Date : 15th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
IPL 2026: টানা চতুর্থ হারে কোণঠাসা কেকেআর, ৩২ রানে ম্যাচ জিতল সিএসকে‘ভূত বাংলো’য় সেন্সর বোর্ডের কাঁচি! বাদ গেল ৬৩টি দৃশ্য, ছবির দৈর্ঘ্য কমতেই চিন্তায় অক্ষয়ভোটের ডিউটিতে কড়া নিয়ম! প্রিসাইডিং ও সেক্টর অফিসারদের জন্য একগুচ্ছ নির্দেশিকা কমিশনের'বন্ধু' মোদীকে ফোন ট্রাম্পের! ৪০ মিনিট ধরে হরমুজ প্রণালী নিয়ে কী আলোচনা হল?লোকাল ট্রেনের টিকিটে বিরাট ছাড়! ৫ টাকার টিকিট এখন কত পড়বে? জেনে নিন বিস্তারিতTB Vaccine: যক্ষ্মা প্রতিরোধে কতটা সফল নতুন টিকা? ট্রায়ালের রিপোর্টে আশার আলোর পাশাপাশি উদ্বেগের সুর বিজ্ঞানীদের'বাঙালি ব্রিটিশদের সামনে মাথা নত করেনি, আর এই বহিরাগতরা আমাদের কী করবে?' বিজেপিকে তোপ অভিষেকেরসাইলেন্ট লাং ডিজিজ: কাশি মানেই কি ক্যানসার? দূষণে ফুঁসছে ফুসফুস, কখন দরকার ট্রান্সপ্লান্ট?'ইগো সরিয়ে রাখুন', নিজেদের মধ্যে মতভেদ সরিয়ে এক হয়ে লড়ার নির্দেশ অভিষেকেরভাইরাল ভিডিও হাতিয়ার করে শাহের তোপ! হুমায়ুনকে ‘দিদির এজেন্ট’ বলে কটাক্ষ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

গির্জার ঘণ্টায় মিশে যায় অ্যাম্বুল্যান্সের সাইরেন, অন্য কিছু কানে আসে না রোমের কোনও প্রান্তে

দ্য ওয়াল ব্যুরো: চিন থেকে শুরু হলেও, ইতালিতে করোনা সংক্রমণ এক ভয়ঙ্কর মহামারীর চেহারা নিয়েছে। বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশ এই ইতালিই। মৃত্যুমিছিল থামানো যাচ্ছে না কিছুতেই। পাল্লা দিয়ে বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। মৃতের সংখ্যা ইতিমধ্য়েই ছাড়

গির্জার ঘণ্টায় মিশে যায় অ্যাম্বুল্যান্সের সাইরেন, অন্য কিছু কানে আসে না রোমের কোনও প্রান্তে

শেষ আপডেট: 29 March 2020 18:52

দ্য ওয়াল ব্যুরো: চিন থেকে শুরু হলেও, ইতালিতে করোনা সংক্রমণ এক ভয়ঙ্কর মহামারীর চেহারা নিয়েছে। বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশ এই ইতালিই। মৃত্যুমিছিল থামানো যাচ্ছে না কিছুতেই। পাল্লা দিয়ে বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। মৃতের সংখ্যা ইতিমধ্য়েই ছাড়িয়েছে ১০ হাজার। আক্রান্ত ছুঁতে চলেছে এক লক্ষ। এই অবস্থায় গোটা দেশজুড়েই যেন নেমে এসেছে শ্মশানের স্তব্ধতা।

লক ডাউন অবস্থায় থাকা দেশে এখনও সাধারণ মানুষের প্রতিদিনের কাজকর্মের ওপর নতুন নতুন করে নানা বিধিনিষেধ আরোপ করা হচ্ছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী বাড়ির পাশের কোনও মাঠে খেলাধুলা এবং বাড়ির বাইরে শরীরচর্চাও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আগে এ দু'টি বিষয়ে ছাড় ছিল। ফলে এখন কার্যত অ্যাম্বুল্যান্সের শব্দ ছাড়া আর কিছু শোনা যায় না ইতালির পথঘাটে। মাঝে মাঝে অবশ্য বেজে ওঠে গির্জার ঘণ্টা। 

