দ্য ওয়াল ব্যুরো : সাত সপ্তাহ ধরে ভারতে বাড়ছে অর্থনৈতিক কার্যকলাপ। মানুষের চলাফেরার ওপরে নিষেধাজ্ঞা ধীরে ধীরে তুলে নিচ্ছে বিভিন্ন রাজ্য। এই পরিস্থিতিতে কোভিডের তৃতীয় ওয়েভের সম্ভাবনা হয়ে উঠেছে আরও বাস্তব। এমনই মন্তব্য করেছেন ইউবিএস সিকিউরিটিজ ইন্ডিয়ার চিফ ইকনমিস্ট তনভি গুপ্ত জৈন। তিনি জানিয়েছেন, ভারতে এখন টিকাকরণের হার কমেছে। একসময় দিনে ৪০ লক্ষ টিকা দেওয়া হচ্ছিল। এখন তা কমে দাঁড়িয়েছে ৩৪ লক্ষ। গ্রামেও বেড়েছে কোভিডের সংক্রমণ। দেশের মোট কোভিড আক্রান্তের ৪৫ শতাংশই এখন গ্রামাঞ্চলের বাসিন্দা।
বুধবার তনভি জানান, ভারতে দৈনিক কোভিড আক্রান্তের সংখ্যা স্থিতিশীল হয়েছে। কিন্তু অ্যাকটিভ রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। যে জেলাগুলিতে কোভিড আক্রান্তের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি, সেখানে দ্বিতীয় ঢেউয়ের তীব্রতা তো কমেইনি, তার ওপরে ইতিমধ্যে তৃতীয় ঢেউ এসে গিয়েছে।
অর্থনীতিবিদ তনভি জানান, বিভিন্ন আর্থিক সূচকের মধ্যে ভাল ও মন্দ, দু’রকম প্রবণতাই দেখা গিয়েছে। ট্রেনযাত্রী ও দেশের অভ্যন্তরে বিমানের যাত্রী বেড়েছে ঠিকই, কিন্তু গত কয়েক সপ্তাহে টোল সংগ্রহ বাড়েনি। গরমে বিদ্যুতের চাহিদা বেড়েছে ১১ শতাংশ। কিন্তু ট্রেনে পণ্য পরিবহণ কমেছে ১.৯ শতাংশ।
বৃহস্পতিবার জানা যায়, ভারতে করোনা সংক্রমণ সামান্য বেড়েছে। এদিন স্বাস্থ্যমন্ত্রকের বুলেটিনে বলা হয়, দৈনিক আক্রান্ত ফের ৪০ হাজার ছাড়িয়ে গিয়েছে। তবে করোনায় মৃত্যু কিছুটা কমেছে। সংক্রমণের হার মহারাষ্ট্র ও কেরলে সাঙ্ঘাতিক। বিশেষ করে কেরলে গত কয়েকদিনে দৈনিক সংক্রমণ মারাত্মকভাবে বেড়েছে। উত্তরপ্রদেশে কিছু জেলাতেও সংক্রমণের হার বেশি। সেইসব জেলাতে ভাইরাস সক্রিয় রোগীর সংখ্যাও বেড়েছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে কোভিড পজিটিভ রোগীর সংখ্যা ৪১ হাজার ছাড়িয়েছে। তবে রোগ সারিয়ে সুস্থও হয়েছেন ৩৯ হাজারের কাছাকাছি। আরও একটা ইতিবাচক দিক হল কোভিডের মৃত্যু কিছুটা কমেছে। কিছুদিন আগেও সংক্রমণে দৈনিক মৃত্যু হাজারের কাছাকাছি চলে গিয়েছিল। এখন তা কমেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ভাইরাস সংক্রমণের মৃত্যু হয়েছে ৫৮১ জনের। মৃত্যুহারও দুই শতাংশের নীচেই আছে।
ব্ররহস্পতিবার হু-র প্রধান তেদ্রোস আদহানম ঘেব্রেইসাস সারা বিশ্বকে সতর্ক করে বলেছেন, আমরা এখন তৃতীয় ওয়েভের প্রাথমিক স্তরে রয়েছি। হু প্রধানের মতে, নানা দেশে সামাজিক যোগাযোগ বেড়েছে। সর্বত্র কোভিড বিধি মেনে চলা হচ্ছে না। তাছাড়া অতি সংক্রামক ডেল্টা ভ্যারিয়ান্টের জন্যও সংক্রমণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
ইউএন নিউজ অনুযায়ী, গত কয়েক মাস ধরে ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকায় টিকাকরণ বৃদ্ধি পেয়েছে। একসময় ওই সব অঞ্চলে সংক্রমণ ও মৃত্যু, দুই-ই কমেছিল। কিন্তু সম্প্রতি সংক্রমণ ফের বাড়ছে। করোনাভাইরাসের অভিযোজন অব্যাহত রয়েছে। নতুন ভ্যারিয়ান্ট আরও ছোঁয়াচে হয়ে উঠছে।
তেদ্রোস জানিয়েছেন, “এখনও পর্যন্ত ১১১ টি দেশে ডেল্টা ভ্যারিয়ান্টের অস্তিত্ব লক্ষ করা গিয়েছে। মনে হয়, শীঘ্রই বিশ্ব জুড়ে এই ভ্যারিয়ান্টই প্রধান হয়ে দাঁড়াবে।” ১০ সপ্তাহ ধরে বিশ্ব জুড়ে কোভিডে মৃত্যু কমছিল। গত সপ্তাহে ফের বেড়েছে মৃত্যু।