দ্য ওয়াল ব্যুরো : বুধবার শোনা গিয়েছিল, উত্তরপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা কংগ্রেসের প্রথম সারির নেতা এন ডি তেওয়ারির ছেলে রোহিত শেখর তেওয়ারি হৃদরোগে মারা গিয়েছেন। কিন্তু শুক্রবার জানা গেল, পুলিশ খুনের মামলা দায়ের করেছে। ৪০ বছরের রোহিতের দেহের ময়না তদন্ত করা হয়েছে। পুলিশের সন্দেহ, নাকের ওপরে বালিশ চাপা দিয়ে শ্বাসরুদ্ধ করে মারা হয়েছে তাঁকে।
রোহিতের মৃত্যু নিয়ে তদন্ত করছে দিল্লি পুলিশের ক্রাইম ব্র্যাঞ্চ। এদিন পুলিশ তাঁর বাড়িতে গিয়ে পরিবারের বিভিন্ন সদস্য ও পরিচারকদের জিজ্ঞাসাবাদ করে। ফরেনসিক দফতরের একটি টিমও তাঁর বাড়িতে যায়। রোহিতের স্ত্রী অপূর্বা তখন অবশ্য বাড়িতে ছিলেন না।
দক্ষিণ দিল্লির অভিজাত ডিফেন্স কলোনিতে থাকতেন রোহিত। পুলিশ সূত্রে খবর, তাঁর বাড়িতে সাতটি সিসিটিভি ক্যামেরা আছে। তার মধ্যে দু’টি অকেজো। পুলিশ জানিয়েছে, রোহিত গত ১২ এপ্রিল উত্তরাখণ্ডে যান। ফিরে আসেন ১৫ এপ্রিল। একটি সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা গিয়েছে, সেদিন তিনি দেওয়াল ধরে ধরে কোনওরকমে বাড়িতে ঢুকছেন। সম্ভবত তখন মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন।
পরদিন রোহিতের মা উজ্জ্বলা তেওয়ারি ডাক্তার দেখাতে গিয়েছিলেন ম্যাক্স হাসপাতালে। সেখানে তিনি ফোন পান, রোহিতের শরীর খারাপ। সঙ্গে সঙ্গে অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে রোহিতকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন। রোহিতের বাড়ি থেকে যখন উজ্জ্বলাকে ফোন করা হয়েছিল, তখন সেখানে উপস্থিত ছিলেন অপূর্বা, রোহিতের ভাইপো সিদ্ধার্থ ও বাড়ির কয়েকজন পরিচারক। উজ্জ্বলাকে প্রথমে বলা হয়, রোহিতের নাক থেকে রক্তপাত হচ্ছে।
পুলিশ জানিয়েছে, রোহিতকে ম্যাক্স হাসপাতালে নিয়ে আসার পরেই মৃত বলে ঘোষণা করা হয়। তাঁর শরীরে কোনও আঘাতের দাগ ছিল না।
দীর্ঘ ছ’বছর ধরে আইনি লড়াই চালিয়ে রোহিত প্রমাণ করেছিলেন, তিনি এন ডি তেওয়ারির ছেলে। রোহিতের দাবি সত্য কিনা পরীক্ষা করার জন্য এন ডি তেওয়ারির রক্তের নমুনা চাওয়া হয়েছিল। প্রথমে তিনি নমুনা দিতে অস্বীকার করেন। পরে অবশ্য দিয়েছিলেন। ২০১৪ সালে প্রমাণিত হয়, তিনি রোহিতের বাবা। ওই বছরেই রোহিতের মাকে বিবাহ করেন ৮৮ বছরের এন ডি তেওয়ারি।
২০১৮ সালে ৯৩ বছর বয়সে এন ডি তেওয়ারি মারা যান। রোহিত তার পরে কেন্দ্র, উত্তরপ্রদেশ ও উত্তরাখণ্ড সরকারের কাছে দাবি করেন, তাঁর বাবার স্মারক সৌধ স্থাপন করতে হবে। তাঁর নামে নানা জনকল্যাণমূলক প্রকল্প চালু করতে হবে।