
শেষ আপডেট: 2 March 2022 16:29
নেবে, এমন সম্ভাবনার কথাই ভাবছে গোটা বিশ্ব। এর মধ্যেই আবার পরমাণু অস্ত্র ব্যবহারের হুমকি দিয়ে রেখেছে রাশিয়া। ইউক্রেনে আঘাত হানার আগে পরমাণু অস্ত্রের মহড়াও চালিয়েছিল পুতিনের দেশ। সব মিলিয়ে তাই উদ্বেগ বেড়েই চলেছে। বুধবার রুশ বিদেশমন্ত্রী সেরগেই লাভরভ স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছেন, যদি দুই দেশই পরমাণু অস্ত্র (Nuclear War) তুলে নেয় তাহলে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ অবশ্যম্ভাবী, এবং সেক্ষেত্রে ধ্বংস কেউ আটকাতে পারবে না।
রুশ আক্রমণে গোটা বিশ্বই চিন্তিত। এর মধ্যে পুতিনের নির্দেশ আশঙ্কার কালো মেঘ তৈরি করেছে। মস্কোর কাছেই বিশ্বের সবথেকে বড় নিউক্লিয়ার অস্ত্র ভাণ্ডার রয়েছে। রাশিয়ার সামরিক অস্ত্রভাণ্ডারও বিশাল। একাধিক আধুনিক প্রযুক্তির মিসাইল রয়েছে রাশিয়ার হাতে। অন্যান্য অস্ত্রশস্ত্র তো রয়েছেই। তার মধ্যেই নিউক্লিয়ার-যুদ্ধ শুরু হলে ধ্বংসের পথ আরও প্রশস্ত হবে বলেই মনে করছেন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা।
পুতিন কী নির্দেশ দিয়েছিলেন? রুশ প্রেসিডেন্ট দিনকয়েক আগেই সদর্পে ঘোষণা করেছিলেন পরমাণু অস্ত্রদলকে হাই অ্যালার্টে রাখা হয়েছে। সবরকম প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে তাঁর পরমাণু অস্ত্রবাহিনী। সেক্ষেত্রে পুতিনের যুক্তি ছিল, পশ্চিমী দেশগুলো যেভাবে রাশিয়ার ওপর চাপ তৈরি করছে, অর্থনীতিতে আঘাত হানার চেষ্টা করছে তারই পাল্টা সুরক্ষার জন্য ‘ডেটারেন্স ফোর্সেস’-কে তৈরি থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: Russia-Investigation : খারকিভে ভারতীয় ছাত্রের মৃত্যু নিয়ে তদন্ত করবে রাশিয়া, জানালেন রাষ্ট্রদূত
রুশ প্রেসিডেন্টের এই নির্দেশের পরেই কার্যত ঘুম উড়েছে বিশ্ববাসীর। রাশিয়ার হাতে প্রায় ৬ হাজার পরমাণু অস্ত্র রয়েছে। ইউক্রেনের ওপরে যদি পরমাণু বোমা বিস্ফোরণ করা হয় তাহলে তার প্রভাব পড়বে বহু দূর অবধি। লক্ষ লক্ষ মানুষের মৃত্যু হবে। তেজস্ক্রিয়তা ছড়িয়ে পড়বে। সোমবার ইউক্রেন পরিস্থিতি নিয়ে মিত্র দেশগুলির সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠকে বসেন বাইডেন। তাঁরা সিদ্ধান্ত নেন, এই যুদ্ধের জন্য রাশিয়াকে বিরাট মূল্য দিতে বাধ্য করা হবে। সেই সঙ্গে চেষ্টা করা হবে যাতে আন্তর্জাতিক অর্থনীতি স্থিতিশীল থাকে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আমেরিকা যেভাবে উঠেপড়ে লেগেছে তাতে যথেষ্টই চাপে রয়েছে রাশিয়া। তাই রুশমন্ত্রী তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহতার কথা উল্লেখ করেছেন।