
গ্রাফিক্স, দ্য ওয়াল।
শেষ আপডেট: 1 March 2025 09:15
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বেলপাহাড়িতে ফের বাঘের উপস্থিতি (Royal Bengal Tiger)! এ বিষয়ে গ্রামবাসীদের সতর্ক করতে ইতিমধ্যে মাইকে করে প্রচারও শুরু করেছে বন দফতর। গ্রামবাসীদের জঙ্গল পথ এড়ানোর পরামর্শও দেওয়া হচ্ছে। এও বলা হচ্ছে, একান্তই জঙ্গলপথে যেতে হলে দলবেঁধে যান!
গত ২৩ ফেব্রুয়ারি সন্ধেয় বান্দোয়ান লাগোয়া মানবাজার-২ নং ব্লকের নেকড়ে গ্রামের জঙ্গলপথে বাঘের মুখোমুখি পড়ে গিয়েছিলেন দিলীপ কুম্ভকার। বাইক চালিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। ১৫ ফুট দূরে বাঘকে দেখে থেমে যান তিনি। বাঘটি অবশ্য কোনও দিকে না তাকিয়ে জঙ্গলে ঢুকে যায়।
পরে দিলীপের কথার সূত্র ধরে মানবাজার-২ নং ব্লকের নেকড়ে, বড়কদম-সহ কয়েকটি এলাকায় বাঘের পায়ের ছাপও দেখতে পান বনকর্মীরা। পরের দিন বাঘটির উপস্থিতি জানা গিয়েছিল রাইকা পাহাড়ে। বর্ষশেষে বেলপাহাড়ি ঘুরে ওই পাহাড়েই ঘাঁটি গেড়েছিল বাঘিনি জিনাত। পুরুলিয়ার ওই বাঘটি বেলপাহাড়িতে পৌঁছেছে নাকি এটি অন্য, তা অবশ্য স্পষ্ট নয়।
জানা যাচ্ছে, শুক্রবার রাতে পুরুলিয়া সংলগ্ন বেলপাহাড়ির কয়েকটি এলাকায় নতুন করে বাঘের পায়ের ছাপ দেখতে পাওয়া যায়। শুধু জঙ্গল নয়, বাঘের পায়ের ছাপ পাওয়া গিয়েছে জঙ্গল লাগোয়া চাষের জমিতেও। তারপর থেকেই নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়েছে বাসিন্দাদের মধ্যে।
বিষয়টি শোনার পর থেকেই বাড়তি নজরদারির ব্যবস্থা করেছে বন দফতর। তবে বাঘের 'অবস্থান' নিয়ে অদ্ভূত নীরবতা পালন করছেন বনকর্তারা। অফিসিয়ালি মন্তব্য করতে চাইছেন না তাঁরা। এক আধিকারিকের কথায়, "ওপর থেকে অর্ডার আছে। বাঘের অবস্থান নিয়ে মিডিয়াকে কিছু বলা বারণ আছে!"
কেন? ওই বনকর্তার ব্যাখ্যা, "বর্ষশেষে বাঘিনি জিনাতকে নিয়ে আপনারা (মিডিয়া) যেভাবে লাফালাফি শুরু করেছিলেন, তাতে অতো ক্যামেরা দেখে বাঘিনিও ঘাবড়ে গিয়েছিল। অতিরিক্ত প্রচারের জেরে গ্রামের মানুষের মধ্যে আতঙ্কও বেড়েছিল। তাই বন্যপ্রাণের সুরক্ষার কথা ভেবেই অবস্থান জানানো যাবে না।"
তবে বন দফতরের একটি সূত্রের দাবি, গতমাসে পুরুলিয়ায় দেখা দেওয়া বা শুক্রবার রাত থেকে বেলপাহাড়িতে যে বাঘটির উপস্থিতির টের পাওয়া গিয়েছে তার গলায় রেডিও কলার নেই। সে কারণেই বাঘের অবস্থান জানতে বেগ পেতে হচ্ছে বন দফতরকেও। বাঘিনি জিনাতের ক্ষেত্রে অবশ্য রেডিও কলার ছিল। ফলে বেলপাহাড়ি থেকে পুরুলিয়া বাঘিনির দৌড় ট্র্যাক করতে পারছিলেন বনকর্তারা।