পর পর মিসাইল হানায় ক্ষতবিক্ষত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। ধ্বংস হচ্ছে শহরের স্থাপত্য-ভাস্কর্য্য। আগুন জ্বলছে পরমাণু চুল্লীতে। ইউক্রেনের (
Russia-Ukraine War) আকাশ বাতাস স্বজন হারানোর কান্নায় ভারী (Ukraine Crisis)। সোমবার ভারতীয় সময় সকালে ইরপিন শহরে মিসাইলের আঘাতে চারজন সাধারণ বাসিন্দার মৃত্যু হয়েছে। এর পরেই সাময়িকভাবে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছে রাশিয়া। ইউক্রেনের চার শহরে যুদ্ধবিরতির (Ceasefire) ডাক দেওয়া দেওয়া হয়েছে।
কিয়েভ, মারিউপোল, খারকিভ ও সুমিতে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা করেছে রাশিয়া। রুশ প্রশাসন জানিয়েছে, এই শহরগুলিতে মানব করিডর তৈরি করে সাধারণ মানুষদের সুরক্ষিত ও নিরাপদে বেরিয়ে আসার সুযোগ দেওয়া হবে। রাশিয়ার দাবি, সাধারণ নাগরিকের ওপরে হামলা উদ্দেশ্য় নয়। যদিও রাশিয়ার দাবি উড়িয়ে ইউক্রেন জানিয়েছে, এই সবই আসলে নাটক। এর আগেও দু'বার যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করার পরেও ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে ভয়ঙ্কর হামলা চালিয়েছে রুশ বাহিনী।
গতকালের যুদ্ধবিরতির পরেও মিসাইল হামলা রাশিয়ার (Russia-Ukraine War)
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের (Russia-Ukraine War) প্রায় ১২ দিন হতে চলল। এখনও আক্রমণের তেজ কমেনি। গতকাল আড়াই ঘণ্টার যুদ্ধবিরতির পরেও ফের মিসাইল হামলা করেছে রাশিয়া। ইরপিনে লাগাতার গোলা বর্ষণ চলছে। জানা যাচ্ছে, ভারতীয় সময় বেলা সাড়ে ১২টা থেকে খারকিভ, মারিপুল এবং সুমি শহরে এই যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়েছে।
রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বক্তব্য়, ইউক্রেন আত্মসমর্পণ করুক। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভোলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে আজই ফোনে কথা বলতে পারেন পুতিন।
আরও পড়ুন: ইউক্রেনের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ, জেলেনস্কির সঙ্গে আলোচনায় বসতে পারেন মোদী
ইউক্রেনের পরমাণু চুল্লীগুলো এখন টার্গেট করেছে রাশিয়া। একের পর এক পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে হামলা চলছে। জাপোরিজিয়া পারমাণবিক কেন্দ্রে হামলা (Nuclear Terror) করে আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছে রুশ সেনা। চেরনোবিলের পরে বড় বিপর্যয় জাপোরিজিয়া ধ্বংসের চেষ্টা। ইউক্রেনের দ্বিতীয় শক্তিশালী পারমাণবিক চুল্লীও দখল করেছে রুশ বাহিনী। রাশিয়া ইউক্রেনে হানা দেওয়ার পরে ২ হাজারের বেশি নিরীহ মানুষ মারা গিয়েছেন। ইউক্রেনের আপৎকালীন পরিষেবা দফতর জানিয়েছে, রুশ গোলায় ধ্বংস হয়েছে একাধিক হাসপাতাল, কিন্ডারগার্টেন স্কুল ও আবাসন। মারা গিয়েছে অন্তত ৪৯৮ জন রুশ সেনা।