দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলার আবার এপার-ওপার কী! এই প্রশ্ন তুলেছিলেন তিনি। তাঁর তৈরি করা একের পর এক সিনেমায় বারবার ফুটে উঠেছে দেশভাগের হাহাকার, কাঁটাতারের যন্ত্রণা। তিনি আজীবন আপসহীন প্রতিবাদ জারি রেখেছেন সিনেমার মাধ্যমে। সেই মানুষটিকেই ন্যূনতম সম্মান দিতে পারল না পড়শি দেশ। রাজশাহীতে ভেঙে ফেলা হচ্ছে কিংবদন্তি চিত্রপরিচালক ঋত্বিক ঘটকের পৈতৃক ভিটের একটি অংশ।
স্থানীয় সূত্রের খবর, ওই জায়গায় নাকি সাইকেল গ্যারেজ তৈরি হবে! রাজশাহী হোমিওপ্যাথিক মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের উদ্যোগে ওই গ্যারেজ তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সে জন্যই ভেঙে ফেলা হবে ঋত্বিক ঘটকের আদি বাড়ি। এই সিদ্ধান্তের কথা সামনে আসতেই রাজশাহীর চলচ্চিত্র সংগঠনের কর্মীরা প্রতিবাদ জানিয়েছেন । সোমবার জেলা প্রশাসনের কাছে স্মারকলিপিও জমা দিয়েছেন তাঁরা। চলচ্চিত্র সংগঠন ছাড়াও ওই স্মারকলিপিতে সই করেছেন আরও ১৩টি সাংস্কৃতিক সংগঠনের কর্মীরা।
ওই স্মারকলিপিতে লেখা হয়েছে, “চলচ্চিত্রকার ঋত্বিক কুমার ঘটক রাজশাহী মহানগরীর মিঞাপাড়ার বাড়িতে বড় হয়েছেন। এখানে কেটেছে তাঁর শৈশব, কৈশোর ও তারুণ্যের একটি অংশ। এই বাড়িতে কিছু সময় বসবাস করেছেন উপমহাদেশের প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক মহাশ্বেতা দেবীও। এই বাড়িতে থাকার সময়েই ঋত্বিক ঘটক রাজশাহী কলেজিয়েট স্কুল ও রাজশাহী কলেজে পড়েছেন। তিনি রাজশাহী কলেজ এবং মিঞাপাড়ার সাধারণ গ্রন্থাগার মাঠে প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে সঙ্গে নিয়ে নাট্যচর্চা করেছেন।”
আরও জানা যায়, এরশাদ সরকারের আমলে ১৯৮৯ সালে নামমাত্র মূল্যে তাঁর পৈতৃক বাড়িটি রাজশাহী হোমিওপ্যাথিক মেডিক্যাল কলেজকে ব্যবহার করতে দেওয়া হয়। তারাই এখন সম্পূর্ণ বাড়িটি ব্যবহার করছে। বাড়িটির একটি অংশে ইতিমধ্যেই বহুতল ভবন নির্মাণ করছেন কলেজ কর্তৃপক্ষ। যে সব ঘরে ঋত্বিক ঘটকের পরিবারের সদস্যরা থাকতেন, সে সব ঘরও ব্যবহার করছেন কর্তৃপক্ষ। এবার তারই একটি অংশ ভেঙে সাইকেল গ্যারেজ নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অভিযোগ, এবার মাত্রা ছাড়িয়ে যাচ্ছেন কর্তৃপক্ষ।
স্মারকলিপিতে আরও দাবি করা হয়েছে, ভিটে ভাঙার কাজ বন্ধ করে সেটিকে সংরক্ষণ করে হেরিটেজ হিসেবে ঘোষণা করা হোক। একইসঙ্গে গড়ে তোলা হোক ঋত্বিক ঘটক স্মৃতি মিউজিয়াম।
তবে এই সমস্ত দাবি মানতে মোটেই রাজি নয় রাজশাহী হোমিওপ্যাথিক মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল। সেখানকার ভারপ্রাপ্ত প্রিন্সিপাল ডক্টর আনিসুর রহমান বলেন, “কলেজের নামে ওই বাড়ি লিখে দেওয়া আছে। এখন কলেজই ঠিক করবে কী ভাবে তা ব্যবহার করা হবে। এখন তো একটা অংশ ভাঙা হচ্ছে, পরে সবটাই ভাঙা হতে পারে।” তাঁর দাবি, যে অংশটি ভাঙা হয়েছে সে অংশের অবস্থা জরাজীর্ণ ছিল।
রাজশাহীর জেলা প্রশাসক মহম্মদ শরিফুল হক জানান, স্মারকলিপি পেয়েছেন তাঁরা। কলেজ কর্তৃপক্ষকে কাজ বন্ধ করতেও বলেছেন। আরও আলোচনা করবেন এ বিষয়ে।