দ্য ওয়াল ব্যুরো: এক মাঘে শীত যায় না। একসময় টাকার দাম পড়লেই কেন্দ্রের ইউপিএ সরকারের বিরুদ্ধে তোপ দাগতেন নরেন্দ্র মোদী। আর এখন তাঁর প্রধানমন্ত্রীত্বের সময়েই একেবারে রেকর্ড পড়ল টাকার দাম। বৃহস্পতিবার সকালে, ব্যাঙ্কের বিদেশি মুদ্রা বাজারে আগের থেকে ৪৯ পয়সা বেড়ে এখন এক আমেরিকান ডলারের দাম হল ভারতীয় মুদ্রায় ৬৯ টাকা ১০ পয়সা। সর্বকালের সর্বনিম্ন।
ইউপিএ টুর আমলে টাকার দাম ৫৯ ছাড়ালে তির্যক ভঙ্গিতে মোদী বলেছিলেন, এর পর তো টাকার দাম অর্থমন্ত্রীর বয়স ছুঁয়ে ফেলবে। তাঁর বক্তব্য ছিল টাকার দাম পড়ার মতোই ইউপিএ সরকারেরও দাম পড়ছে।
সেই মোদীর আমলেই টাকার দাম রেকর্ড পড়ায়, এখন পালটা তোপ দাগছেন কংগ্রেসের নেতারা। কংগ্রেসের এক সর্বভারতীয় নেতা তো বলেই বসলেন, টাকার দাম তো এইবার প্রধানমন্ত্রীর বয়স ছাড়িয়ে গেল। প্রসঙ্গত, প্রধানমন্ত্রীর বয়স এখন ৬৮।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এর জন্য দায়ী বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত খনিজ তেলের দাম। গত নভেম্বরেই আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মিত্র দেশগুলোকে ইরান থেকে তেল কিনতে বারণ করেছিলেন। লিবিয়া এবং কানাডা থেকে অপরিশোধিত তেল রফতানিতে ছেদ পড়লেই বাড়ছে তেলের দাম। এর জন্য দেশের তেল আমদানি করা সংস্থাগুলোকে বাজার থেকে বেশি ডলার কিনতে হচ্ছে। ফলে পড়ছে টাকার দাম।
আর এর জন্য অর্থনীতিবিদদের কেউ কেউ দায়ী করছেন কেন্দ্রের পলিসি প্যারালিসিসকেও। তাঁদের বক্তব্য, এমনিতেই সারা বিশ্বে মন্দা যাচ্ছে বিনিয়োগের বাজারে। এর মধ্যেই বাড়ছে দেশের মুদ্রাস্ফিতি। অর্থনৈতিক বৃদ্ধির অবস্থাও তথৈবচ। কেন্দ্র সরকারের পলিসি প্যারালিসিস অবস্থার আরও অবনতি ঘটাচ্ছে।
এই পলিসি প্যারালিসিস নিয়েই একদিন মনমোহন সিং-এর বিরুদ্ধে রোজ তোপ দাগত বিজেপি।