দ্য ওয়াল ব্যুরো : সরকারের কী পরিমাণ জমি জবরদখল হয়ে গিয়েছে? একথা জানার জন্য আরটিআই আইনে (RTI Act) ৯০ টি দরখাস্ত পেশ করেছিলেন স্বেচ্ছাসেবী বিপিন আগরওয়াল। ৪৫ বছর বয়সী বিপিনকে শুক্রবার পূর্ব চম্পারণ জেলায় দুষ্কৃতীরা গুলি করে। তিনি ঘটনাস্থলে মারা যান। পুলিশ জানিয়েছে, হরিসিদ্ধা নামে এক জায়গায় দুই দুষ্কৃতী মোটরবাইকে চড়ে এসে তাঁর ওপরে হামলা চালায়। অতীতেও দুষ্কৃতীরা তাঁর প্রাণনাশের চেষ্টা করেছিল। সেজন্য তিনি পুলিশের কাছে সুরক্ষা চেয়েছিলেন।
বিপিন ছিলেন নাগরিক অধিকার মঞ্চ নামে এক সংগঠনের সদস্য। ওই সংগঠন তথ্য জানার অধিকার আইন অনুযায়ী হরিসিদ্ধায় জমি জবরদখলকারীদের সম্পর্কে জানতে চেয়েছিল। সংগঠনের আহ্বায়ক শিবপ্রকাশ রাই বলেন, মৃত বিপিন জমি জবরদখলকারীদের মুখোশ খুলে দিতে চেয়েছিলেন। তাই তাঁকে মরতে হল।
বৃহস্পতিবার জমি জবরদখল নিয়েই ধুন্ধুমার বাধে অসমে। দরং জেলায় পুলিশ ও জনতার সংঘর্ষে মারা যান দুই নিরীহ মানুষ। আহত হন ন'জন পুলিশকর্মী। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া এক ভিডিওতে দেখা যায়, পুলিশ লাঠি ও বন্দুক নিয়ে বিক্ষোভরত জনতাকে তাড়া করছে। ওই ঘটনা নিয়ে টুইট করেছেন প্রাক্তন কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী। হিংসার জন্য তিনি রাজ্যের বিজেপি সরকারকে দায়ী করেছেন।
ভিডিওতে দেখা যায়, এক ব্যক্তি পুলিশের মারে আহত হয়ে মাটিতে পড়ে আছেন। সরকারি ক্যামেরাম্যান তাঁকে আক্রমণ করছেন। পরে তাঁকে থামানো হয়। পুলিশ এখন ওই ক্যামেরাম্যানের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে। এদিনের হিংসা নিয়ে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে রাজ্য সরকার। তদন্ত কমিটির শীর্ষে থাকবেন হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত একজন বিচারপতি।
এর আগে সোমবার অসমের ঢোলপুর থেকে ৮০০ পরিবারকে উচ্ছেদ করা হয়। রাজ্যে কৃষি প্রকল্পের জন্য ৪৫০০ বিঘা জমি পুনরুদ্ধার করতে চাইছে সরকার। এদিন পুলিশ জানায়, দরং জেলায় উচ্ছেদ করতে গেলে স্থানীয় মানুষ তাদের দিকে পাথর ছোড়ে। বাধ্য হয়ে তাদের বলপ্রয়োগ করতে হয়।
পুলিশ সুপার সুকান্ত বিশ্ব শর্মা বলেন, "ন'জন পুলিশকর্মী আহত হয়েছেন। দুই সাধারণ মানুষও আহত হয়েছিলেন। এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক।" ঘটনাস্থলে এসপি উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেন, "আমরা উচ্ছেদ অভিযান শেষ করতে পারিনি। এখনকার মতো আমরা ফিরে এসেছি।" জনতার ওপরে পুলিশের গুলি চালানো নিয়ে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, "বিরাট এলাকা জুড়ে উচ্ছেদ অভিযান চলছিল। আমি অন্যদিকে ছিলাম। পরে খতিয়ে দেখব ঠিক কী হয়েছিল।"