়েছিল। ২০১৯ সালে লোকসভা ভোটের আগে শোনা যায়, তিনি বিজেপিতে যোগ দিতে পারেন। গত ২০ বছর ধরে তিনি কংগ্রেসের সঙ্গে যুক্ত। দলের নানা ব্যাপারে কিছুদিন ধরেই তিনি ছিলেন হতাশ। সেই হতাশার কথা তিনি প্রকাশ্যে জানিয়েছেন। গতবছর কংগ্রেসের ২৩ জন শীর্ষস্থানীয় নেতা সভানেত্রী সনিয়া গান্ধীকে চিঠি লিখে বলেন, দলে একজন পুরো সময়ের নেতা চাই। পরে ওই ২৩ জন বিক্ষুব্ধ নেতাকে 'জি-২৩' গ্রুপ নাম দেওয়া হয়। জিতিন প্রসাদ এই জি-২৩ গ্রুপের সদস্য ছিলেন।
পর্যবেক্ষকদের ধারণা হয়েছিল, জি-২৩ গ্রুপ কার্যত দলের নেতৃত্বের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেছে। এরপরেও জিতিন প্রসাদকে পশ্চিমবঙ্গে ভোটে কংগ্রেসের প্রচারের দায়িত্ব দেওয়া হয়। কিন্তু ভোটে কংগ্রেস একটিও আসন পায়নি। ভোটের আগে জিতিন প্রসাদ প্রকাশ্যেই বলেন, ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্টের সঙ্গে জোট বেঁধে তাঁর দল ঠিক কাজ করেনি।