দ্য ওয়াল ব্যুরো : গত মঙ্গলবার উত্তরপ্রদেশের বিধান পরিষদে হিন্দুত্ববাদী নেতা বীর সাভারকরের ছবি ঝোলানো হয়। ছবির আবরণ উন্মোচন করেন মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। তার পরেই শুরু হয়েছে বিতর্ক। বিধান পরিষদের পিকচার গ্যালারি থেকে ছবিটি সরানোর জন্য বিধান পরিষদের সভাপতিকে চিঠি দিয়েছেন কংগ্রেস নেতা দীপক সিং।
বিধান পরিষদের সদস্য দীপক মঙ্গলবারই সভাপতি রমেশ যাদবকে চিঠি দিয়ে বলেন, "মহান স্বাধীনতা সংগ্রামীদের সঙ্গে সাভারকরের ছবি ঝোলানো হয়েছে। ওই স্বাধীনতা সংগ্রামীরা ব্রিটিশের অত্যাচারের সামনে মাথা নত করেননি। লড়াই চালিয়ে গিয়েছেন।"
দীপকের মতে, সাভারকরের ছবি থাকা উচিত বিজেপির সংসদীয় অফিসে। পরে তিনি বলেন, সভাপতি বিধান পরিষদের প্রধান সচিবকে বিষয়টি দেখতে বলেছেন। সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ সিং যাদবকে এসম্পর্কে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, স্বাধীনতা সংগ্রামে কারা কী অবদান রেখেছিলেন, তা নিয়ে যুবকদের মধ্যে বিতর্ক হওয়া উচিত। যাঁরা স্বাধীনতা সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছিলেন তাঁদের যথাযথ সম্মান দেওয়া উচিত।
পরে অখিলেশ বলেন, এমন অনেকে আছেন, যাঁদের সম্পর্কে নানা অভিযোগ আছে। বিভিন্ন নথিপত্র দেখলে তাঁদের সম্পর্কে প্রশ্ন উঠতে বাধ্য।
বিজেপি মনে করে, বীর সাভারকর ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে গিয়েছেন। কিন্তু কংগ্রেসের দাবি, গান্ধীহত্যার সঙ্গে সাভারকরের যোগ ছিল। জানুয়ারির শুরুতে কংগ্রেসে এক পুস্তিকায় দাবি করা হয়, গান্ধীঘাতক নাথুরাম গডসে এবং সাভারকর নাকি সমকামী ছিলেন। শুধু তাই নয়, তাঁদের মধ্যে শারীরিক সম্পর্কেও ছিল!
ভোপালে একটি প্রশিক্ষণ শিবিরে সেবাদলের তরফে বিতরণ করা হয় এই পুস্তিকা। তাতেই লেখা রয়েছে, মহাত্মা গান্ধীর হত্যাকারী নাথুরাম গডসে ও হিন্দু মহাসভার প্রাক্তন নেতা ভিডি সাভারকরের ঘনিষ্ঠতার কথা। ওই পুস্তিকায় লেখা রয়েছে, এই সম্পর্কের বিষয়ে তথ্য নেওয়া হয়েছে ডমিনিক ল্যাপিয়ের ও ল্যারি কলিন্সের লেখা বই ‘ফ্রিডম অ্যাট মিডনাইট' থেকে। সেবাদলের প্রধান লালজি দেশাই জানিয়েছেন, এ সবই ঐতিহাসিক তথ্য। লেখক প্রমাণের ভিত্তিতে লিখেছেন। এবং সেই সঙ্গে এ-ও বলেছেন, ‘‘সমকামী বিষয়টা গুরুত্বপূর্ণ নয়। আজ আমাদের দেশে প্রত্যেক আইনি অধিকার রয়েছে নিজেদের পছন্দ বেছে নেওয়ার। কিন্তু বিজেপি যাঁদের ‘হিরো' হিসেবে বর্ণনা করে, তাঁদের স্বরূপ মানুষের জানা দরকার।''
এই তথ্যের পাশাপাশি স্বাধীনতার সময়ে দেশভাগের জন্যও সাভারকারকে দায়ী করা হয়েছে ওই পুস্তিকায়। ওই প্রশিক্ষণ শিবিরেই আরও একটি পুস্তিকা দেওয়া হয়, যেখানে ‘ফ্রিডম অ্যাট মিডনাইট' বই থেকে উদ্ধৃত করে জানানো হয়েছে, নাথুরাম গডসে ব্রাহ্মচর্য গ্রহণ করার আগে একবারই শারীরিক সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন আর সেটি ছিল নিজের রাজনৈতিক গুরু বীর সাভারকারের সঙ্গে।