রোমের সবচেয়ে বড় পার্কটি খাঁ খাঁ করছে। কয়েকদিন আগেও গুটি কয়েক শিশু আসত সেখানে। প্রাইমারি স্কুলের একজন শিক্ষক রবার্ট ফগ বলছিলেন, "আপনি এখন শুধু চার্চের ঘণ্টা শুনতে পাবেন। সেটা শুনতে ভালই লাগে। কিন্তু অন্য যেটা শোনা যাবে, সেটা হল অ্যাম্বুল্যান্সের সাইরেন। এ ছাড়া আর কোনও শব্দ নেই।"

এই অবস্থায় রোমের প্রতিটি অভিভাবক তাঁদের শিশুদের নিয়ে চিন্তিত। তারা সংক্রামিত না হলেও, এই সংক্রমণের মানসিক প্রভাবে বিধ্বস্ত। এক কিশোরের মা টিফানি পার্কস বললেন, "আমার ছেলে রাতে দুঃস্বপ্ন দেখছে। আমি জানি না করোনা আর ওর স্বপ্নের মধ্যে কোনও সম্পর্ক আছে কিনা, কিন্তু ও প্রায় রাতেই স্বপ্নে মাকড়সা দেখছে। ইতালিতে এর আগে কেউ কখনও এরকম সময় দেখেনি। অনেকের বাড়িতেই খোলা জায়গা খুব কম, কিন্তু সবাই তার মধ্যেই নিজেদের মানিয়ে নিতে শিখছে।"

মিলানের সান রাফায়েল ইউনিভার্সিটির মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, প্রথম যখন ইতালিতে করোনার কোপ পড়ে, মানুষ বিশ্বাসই করতে চাননি এমন ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি তৈরি হবে। ২৭ ফেব্রুয়ারি থেকে একটু একটু করে সংক্রমণ ছড়াতে শুরু করে। প্রথম মৃত্যু হয় ১৭ জনের। আক্রান্ত ২০০। এর পরেও সামাজিক মেলামেশা থামাননি মানুষজন। মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, এই বেপরোয়া মনোভাবের কারণেই সংক্রমণ মহামারীর চেহারা নেয়। এখন দেশের উত্তর প্রান্ত পুরোপুরি লকডাউন। কোয়ারেন্টাইনে প্রতিটা বাড়ি। উত্তর ইতালিতে করোনা প্রথম থাবা বসালেও ধীরে ধীরে তা ছড়িয়ে পড়ে গোটা দেশেই। গত ১২ মার্চ লকডাউন ঘোষণা করে সে দেশের সরকার। প্রথমে সেই লকডাউন ২৫ মার্চ পর্যন্ত থাকবে বলে ঘোষণা করা হলেও পরে তার মেয়াদ অনির্দিষ্ট কালের জন্য বাড়িয়ে দেওয়া হয়। তা সত্ত্বেও ইতালিতে করোনার আক্রমণ বেড়েই চলেছে।  ইতিমধ্যে করোনায় মৃত্যু হয়েছে ১৩ জন চিকিৎসকের। মারা গেছেন অনেক স্বাস্থ্যকর্মীও। “এক ঘন আঁধার নেমেছে আমাদের স্কোয়ারে, শহরে, রাস্তায়। প্রাণ ছিনিয়ে নিচ্ছে আমাদের। এক ভয়ানক নৈঃশব্দে ছেয়ে গেছে চারপাশ, সবকিছু তছনছ করে দিচ্ছে,” বলেছেন পোপ ফ্রান্সিস। এই ভয়নক বিপর্যয়ের মোকাবিলা করতে একসঙ্গে লড়াইয়ের বার্তাও দিয়েছেন তিনি। “জেগে ওঠো, সংহতিই আমাদের শক্তি, ভরসা, বিশ্বাস দেবে,” আঁধার পেরিয়ে মুক্তির পথের বার্তা দিয়েছেন পোপ ফ্রান্সিস।

```