
শেষ আপডেট: 2 January 2024 13:23
দ্য ওয়াল ব্যুরো, পশ্চিম মেদিনীপুর: আগে একটা কাঠের সেতু ছিল। বছর তিনেক আগে বন্যায় ভেসে যায় সেই সেতু। এরপর কেঠিয়া নদী পারাপারের একমাত্র ভরসা ছিল নৌকো। কিন্তু শীত-গ্রীষ্মে যে জল কমে যায়! তখন নৌকা চালানো দায়! নদী পারাপারের জন্য এরপর গ্রাম পঞ্চায়েতে দরবার করা শুরু করেন গ্রামের মানুষ। কিন্তু সেতু তৈরির কথা আর ভাবেইনি গ্রাম পঞ্চায়েত। বরং নদীর বুক চিড়ে তৈরি করে দেওয়া হল মাটির রাস্তা। এতেই চোখ কপালে উঠল গ্রামের মানুষের।
মেদিনীপুর জেলার চন্দ্রকোণা-২ ব্লকের ভগবন্তপুর-১ গ্রামপঞ্চায়েতের চাষিবাড় এলাকা। সেখানেই নিত্য প্রয়োজনে কেঠিয়া নদী পারাপার করতে হয় ভগবন্তপুর-১ ও ভগবন্তপুর-২ গ্রামপঞ্চায়েতের ১৫-২০টি গ্রামের বাসিন্দাদের। এলাকাবাসীর অভিযোগ, সেতু নষ্টের পর নদী পারাপার করতে নৌকাই ছিল ভরসা। কিন্তু নদীতে জল শুকিয়ে গেলে আর নৌকা চলে না। প্রশাসনকে বিষয়টি বারবার জানিয়েছেন তাঁরা। এরপরেই দেখা যায় নদীর উপর সেতু তৈরি না করে মাটির রাস্তা তৈরি করে দেওয়া হয়েছে। এখন তার উপর দিয়েই চলছে যাতায়াত ।
চাষিবাড়, কৃষ্ণপুর, পারুলিয়া, ধরমপোতা, চৈতন্যপুর-সহ একাধিক গ্রামের মানুষ এই নদী পেরিয়ে স্কুল, হাসপাতাল কিংবা গ্রামপঞ্চায়েত অফিসে যান। চন্দ্রকোণা গ্রামীণ হাসপাতালে যেতেও এই পথই ভরসা তাঁদের। নদী পারাপার বন্ধ হয়ে গেলে গ্রামের মানুষগুলোকে ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটার পথ ঘুরে যেতে হবে। তাই সেতুর দাবিতে অটল ছিলেন তাঁরা।
নদীর উপর এভাবে রাস্তা তৈরি করায় নদীর গতিপথ পরিবর্তন হওয়ার আশঙ্কা থাকলেও গ্রাম পঞ্চায়েতের দাবি সাধারণ মানুষের কথা ভেবে বাধ্য হয়ে এই রাস্তা তৈরি করা হয়েছে। ভগবন্তপুর-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান আশরাফুল মল্লিক জানান, কৃষিপ্রধান এলাকায় এই রাস্তার গুরুত্ব অনেকটাই। তাই সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে এই রাস্তা তৈরি করা হয়েছে। নদীর গতিপথ পরিবর্তনের আশঙ্কার কথা উড়িয়ে তিনি বলেন, “অস্থায়ীভাবে নিচু করে এই রাস্তা করা হয়েছে। জল পারাপারের জন্য সাঁকো দেওয়া হয়েছে। জল বাড়লে এই রাস্তা সরিয়ে ফেলা হবে।” তবে কংক্রিট সেতু তৈরির জন্য এলাকার মানুষের যে চাপ রয়েছে তা তিনি মেনে নিয়েছেন। এ বিষয়ে ব্লক থেকে জেলা এমনকি রাজ্যস্তরেও কথা বলা হচ্ছে বলে জানান তিনি।