শবরীমালা নিয়ে শীর্ষ আদালতের রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে ফের মামলা আয়াপ্পা পূজারীদের
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শবরীমালা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের রায়কে চ্যালেঞ্জ জানাল ন্যাশনাল আয়াপ্পা ডিভোটি অ্যাসোসিয়েশন। শবরীমালা মন্দিরে যে কোনও বয়সের মহিলাদের প্রবেশাধিকারের সুপ্রিম কোর্টের রায়কে চ্যালেঞ্জ করেছে এই সংগঠন। রায়ের সঠিক পর্যালোচনার দাবি তু
শেষ আপডেট: 7 October 2018 18:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শবরীমালা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের রায়কে চ্যালেঞ্জ জানাল ন্যাশনাল আয়াপ্পা ডিভোটি অ্যাসোসিয়েশন। শবরীমালা মন্দিরে যে কোনও বয়সের মহিলাদের প্রবেশাধিকারের সুপ্রিম কোর্টের রায়কে চ্যালেঞ্জ করেছে এই সংগঠন। রায়ের সঠিক পর্যালোচনার দাবি তুলে সুপ্রিম কোর্টে পাল্টা মামলা দায়ের করেছে তারা।
অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট শৈলজা বিজয়ন নিজে সুপ্রিম কোর্টের রায়কে চ্যালেঞ্জ জানান। বহু বছরের বিতর্কের পরে সুপ্রিম কোর্টের পাঁচ বিচারপতির সাংবিধানিক বেঞ্চ একটি ঐতিহাসিক রায় দেয়। সদ্য অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্র বলেন, শবরীমালা মন্দিরে সব বয়সের মহিলারা প্রবেশ করতে পারবেন। সেটা করতে না দেওয়ার অর্থ পুজোর অধিকার কেড়ে নেওয়া ও লিঙ্গ বৈষম্য করা। হিন্দু মহিলাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত করা।
কিন্তু শবরীমালা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের রায়কে অযৌক্তিক ও সমর্থনযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করেছেন শৈলজা। আরও একটি সংগঠন সুপ্রিম কোর্টের রায়কে চ্যালেঞ্জ করেছে। সেটির নাম দ্য নায়ার সার্ভিস সোসাইটি। কেরলের প্রভাবশালী নায়ার সম্প্রদায়ের এই সংগঠনটি বলেছে শবরীমালা মন্দিরে মহিলাদের প্রবেশ করতে না দেওয়ার যে প্রাচীন প্রথা এতদিন চলে আসছে, সেটি বজায় রাখা উচিত।
শবরীমালা মন্দিরে কেন নিষেধাজ্ঞার পক্ষে মহিলা বিচারপতি?
মধ্যযুগীয় মতামত নিয়ে কেরল জুড়ে জেগে উঠেছে নানা তথাকথিত ধর্মীয় সংগঠন। এমনই একটি সংগঠন আয়াপ্পা ধর্ম সেনা। তাদের প্রধান রাহুল ইশ্বর বলেছেন, আগামী ১৭ অক্টোবর ভোর পাঁচটায় যখন শবরীমালা মন্দির খুলবে, তখন তাদের সদস্যরা মন্দিরের প্রধান ফটকের সামনে শুয়ে থাকবেন, যাতে অল্পবয়সী মহিলারা ( ঋতুস্রাব হয় যে বয়স থেকে যে বয়স পর্যন্ত) মন্দিরে ঢুকতে না পারেন।
সুপ্রিম কোর্টে পাল্টা মামলা দায়েরের পর কেরল মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকও বাতিল করেছেন মন্দিরের প্রধান পুরোহিত। সুপ্রিম কোর্টের রায়কে চ্যালেঞ্জের বিষয়টি সমর্থন করেননি মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন। আর সেই কারণেই মন্দির নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে রাজি নন প্রধান পুরোহিত। রাজ্যের বিরোধী দলগুলির সমালোচনার মুখেও পড়তে হচ্ছে বিজয়নকে।
শবরীমালা মন্দিরের চলে আসা প্রাচীন ঐতিহ্যের অবসানকে মেনে নিতে পারছে না কেরলের রাজপরিবারও। কেরলের বিথ্যাত রাজবাড়ি পান্দলম সুপ্রিম কোর্টের রায়ের বিরোধিতা করে আয়াপ্পা অ্যাসোসিয়েশনের পাশে দাঁড়িয়েছে। প্রাচীন প্রথাকে ধরে রেখেই চলতে চায় এই রাজপরিবার।
অন্য দিকে, সোমবার পাল্টা মামলা দায়েরের পরেই মন্দির কর্তৃপক্ষ জানায়, সুপ্রিম কোর্টে করা নতুন মামলার শুনানির পরই মন্দিরের ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হবে। তাই শবরীমালায় মহিলাদের প্রবেশ ফের প্রশ্নের মুখে। রবিবারই মন্দিরের বিশেষ পুজোয় অংশগ্রহণ করেছিলেন সব বয়সের মহিলা।