
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও সায়নী ঘোষ
শেষ আপডেট: 22 July 2024 09:11
২০২৬ সালে বিধানসভা ভোটের আগে তৃণমূলের যুব সংগঠনে রদবদলের কথা শোনা যাচ্ছিল কিছুদিন ধরেই। এমনকি সম্প্রতি একটি অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যা যাদবপুর লোকসভার সাংসদ তথা যুবনেত্রী সায়নী ঘোষের কাছে একটি তালিকাও চেয়েছিলেন, জেলা ধরে ধরে নতুন সভাপতি নির্বাচনের জন্য।
আজ, ২১ জুলাই সমাবেশে সেই তালিকার কথা কার্যত স্বীকার করে নিলেন সায়নী। জানালেন, তিনি দিদির নির্দেশ মেনে তালিকা করেছেন। সেই অনুযায়ী রদবদলও হতে পারে বলে ইঙ্গিত করে সায়নী বললেন, 'চেঞ্জ ইজ দ্য ওনলি কনস্ট্যান্ট থিং!' অর্থাৎ, পরিবর্তনই চিরসত্য।
এদিন সমাবেশের পরে সায়নী তালিকার বিষয়ে বলেন, 'কিছু যুব সভাপতির পারফরমেন্স আমরা রিভিউ করে দেখছি। যদি বদলের প্রয়োজন হয়, মুখ্যমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তা হবে।' এর পরে তাঁকে প্রশ্ন করা হয়, কোনও নতুন মুখ কি দেখা যাবে? তখনই সায়নী বলেন, 'চেঞ্জ ইজ দ্য ওনলি কনস্ট্যান্ট থিং!'
শনিবারই কালীঘাটের ঘনিষ্ঠ এক নেতা বলেছিলেন, দু'টি কারণে জেলায় যুব সভাপতি বদল জরুরি বলে মনে করা হচ্ছে। প্রথমত, কয়েক জনের পারফরমেন্স ভাল নয়। কিছু অভিযোগও রয়েছে। আর দুই, এক জনকে অনেক দিন ধরে পদে না রেখে নতুনদেরও সুযোগ দেওয়া দরকার। তবে সায়নী যে তালিকা পাঠিয়েছেন তা চূড়ান্ত মনে করার কারণ নেই। বরং সেটা সায়নীর সুপারিশ বলা যেতে পারে। এ ব্যাপারে জেলা থেকেও ইনপুট নেবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তার পর আলোচনার মাধ্যমে তালিকা চূড়ান্ত হবে।
আগামীকাল অর্থাৎ ২২ জুলাই দিল্লিতে যাওয়ার কথা অভিষেকের। ওই দিন থেকে সংসদের বাজেট অধিবেশন শুরু হচ্ছে। সংসদের এই অধিবেশন চলাকালীন লম্বা সময় অভিষেক দিল্লিতে থাকতে পারেন। লোকসভায় বাজেট বিতর্কে তৃণমূলের পক্ষ থেকে প্রথম বক্তা হতে পারেন তিনি। ঘটনাচক্রে ২৫ জুলাই আবার ৩ দিনের জন্য দিল্লিতে যাবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কালীঘাট সূত্রের মতে, সংগঠনের রদবদলের ব্যাপারে দিল্লি সফরে দিদি ও অভিষেকের মধ্যে সবিস্তার আলোচনা হতে পারে।
তৃণমূলের যুব সংগঠনের সবচেয়ে বড় বদল হয়েছিলেন ২০২১ সালে ভোটের পর। ওই ভোটের পর দলের যুব সভাপতির পদ থেকে মূল সংগঠনের দায়িত্বে উত্তরণ ঘটে অভিষেকের। দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক হন তিনি। যুব সভাপতি পদে মমতা ও অভিষেক আস্থা রাখেন নবাগতা সায়নীর উপর। নয়-নয় করে সায়নীরও এই পদে তিন বছর হয়ে গেছে। তৃণমূলের যুব সভানেত্রী পদেও বদল হবে কিনা সেটা অবশ্য একটা অন্য ‘ফর্মুলা'র উপর নির্ভর করছে বলে জানা গিয়েছে।