দ্য ওয়াল ব্যুরো : সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনের বৈঠক উপলক্ষে মস্কোয় গিয়েছেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শংকর। সেখানে গিয়েছেন চিনের বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ই। ইতিমধ্যে মধ্যাহ্নভোজে দেখা হয়েছে দু'জনের। রাশিয়ার বিদেশমন্ত্রীও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। ভারতীয় সময় অনুযায়ী বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জয়শংকরের সঙ্গে বৈঠকে বসতে চলেছেন ওয়াং। লাদাখে চিন সীমান্তে উত্তেজনার প্রেক্ষিতে এই বৈঠক বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।
এর আগে প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং জানিয়েছেন, সীমান্তে শান্তি বজায় রাখতে গেলে সবচেয়ে আগে দরকার বিশ্বাস। দুই দেশই শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানে তখনই আসবে যখন বিশ্বাসের মর্যাদা রক্ষা হবে। আগ্রাসন দেখিয়ে জবরদস্তি অনুপ্রবেশ বন্ধ হবে, আন্তর্জাতিক নীতির সম্মান রক্ষিত হবে এবং বিশ্বাস রেখেই দুই দেশ শান্তির শপথ নেবে।
গত কয়েক মাসে সামরিক স্তরে দফায় দফায় বৈঠকের পরেও সীমান্ত সমস্যার সমাধানে এসে পৌঁছতে পারেনি ভারত ও চিন দুই দেশই। বরং সীমান্ত থেকে সেনা সরিয়ে শান্তি বজায় রাখার যে আলোচনা হয়েছিল দুই দেশের মধ্যে তার মর্যাদা ভেঙেছে চিনই। নতুন করে আগ্রাসনের চেষ্টা দেখিয়েছে তারা। যার কারণে রীতিমতো যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে লাদাখ সীমান্তে। প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা তথা এলএসি-তে কীভাবে স্থিতাবস্থা ফিরিয়ে আনা যায় সেই নিয়েই মুখোমুখি বৈঠকে বসেন রাজনাথ সিং ও চিনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী। সীমান্ত সমস্যার শান্তিপূর্ণ মীমাংসার জন্য আলোচনা চলছে দু’তরফেই। এই বৈঠকেই চিনকে বার্তা দিয়ে রাজনাথ এমন কথা বলেছেন।
শনিবার রাতেই দক্ষিণ প্যাঙ্গং হ্রদের উঁচু পাহাড়ি এলাকা কব্জা করার চেষ্টা করেছিল চিনের বাহিনী। পরে ফের অনুপ্রবেশের চেষ্টা চালায় তারা। তাদের টার্গেট ছিল প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর ভারতের নিয়ন্ত্রণে থাকা চুমার এলাকা। চিনের সে উদ্দেশ্য প্রতিহত করেছে ভারতীয় সেনাবাহিনী। উত্তাপের আঁচ যেভাবে বাড়ছে তাতে দু’পক্ষই পরস্পরের মুখোমুখি নিজেদের যুদ্ধট্যাঙ্ক সাজিয়ে বসেছে। একে অপরের দিকে নিশানা স্থির করে আছে ট্যাঙ্কবাহিনী।
ভারত-চিন বিরোধে মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি হোয়াইট হাউসে একটি সাংবাদিক সম্মেলনে বলেন, “সবাই জানেন চিন ও ভারতের মধ্যে সীমান্তে সমস্যা তৈরি হয়েছে। এটা খুবই খারাপ দিকে এগোচ্ছে।” ট্রাম্প দাবি করেছেন, এই বিষয়ে চিন ও ভারত, দু’দেশের সঙ্গেই তাঁর কথা হয়েছে। তিনি বলেন, “আমরা এই বিষয়ে ভারত ও চিন দু’দেশকেই সাহায্যের বার্তা দিয়েছি। যদি আমরা কিছু করতে পারি, তাহলে আমরা আনন্দের সঙ্গে তা করব। আমরা এই বিষয়ে দু’দেশের সঙ্গেই কথা বলছি।”
দু’দেশের কথা বললেও সীমান্তে চিনের আগ্রাসন যে একটা প্রধান সমস্যা সেটা মনে করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, “আমার মনে হয় চিনের আগ্রাসন বেশি। অনেক বুঝতেও পারবে না কতটা আগ্রাসন চিন দেখাতে পারে।”