
শেষ আপডেট: 24 April 2019 18:30
ইনদওরের মেয়ে অপূর্বার বাবা পিকে শুক্ল জবলপুর হাইকোর্টের ইনদওর বেঞ্চের অভিজ্ঞ আইনজীবী। অপূর্বাও পেশায় আইনজীবী ছিলেন। ২০১৫ সালে ইনদওরেই প্র্যাকটিস শুরু করেন। ২০১৬-তে চলে আসেন সুপ্রিম কোর্টে। কংগ্রেসের শ্রমিক সংগঠনের যুব শাখার সভাপতিও হয়েছিলেন অপূর্বা। গত বছর ১১ মে সাতপাকে বাঁধা পড়েন রোহিত-অপূর্বা। রোহিতের বাবা এন ডি তিওয়ারি তখন মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের জন্য হাসপাতালে শয্যাশায়ী।
উজ্জলা শর্মার কথায়, বিয়ের কিছুদিনের মধ্যেই অশান্তি শুরু হয় রোহিত-অপূর্বার মধ্যে। একই বাড়িতে আলাদা থাকতে শুরু করেন তাঁরা। এমনকি মাঝে বেশ কয়েকবার বিবাহবিচ্ছেদের প্রসঙ্গও উঠেছিল। রোহিতের ভাই সিদ্ধার্ধর সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছেন এমন কানাঘুষোও শোনা যাচ্ছিল। উজ্জ্বলা জানিয়েছেন, প্রায়ই মদ্যপ অবস্থায় বাড়ি ফিরতেন রোহিত। মানসিক ভাবেও ভেঙে পড়েছিলেন তিনি।
গত ১৬ এপ্রিল নিজের ঘরে তাঁকে মৃত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। হৃদরোগই তাঁর মৃত্যুর কারণ বলে পরিবারের তরফে জানানো হলেও পরে তদন্তে জানা যায় মুখে বালিশ চাপা দিয়ে রোহিতকে খুন করেন তাঁর স্ত্রী অপূর্বাই। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতার হওয়ার পর অপূর্বা স্বীকার করেছেন, তিনিই খুন করেছেন রোহিতকে। কারণ, তাঁর 'দাম্পত্য দুর্বিষহ করে তুলেছিলেন রোহিত'। এও জানিয়েছেন, খুনের দেড় ঘণ্টার মধ্যেই যাবতীয় তথ্যপ্রমাণ তিনি মুছে ফেলেছিলেন।
পুলিশকে অপূর্বা জানিয়েছেন, প্রায়ই মদ খেয়ে বাড়ি ফিরতেন রোহিত। তাঁদের মধ্যে আর কোনও সম্পর্কই টিকে ছিল না। ঘটনার দিন রাত সাড়ে ১১ টায় বাড়ি ফিরে রাতের খাওয়া সারেন রোহিত। ডিফেন্স কলোনির বাড়ির সিসিটিভি ক্যামেরা ধরা পড়েছে মদ খেয়ে টলতে টলতে সিঁড়ি দিয়ে উপরে উঠছেন তিনি। অপূর্বা জানিয়েছেন, ডিনারের পরেও একপ্রস্থ মদ্যপান করেছিলেন রোহিত। তার পর খেয়েছিলেন ঘুমের ওষুধ, যা নাকি রোজই তিনি খেতেন।
অপূর্বা পুলিশকে বলেছেন, "রোহিত আমার সব স্বপ্নকে তছনছ করে দিয়েছিল। রোজই আমাদের ঝগড়া হতো। সে দিনও মদ খেয়ে বাড়ি ফিরে ও আমার সঙ্গে ঝগড়া করছিল। তখনই আমি ওর উপর ঝাঁপিয়ে পড়ি। মুখে বালিশ চেপে ধরি। নেশার ঘোরে থাকায় আমাকে রুখতে পারেনি রোহিত। এর পর সব প্রমাণ আমি মিটিয়ে দিই।"