.webp)
কলকাতা পুলিশ কমিশনার বিনীত গোয়েল।
শেষ আপডেট: 12 August 2024 15:07
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বুধবার আরজিকরের আন্দোলনকারী পড়ুয়াদের সঙ্গে বৈঠকের পর কলকাতার পুলিশ কমিশনার সকলকে সতর্ক করে বলেছিলেন, "আরজিকর নিয়ে নানারকম গুজব ছড়াচ্ছে। বলা হচ্ছে, অনেককে আড়াল করার চেষ্টা হচ্ছে। এও বলা হচ্ছে, ২,৩ জনের সিমেন্স পাওয়া গেছে। আমি সকলকে বলব, কারও কাছে কোনও তথ্য থাকলে বা অভিযোগ থাকলে সরাসরি আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।"
স্পর্শকাতর মর্মান্তিক ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে যেভাবে সমাজমাধ্যমে গুজব ছড়াচ্ছে তাতে উদ্বিগ্ন পুলিশ মহলও। অযথা গুজবে কান না দেওয়ার জন্য এবার সোশ্যাল মাধ্যমেও জনগণের উদ্দেশে বার্তা দিল কলকাতা পুলিশ। সোমবার কলকাতা পুলিশের ফেসবুক পেজ থেকে এ ব্যাপারে আন্দোলনকারী এবং জনগণের উদ্দেশে লেখা হয়েছে, "ন্যায়বিচার হবেই। দ্রুতই হবে। না হওয়া পর্যন্ত আমরা থামব না।"
কলকাতা পুলিশের কথায়, 'আর. জি কর মেডিক্যাল কলেজে যে চিকিৎসক তরুণীর মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটেছে, এই কঠিন সময়ে আমরা সর্বান্তঃকরণে তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের পাশে আছি। এই ঘটনায় মানুষের ক্ষোভ, শোক, রাগ অত্যন্ত স্বাভাবিক, বিশেষ করে চিকিৎসক সমাজের এবং মৃতার পরিজনদের। এই ক্ষোভ-শোক-ক্রোধের নতমস্তক শরিক আমরাও। এই যন্ত্রণা বর্ণনাতীত।'
প্রসঙ্গত, ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মূল অভিযুক্তকে গ্রেফতারের পর কলকাতার পুলিশ কমিশনার জানিয়েছিলেন, অপরাধীর সর্বোচ্চ সাজার ব্যবস্থা করা হবে। এদিন কলকাতা পুলিশের তরফে ফেসবুক পেজেও লেখা হয়েছে, 'আমাদের তদন্ত চলছে আন্তরিক সততা এবং স্বচ্ছতার সঙ্গে। এই নারকীয় ঘটনার ২৪ ঘন্টার মধ্যে আমরা একজনকে গ্রেফতার করেছি তথ্যপ্রমাণসহ। আরও কেউ ঘটনায় জড়িত ছিল কী না, সে বিষয়েও তদন্ত চলছে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে। মৃতার পরিবারের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ রয়েছে, এবং তদন্তের প্রতিটি পদক্ষেপ তাঁদের জানাচ্ছি আমরা।'
এরপরই গুজব সম্পর্কে পুলিশের অনুরোধ, "একটি কথা সবিনয়ে বলার। সোশ্যাল মিডিয়ায়, বিশেষত ফেসবুকে ঘটনা নিয়ে বিভিন্ন অসত্য, অনুমাননির্ভর এবং বিভ্রান্তিকর তত্ত্ব ছড়িয়ে দিচ্ছেন নেটিজেনদের একাংশ। আমাদের আন্তরিক অনুরোধ, না-যাচাই-করা এই ধরণের তত্ত্ব, তথ্য বা গুজবে কান দেবেন না। এতে তদন্তের ক্ষতি হয়, ন্যায়ের প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়, এবং সর্বোপরি শোকগ্রস্ত পরিবারটি আরও বেশি করে যন্ত্রণাদগ্ধ হয়। আবার বলি, সততা, আন্তরিকতা এবং স্বচ্ছতার সঙ্গে তদন্ত চলছে। কাল্পনিক তত্ত্ব এবং গুজব ছড়ালে সেই তদন্তেরই গতি ব্যাহত হয়।"
এদিন নিহত ছাত্রীর পরিজনদের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সঙ্গে ছিলেন কলকাতার পুলিশ কমিশনারও। বিনীত গোয়েল সেখানেও জানান,"ঘটনায় যারা জড়িত প্রত্যেকের কঠোরতর শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে।"